September 21, 2018

স্বজনদের আহাজারীতে চলছে শোকের মাতম ওসমানীনগরে দুই শিশুর দাফন সম্পন্ন : বাবাকে এখানো খোঁজে পায়নি পুলিশ

60

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ ( সিলেট ) প্রতিনিধি :: সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের চিন্তামনি গ্রামে পিতার হাতে নৃশংস ভাবে দুই শিশু খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শিশুদের পিতা ছাতির আলীকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শিশুদের পিতা ছাতির আলী মানসিক রোগী ছিলেন বলে জানান নিহত শিশুদের স্বজনরা। লাশ উদ্ধারের পর থেকে থানা পুলিশ ছাতির আলীকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার হলেও তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া জোরা খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা দায়েরও হয়নি। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে চিন্তামনি গ্রামের কবর স্থানে জানাযা শেষে দাফন নিহত শিশুদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

এক সাথে দুই শিশুদের খুনের ঘটনায় আত্বীয়-স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের ক্রন্দনে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস। লাশ দেখতে এলাকার শত শত লোকজন বাড়িতে ভির করছে। লাশের পাশে ক্রন্দনরত অবস্থায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নুরবী। মাকে আকড়ে ধরে  ২য় শ্রেনীর শিক্ষার্থী নিহতদের বোন তানজিলা (৮) মিঠ মিঠ করে থাকিয়ে আছে। যাহা দেখে কেউই কান্না থামতে পারছেন না। পারিবারিত সূত্রে জানা যায়, ছাতির আলী মানসিক ভারসাম্যহীন। বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সাথে জগড়া বিবাদ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় ভাবে শালিসও হয়। এমনকি স্ত্রীর সাথে জগড়া বিবাদের জেড়ে ঘরে খাওয়া-দাওয়া করতেন না বলে জানা যায়। তবে তাকে খোঁজে পেলেই হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাই তাকে দ্রুত খোঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউ/পি সদস্য আলকাছ আলী বলেন, ছাতির আলী ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। বিষয়টি নিয়ে একাধিবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। সোমবার রাতে  আমি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি ছাতির আলী তার দুই শিশু পুত্রদের হত্যা করে লাশ ডোবায় রেখে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার সুষ্ট তদন্ত হলেও আসল রহস্য বের হয়ে আসবে বলে জানান তিনি।

নিহত শিশুদের মামা মকবুল আলী বলেন, আমার ভগ্নিপতি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। কারণে অকারণে আমার বোনকে মারপিট করতেন। আমাদের ধারণা তিনি নিজেই  দুই শিশুকে  হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।

শিশুদের মা নূরবী বেগম কান্না জড়িতে কণ্ঠে বলেন, মাছ ধরার কথা বলে আমার দুই ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে হত্যা করেছে আমার স্বামী। আমি তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

নিহত শিশুদের দাদা আফরোজ আলী বলেন, ছাতির দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছে। এ রোগ নিয়ে আমরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাও করিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি। আমার ধারনা সে নিজেই তার পুত্রদের খুন করে পালিয়ে গেছে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শওকত আলী বলেন, এক সাথে দুটি শিশু খুনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমি দ্রুত খুনিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীদের প্রতি জোর আহব্বান জানাচ্ছি। অপরাধীকে আটক করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতার আশ্বাস করা হবে বলে জানান তিনি।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল আউয়াল চৌধুরী জানান, নিহতের স্বজনরা এ ঘটনায় লিখিত কোন অভিযোগ না দেয়ায় মামলা রুজু করা হচ্ছে না। নিহত শিশুদের পিতা ছাতির আলীকে আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত,গতকাল  সোমবার দুপুরে শিশুদের পিতা ছাতির আলী মাছ ধরার যন্ত্রপাতিসহ তার দুই পুত্র মোমিন ও রুজেলকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলেদের নিয়ে বাড়িতে না ফেরায় ছাতির আলীর স্ত্রী নুরবি বেগম ছেলেদের খোঁজে বাড়ি থেকে বরে হন। অনেক খোঁজাখোঁজির পর পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত সারে ৭টার দিকে গ্রামের পাশ্ববর্তী ডোবায় লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। লাশের গাঁয়ে আঘাতের চিন্হ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ছাতির আলী পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের ধারনা শিশু দুটিকে খুন করে লাশ ডোবায় ফেলে দেয়া হয়েছে।

Related posts