September 19, 2018

সড়ক নয় যেন মৃত্যুর কূপ

zakir pp1
তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ রিপোর্টার :  জনবহুল এলাকার গাইবান্ধার সাদুল্যাপুুর উপজেলার সাদুল্যাপুর-নলডাঙ্গা পাকা সড়কটি যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। এ সড়কে জনসাধারণ চলতে গিয়ে নানা দুর্ভোগসহ হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিদ্যমান এ পরিস্থিতির জন্য ভূক্তভোগিরা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে দায়ী করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অঞ্চলের জনসাধারণের জেলা ও উপজেলা শহর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক পথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির প্রতি সংশ্লিষ্ট বড় কর্তাদের অবহেলা আর নেক দৃষ্টি না দেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোন রকম সংস্কার কিংবা মেরামত করা হয়নি। ফলে নলডাঙ্গা হইতে উচাঁ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিঃ মিঃ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানা খন্দে ভরে গেছে। সড়কটি এখন বেহালদশায় সর্বসাধারনের চলাচলে অবর্ণণীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, এ উপজেলার নলডাঙ্গা সহ পাশর্^বর্তী অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্টি রাজধানী ঢাকা, জেলা শহর গাইবান্ধা ও উপজেলা শহর সাদুল্যাপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। বর্তমানে সড়কটির অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গতের্র সৃষ্টি হয়েছে। এবারে আগাম বর্ষাকাল শুরু থেকেই প্রায়ই সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সৃষ্ট খাদে হাটু পানি জমে থেকে সড়কটি যেন এখন খালে পরিনত হয়েছে।
বিশেষ করে নলডাঙ্গা সিএনজি স্ট্যান্ড ১নং রেলগেটে এ দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে দিবারাত্রি,বাস,কোচ, ট্রাক, মাইক্রেবাস, সিএনজি, অটোবাইক, ব্যাটারী চালিত ভ্যান সহ নানা ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কটিতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত জলবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার পথচারী ও কোমলমতি স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থী সহ এসব যানবাহন চলাচল একেবারে দুরূহ হয়ে পড়ছে। এমনকি সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে হেঁটে চলাচল করাই যেন দুস্কর হয়ে পড়ছে। zakir pp1
এমতবস্থায় সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে হেঁটে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই খাদে পড়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে। ভূক্তভোগিদের মতে সড়কটি এখন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে ইতিপূর্বে এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তবুও এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোন মাথা ব্যাথা কিংবা ভাবনা নেই। কিন্ত এর মধ্যেও মানুষজন প্রয়োজনের তাগিদে নিরূপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব যানবাহন যোগে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন। আর এসব যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে তীব্র ঝাঁকুনিতে নারী শিশু সহ অনেকেই ছিটকে রাস্তার উপর পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
যানবাহনের চালক শহিদুল ইসলাম ও ইমরান আলী জানান, অত্যন্ত সাবধানতার সাথে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ী চালাতে গিয়েও অনেক সময় তা হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাড়ী উল্টে গিয়েও অনেকেই মারাতœক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। এভাবে প্রায় প্রতিনিয়তই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটিতে ছোট খাট দুর্ঘটনা ঘটছেই। ভ্যান চালক বক্তাজামান, রফিকুল ইসলাম,আঃ রহমান সহ অনেকেই জানান অনেক যাত্রী তার গন্তব্য স্থলে তাড়াতাড়ি পৌঁছতে আমাদেরকে দ্রুত গাড়ী চালাতে বলেন । কিন্ত সড়কটি নাজুক পরিস্থিতির কারণে জোরে গাড়ী চালালেই যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য জোরে শোরে গাড়ী চালানো সম্ভব হয়না। এ নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে তুমুল বাকবিতন্ডা হয় বলে তারা জানান। তারা আরও জানান সড়কটির এমন অবস্থাতে আমরা খুব ভয়ে ধীরে ধীরে সাবধানতার সাথে গাড়ী চালাই। সড়কটির এ অবস্থার ফলে বিশেষ করে কোন মুমুর্ষ রোগিকে এ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোন যানবাহন যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কোন হাসপাতালে নিতে গিয়ে অসহনীয় ঝাঁকুনিতে রোগির যেন আরও বারোটা বেজে যায়।
এদিকে আবার পথচারীদের অভিযোগ সড়কটিতে সার্বক্ষনিক কাঁদাযুক্ত পানি জমে থাকে। কিন্ত এর মধ্যে দিয়ে বাস ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় গর্তে জমে থাকা কর্দামাক্ত পানি পথচারীদের গায়ে ছিটকে গিয়ে পড়ে। এ নিয়েও মাঝে মধ্যে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে পথচারীদের তুমুল বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা কখনও কখন ও মারমুখী রূপ নেয়। বিদ্যমান প্রসঙ্গ নিয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে এ প্রতিবেদক মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি সংযোগ কেটে দেয়ায় এ ব্যাপারে তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি। 

Related posts