November 14, 2018

স্ত্রী মডেল কন্যা সাগরিকাসহ ৫ জনের ফাঁসি!

506

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ      রাজধানীর শ্যামপুর থানার চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী মডেল কন্যা সুমাইয়া কানিজ সাগরিকাসহ পাঁচ আসামির ফাঁসির দন্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আলী আশরাফ লিটনের অপরাধ ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায়’ আদালত তাকে খালাস দিয়েছে। নিহতের স্ত্রী সাগরিকা বাদে ফাঁসির দন্ড পাওয়া অপর চার আসামি হলেন- মো. ইব্রাহিম ওরফে ইয়াছিন, মো. খলিল ওরফে হিজড়া খলিল, মো. আল আমিন ও খলিল শেখ।

সোমবার বিচারপতি সোমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি এ এন এম বশিরউল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ মান্নান মোহন। তিনি জানান, এ মামলায় নিহতের স্ত্রী সাগরিকা, আলী আশরাফ লিটন, মো. ইব্রাহিম ওরফে ইয়াছিন, মো. খলিল ওরফে হিজড়া খলিল, আল আমিন ও খলিল শেখের ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার আলামত গুলো সবই আসামীদের বিপক্ষে ছিলো। এজন্য আদালত তাদের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন। তবে একজন আসামিকে খালাস দেওয়ায় এ রায়ে বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানান তিনি। এ বিষয়ে নিহতের বাবা ফিরোজ আলম বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়। মামলার ২য় আসামি লিটনের খালাসের রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানান তিনি।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ২১ জুন জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী মডেল কন্যা সুমাইয়া কানিজ সাগরিকাসহ ওই ছয় আসামির ফাঁসির আদেশ দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। তবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় পলাতক অপর আসামি ইসমাইল হোসেনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আসলে ওই বিষয়ে  ৮ নভেম্বর শুনানি শুরু হয়।

মামলার এজাহার হতে জানা যায়, নিহত জাহাঙ্গীর আলম শ্যামপুর থানার শ্মশানঘাট এলাকায় লোহার ব্যবসা করতেন। ঘটনার দিন সে তার ভাড়া বাসায় ৩ মেয়ে, গৃহকর্মী ও স্ত্রী সাগরিকাসহ ঘুমিয়ে ছিলেন। ২০০৮ সালের ৪ নবেম্বর ভোর ৪টায় নিহতের পিতা ফিরোজ আলম খবর পান জাহাঙ্গীর আলম খুন হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত তিনি ঘটনাস্থলে এসে জাহাঙ্গীর আলমের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। বাদী ঘটনা সম্পর্কে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সাগরিকাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান বন্ধ ঘরে জাহাঙ্গীর আলমকে কারা যেন কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সাগরিকাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয় কারা হত্যা করেছে জিজ্ঞাসা করলে সে নিশ্চুপ থাকে। এরপরে দিন নিহতের বাবা ফিরোজ আলম বাদি হয়ে শ্যামপুর থানায় সাত জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বাদী তার এজাহারে বলেন, মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সাগরিকা নাটকে অভিনয় করত। ভিকটিম জীবিত থাকা অবস্থায় সাগরিকা বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করত। একবার অন্য পুরুষের সঙ্গে চলেও গিয়েছিল। তার এই অবৈধ মেলামেশায় বাধা দেয়ার কারণে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শ্যামপুর থানার এসআই শাহজাহান ঘটনা তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সাগরিকাসহ ৫ আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts