March 27, 2019

‘স্বাধীনতার ঘোষণায় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না’

ইসলামী আন্দোলনে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম

চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বিজয় হয়েছে একটি দেশের, ভূ-খণ্ডের। কিন্তু, এদেশের মুসলমানরা এখনো স্বাধীন হয়নি।

তিনি বুধবার বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ হাউজবিল্ডিং চত্বরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

ফয়জুল করীম বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন করার পেছনে মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি অবদান। ১৯৪৭ সালে মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিরস দেহলবী ভারতকে দারুল হারব রাষ্ট্র ঘোষণা না দিলে এদেশ স্বাধীন হতো।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এসে যারা ধর্মনিরপেক্ষতার ঘোষণা দেয়, তারা আসল ইতিহাসকে গোপন করছে। স্বাধীনতার ঘোষণায় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না, ’৭৫ সালে এটি সংযোজন করা হয়।’

ফয়জুল করীম বলেন, ‘১৯৭১-এ দেশের জনগণ যে আশা ও চেতনা নিয়ে জীবন দিয়ে পাকিস্তানিদের কাছ থেকে বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীদের কোনো অবদান ছিল না, ছিল না কোনো নাস্তিক-বেঈমানদের অবদানও। মুক্তিযোদ্ধারা বিসমিল্লাহ বলে এবং আল্লাহু আকবার বলেই গুলি চালিয়েছেন। কাজেই ৪৪ বছর পর এসে জাতিকে বিভক্ত করার চক্রান্ত দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতা জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও রুখে দাঁড়াবে।’

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘যে দেশের মানুষের ঘুম ভাঙে আজানের ধ্বনিতে, সেদেশের মানুষকে জঙ্গিবাদ ও আইএসের অপবাদ দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ড. আবুল বারকাত গংরা উদ্ভট ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে এদেশের সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের তালিকা করে তিনি চরম অন্যায় করেছেন। এজন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’

সংগঠনের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন, সেক্রেটারি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক নেতা হারুন অর রশিদ, আবুল কাসেম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts