December 14, 2018

ভাগ্যে ফিরেনি মুক্তিযোদ্ধা আকু মিয়ার: জীবন চলে ভিক্ষা করে

 

AkuMiah

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: “আকুমিয়া ফকির” খাগড়াছড়ি জেলা সদরের অসহায় এক মুক্তিযোদ্ধার নাম। প্রায় ছোট বড় সব পেশার মানুষই এ নামটির সাথে কম কেশী পরিচিত। সরকারী সনদে মুক্তিযোদ্ধের বীর সৈনিক আকুমিয়ার নাম সৈনিক আকুমিয়া লিখা থাকলেও বর্তমানে তার নামের পাশে নতুন করে আরোও একটি শব্দ যুক্ত হয়েছে। “ফকির আকুমিয়া”। স্বাধীনতা ৪৪ বছরেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি সাহসী সৈনিক আকুমিয়ার। তাই তিনি বাধ্য হয়ে ভিক্ষাভিত্তির পথ বেঁচে নিয়েছেন।

আকুমিয়া জানান, এক সময় দেশকে শত্রু মুক্ত করতে জীবন বাজী রাখলেও আজ জীবনের শেষ প্রান্ত এসে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আমাকে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। যুদ্ধকালীন সময় স্থানীয় রাজাকারদের কড়া নজরদারিত্বের কারণে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার ডাইনছড়িতে যুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনা যুদ্ধের সময় ভুমিহীন হয়ে পড়েন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খাগড়াছড়িতে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পার্বত্য এলাকায় শত সহস্র একর খাস জমি পড়ে থাকলেও আজও তার ভাগ্যে জুটেনি এতটুতু জমি।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে সংসার চালাতে আমি চাকুরীর জন্য হণ্যে হয়ে ঘুরেছি, কিন্তু যুদ্ধাহত এই মুক্তিযোদ্ধাকে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। জীবন-জীবিকা চালাতে কোন চাকুরীর ব্যবস্থা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শরীরের শক্তি খাটিয়ে সংসার ও পরিজনদের জন্য জীবন সংগ্রামে মেতে উঠেন তিনি। অবশেষে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এবং ধার দেনা করে চার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা মুক্ত হয়েছেন। বয়সের ভারে ন্যূব্জ হয়ে শেষ-মেশ ধার দেনায় ডুবে যান দেশ মাতৃকার গর্বিত সন্তান এ মুক্তিযোদ্ধা। সংসারে কেউ আয় রোজগার করার মত নেই। নিরুপায় হয়ে জীবিকা নির্বাহের আর কোন রাস্তা না পেয়ে লোক লজ্জা ত্যাগ করে জীবনধারণের জন্য ও সংসার চালাতে ভিক্ষাবৃত্তিতেই নেমে পড়েন ষাটোর্ধ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আকু মিয়া।

গত প্রায় ১৫ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা আকুমিয়া এ ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত। বর্তমানে তার সংসার চলে ভিক্ষাবৃত্তির আয় দিয়ে। তার অসুস্থ স্ত্রী শয্যাশায়ী। সামান্য ভিক্ষার আয় দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। মুক্তিযোদ্ধা আকু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন জাতীয় দিবস এলেই শুধু রাষ্ট্রীয় আলোচনা সভায় ভূরি ভোজ করার ডাক পড়ে। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র ছাড়া কোন সম্মাননা বা স্বীকৃতি জোটেনি তার ভাগ্যে। জীবনের শেষ সময়ে সম্মানজনক ভাবে আমৃত্যু বেচে থাকার একটি ব্যবস্থা নিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েও কোন ফল আসেনী দীর্ঘ দিনেও।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts