September 21, 2018

হঠাৎই এলোমেলো বাংলাদেশ

bddgদিনের শেষটা হঠাৎই এলোমেলো। প্রথম ইনিংসের ৫৬ রানের লিড দিন শেষে ১২২ রানের। কিন্তু ততক্ষণে যে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেছেন তিন ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ! বাম ঊরুর চোটে পড়ে ইমরুল কায়েস তো চলে গেলেন হাসপাতালেই। এক্স-রে করানোর পর বোঝা যাবে তাঁর চোটের আসল অবস্থা।

অথচ দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ওয়েলিংটনের আকাশের মতোই ঝলমলে ছিল আজ। কামরুল ইসলামের নতুন শুরু টেস্টে বাংলাদেশেরও নতুন দিনের সূচনা এনে দিয়েছিল।

নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ১৪০তম ওভার। কামরুলের শর্ট বল আঘাত করল নিল ওয়াগনারের হেলমেটের গ্রিলে। উইকেটে রক্ত। ওয়াগনারের ঠোঁটে তবু স্মিত হাসি। পরের বলে কামরুল সেটাও মিলিয়ে দিলেন। আরেকটি বাউন্সার। আবারও হেলমেটে বলের আঘাত। একের পর এক বাউন্সারে ওয়াগনার এতটাই কেঁপে গিয়েছিলেন যে ওই ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে ফিরে গেলেন ড্রেসিংরুমে।

ওয়াগনার লেজের দিকের ব্যাটসম্যান। তাঁর নড়বড়ে অবস্থা দিয়ে নিউজিল্যান্ড দলের ইনিংস মূল্যায়ন করা হয়তো ঠিক হবে না। কিন্তু দিনের শুরুটা দেখুন কিংবা মাহমুদউল্লাহর এক ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর তাদের ইনিংসের লেজটা যে রকম দ্রুত খসে পড়ল…। বেসিন রিজার্ভের ব্যাটিং উইকেটে বোলারদের এসব কীর্তি কম নয়। টম ল্যাথামের ১৭৭ রানের পরও প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫৯৫ রান ছুঁতে পারেনি কিউইরা। ৫৩৯ রানে তাদের অলআউট করে দিয়ে বাংলাদেশের লিড ৫৬ রানের। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও পড়েছে ঝড়ের মধ্যে।

ইমরুলের চোট শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংসে। মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে দুই দিনে ১৪৮.২ ওভার উইকেট কিপিং করেছেন। বিকল্প উইকেট কিপার হিসেবে ইনিংসে ৫ ক্যাচ নিয়ে করেছেন বিশ্ব রেকর্ডও। এরপর আবার ওপেনিংয়ে ব্যাটিং। ইমরুল শুরুটা করেছিলেন বোল্টকে পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে। এরপর টিম সাউদিকে দুই ওভারে চার আর ছক্কা মেরে যখন উইকেটে মোটামুটি থিতু হয়ে যাচ্ছিলেন, ভেঙে পড়লেন তখনই। তামিমের সঙ্গে একটি রান শেষ করতে গিয়ে ডাইভ দিয়েছিলেন। এরপরই কাতরাতে থাকলেন মাটিতে শুয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

২৪ রানে ‘আহত অবসর’ ইমরুলের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর ছোটখাটো একটা মড়কই লেগে যায় বাংলাদেশের ইনিংসে। প্রথম ইনিংসের ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে আউট তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও ‘নাইটওয়াচম্যান’ মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩ উইকেটে ৬৬ রান করে চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের লিড মাত্র ১২২ রানের।

ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে বড় কিছু লিখে দিলে বোলারদের সাহস বাড়ে। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান—বেসিন রিজার্ভে পাঁচ ব্যাটসম্যান মিলে সেই সাহসটাই দিলেন বোলারদের। বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ তাতে কতটা তেতে উঠেছিল সেটার প্রমাণ কামরুলের আগুন ঝরানো। মাহমুদউল্লাহর চমকও কি নয়!

১৩৩তম ওভার। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছ থেকে বলটা পেয়ে একটু অবাক হয়ে থাকতে পারেন মাহমুদউল্লাহ। নেলসনের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বল করেছেন মাত্র এক ওভার। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুই ওভারে দিয়েছেন ৩২, শুধু দ্বিতীয় ওভারেই তিন ছক্কাসহ ২৮। মনে মনে নিশ্চয়ই মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘ধুর! বোলিংটা না করলেই ভালো হতো…।’

মাহমুদউল্লাহকে বোলিংয়ে আনার পর প্রেসবক্সে মৃদু হইচই। মাহমুদউল্লাহর বোলিং করাটা যেন সবার কাছেই বড় খবর। অথচ সেই মাহমুদউল্লাহই কিনা এক ওভারে মেরে দিলেন উইকেট! ৬ উইকেটে ৪৭১ থেকে চা–বিরতির আগেই নিউজিল্যান্ডের স্কোরবোর্ডের চেহারাটা ঝুলে গেল—৪৭৩/৮। শেষ দুই উইকেটে আর ৬৬ রান যোগ করেই ৫৩৯ রানে অলআউট।

টেস্টের সম্ভাব্য ফলাফল ড্র-ই মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু দিন শেষের চিত্র বলছে, পঞ্চম দিনে রং আরও বদলাতে পারে ওয়েলিংটন টেস্ট।

Related posts