November 22, 2018

স্বপ্নপূরণের ফাইনাল আজ!!

2016_03_01_17_15_06_SpUSVbPHmZm2eerL1CfvmwEEQeIiaK_original

২০১২ সালে প্রথমবার এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। মাত্র দুটি রানের জন্য সেবার আরাধ্য শিরোপাটা টাইগারদের হাত ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সেই পাকিস্তানকে উড়িয়েই আরো একবার ফাইনালে তারা। এবার স্বপ্ন পূরণের পালা! সেই স্বপ্ন পূরণে কিংবা আরো একবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে না চাইলে নিজেদের সেরাটা খেলার বিকল্প পথ খোলা নেই তামিম-মুশফিক-সাকিবদের সামনে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারই প্রথমবার আয়োজন করা হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ। ছোট ভার্সনের এ ক্রিকেট দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালের টিকিটের জন্য হাহাকার আরও একবার তারই প্রমাণ করল।

যে ফরমেটের ক্রিকেটে এখনো বাংলাদেশ দলকে সেভাবে গোনা হয় না, সেই টি-২০ ফরমেটে প্রবর্তিত এশিয়া কাপে এবার টি-২০ বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকাকে পর্যুদস্ত করে, টি-২০’র সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ। মাশরাফিদের হাত ধরে এমন ইতিহাস রচনার দিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলাদেশ।

টি-২০ ফরমেটের আসর বলেই আসরের শুরুতে এতোটা প্রত্যাশা করেনি মাশরাফি। তবে মনের ভেতরে থাকা প্রত্যয় যে অবিশ্বাস্য সাফল্যে প্রত্যয়ী করে তুলতে পারে, সেটাই জানিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি। শিষ্যদের নিয়ে ২ বছরের মিশনে একটার পর একটা সাফল্যে দারুণ কিছু’র স্বপ্ন দেখেছেন হাতুরুসিংহে। মাশরাফি যখন দেখাতে পারেননি অলৌকিক কিছু’র স্বপ্ন, তখন হাতুরুসিংহে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই রেখেছেন চোখ ট্রফিতে! অপেক্ষা মাত্র একটি হার্ডল, আজ সে বাধা পেরুলেই নতুন ইতিহাস।

পাকিস্তান, ভারত, দ.আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়ে ৫০ ওভারের ফরমেটের ক্রিকেটে র‌্যাংকিংয়ে ৯ থেকে ৭ এ উন্নীত করার এই কারিগর স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যাওয়া অধ্যায় রচনার অংশ হতে উদগ্রীব। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত। আইসিসি’র টি-২০ র‌্যাংকিংয়ে নাম্বার ওয়ানের মুকুট মাথায় যাদের। তাদের সঙ্গে টি-২০’র ১০ নম্বরের লড়াইটা মনে হতে পারে অসম। তবে ১ বছর আগে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ার আর আইসিসি’র পক্ষপাতিত্বে ভারতের কাছে হারটাই যেন অন্য এক বাংলাদেশকে করেছে আবির্ভূত। তেঁতে ওঠা বাংলাদেশ দল মেলবোর্ন অরিচারের বদলা নিয়েছে, জিতেছে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজের ট্রফি।

হার দিয়ে এশিয়া কাপের চলমান আসর শুরু করে আরব আমিরাত, শ্রীলংকা এবং পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালের সামনে দাঁড়িয়ে। টুয়েন্টি-২০ ক্রিকেটে ৪টি সিরিজ জয়ের অতীত আছে বাংলাদেশের, তবে তা শুধুই দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে। টি-২০তে মেগা আসরের ফাইনাল এবারই প্রথম বাংলাদেশের এবং প্রথম ফাইনালে অবিশ্বাস্য কিছু অর্জনের নেশায় বুদ পুরো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দল আশাবাদী, চার বছর আগের হতাশার ক্ষত শুকিয়ে যাবে জয়ের উত্তাপে। শক্তির তারতম্যে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের এগিয়ে থাকা অস্বীকার করার উপায় নেই।

টানা তিন জয়ের আগে এবারের এশিয়া কাপ বাংলাদেশ শুরু করেছে তাদের কাছে হেরেই। তবে স্বপ্নযাত্রা প্রতিবারই আক্ষেপের সমুদ্রে মিশবে, এমনটা বিশ্বাস করেন না অধিনায়ক। আজকের ফাইনালকে তিনি একটা আলাদা ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন, ‘ফাইনাল বলে এই ম্যাচের মেজাজ আলাদা হবেই। তবে আমাদের কাছে এটা স্রেফ আরেকটা ম্যাচই। গত তিন ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও নিজেদের সেরাটা খেলতে চাই।’

খেলোয়াড়দের মনে এ রকম আশার বসতিকে বলে আত্মবিশ্বাস। কিন্তু যখন প্রত্যাশার পাল ওড়ায় ১৬ কোটি মানুষ, সেই আত্মবিশ্বাস পড়ে যায় প্রবল চাপে। মাশরাফি শুরু থেকেই চেষ্টা করছেন প্রত্যাশার পারদকে নিচে নামিয়ে রাখতে। কিন্তু ফাইনালের উত্তাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে কি আর সেটা সম্ভব? অধিনায়ক তাই এখন একটাই করণীয় দেখছেন, আর সব বাদ দিয়ে শুধু ম্যাচ নিয়ে ভেবে উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

এখন পর্যন্ত সেটা তারা করেও দেখিয়েছেন এবং বিস্ময়করভাবে তাতে দলের পেসারদের অনেক বড় অবদান। মিরপুরের সবুজাভ উইকেট দেখিয়ে কাল কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলছিলেন, ‘যেসব উইকেটে বল দ্রুত ব্যাটে আসে আমার সেসব উইকেটই পছন্দ। তবে ঘাসের উইকেটে শিশির জমলে বল অনেক সময় এদিক-সেদিক হয়।’ শ্রীলঙ্কান কোচের বিশ্বাস, সবুজ উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন তার ব্যাটসম্যানরা। কাজেই উইকেটের কালকের ঘাসটা আজ থেকে গেলেও সমস্যা নেই। বোলিংয়ের সময় বরং সেটাই হতে পারে আশীর্বাদ।

প্রথম ম্যাচের মতো ভারতের বিপক্ষে আজও চার পেসার নিয়েই খেলার সম্ভাবনা বাংলাদেশ দলের। বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির জায়গায় টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পেতে পারেন তরুণ পেসার আবু হায়দার। দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর একটাই—মোহাম্মদ মিঠুনের জায়গায় সম্ভবত আসছেন নাসির হোসেন। তবে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর না হলে ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে হিসাব-নিকাশ।

গত পরশু ব্যাটিং অনুশীলনের সময় বাঁ ঊরুর ওপরের দিকে বলের আঘাত লেগেছে। কালও ব্যথাটা পুরোপুরি যায়নি বলে অনুশীলনে নেমেও উঠে গেছেন সাকিব। ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম অবশ্য কাল রাতেও আশা দিলেন, ‘ব্যথার জায়গায় বরফ দেওয়া হচ্ছে, ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাকিবের খেলা নিয়ে কোনো সংশয় দেখছি না।’

এই একটি অনিশ্চয়তা ছাড়া ফাইনালের আগের বাংলাদেশ দলে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। তবে সেই আত্মবিশ্বাস দিয়ে দেশকে আনন্দের বন্যায় ভাসানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না মাশরাফি। অধিনায়ক মনে করেন, সাফল্যের পতাকা ওড়াতে পারলে ভালো, না ওড়াতে পারলেও এগিয়ে যাওয়ার বার্তাটা থাকবে, ‘এমন নয় যে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখানেই থেমে যাচ্ছে। এই টুর্নামেন্ট খুব ভালো একটা বার্তা দিয়েছে যে টি-টোয়েন্টিতেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। জিতলে অসম্ভব ভালো লাগবে। না জিতলেও আমরা এগিয়ে যাব।’
সেই যাত্রায় মাশরাফিদের পেছনে আছে পুরো বাংলাদেশ।

একদিনের বিরতি দিয়েই টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে উড়ে যেতে হবে মাশরাফিদের। সেখানে কোনোরকম অনুশীলন ছাড়াই নেমে পড়তে হবে মাঠের লড়াইয়ে। সেই লড়াইয়ের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে নেয়ার মঞ্চ এই ফাইনাল। এশিয়া কাপের ফাইনাল, স্বপ্নপূরণের ফাইনাল!

Related posts