September 24, 2018

স্ত্রী’কে প্রহার করা অ-পৌরষিক অন্যায়

রাজু আহমেদ
আপনি স্বামী তাই প্রভূত্বের দাবীদার! স্ত্রী’র কাজ শুধু আপনার দাসত্ব করা কেননা প্রকৃতি আপনাকে তার থেকে বেশি শক্তি দিয়েছে! সাহসীও বটে আপনি! গোটা রাজ্য সামলাতে হয় আপনাকে কিংবা পুরুষত্ব ফলানোর জন্য ঘর ব্যতীত আর কোন জায়গা নেই আপনার। সমাজের কারো সাথে না পারেন বুদ্ধিতে, না কাজে, না কথায়। কোথায় জাহির করবেন আপনার পুরুষালি শ্রেষ্ঠত্ব? আপনার জন্য জায়গা তো একটাই! ঘরে স্ত্রী আছে, আর আপনি তাকে কথায় কথায় গালি দিবেন, কোন কথার প্রতি উত্তর করলে তার গায়ে হাত তুলবেন। মেরে রক্তাক্ত করবেন তার দেহ। যদি ভেবে থাকেন এইসব করে আপনি আপনার পুরুষত্ব জাহির করলেন, তবে নিশ্চিত জানুন, আপনি পুরুষ নন বরং কাপুরুষ, অ-পুরুষ কিংবা এ জাতীয় যতগুলো শব্দ আছে তা কেবল আপনার জন্যই সৃষ্ট।

ধর্ম আপনাকে স্ত্রীর শরীরে আঘাত করার অনুমতি দেয়নি। আপনি যে ধর্মের অনুসারী হন না কেন, যদি দেখাতে পারেন সে ধর্মের প্রধান ব্যক্তিত্ব কিংবা  প্রকৃত অনুসারীদের কেউ স্ব-স্ত্রীকে প্রহার করেছে তবে সেটা থেকে আজ ধর্মীয় বিশ্বাস তুলে নিন। কেননা ওটা ধর্মই নয়। প্রকৃত ধর্ম স্ত্রী’র গা’য়ে আঘাত করার অনুমতি দেয়নি, দিতে পারেনা। ধর্মের কথা বাদ দিন, কোন বিবেকে আপনি স্ত্রীর শরীরে আঘাত করতে পারেন? স্ত্রীকে প্রহার করার পূর্বে কিংবা পরে নিজেকে আয়ানার সামনে কিংবা বিবেকের জবাদিহীতায় দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করুণ, যে কাজ করলেন ওটা কি মানুষে করে? আপনি যদি স্ত্রী’র প্রহার করে থাকেন, তবে নিজেকে পরখ করে নিন, আপনি কি এখনো মানুষ রয়েছেন নাকি অন্য কিছুতে রূপ নিয়েছেন। কোনদিন যদি স্ত্রীকে প্রহার করে থাকেন তবে আপনার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা মানবেতর জীব থেকে শিক্ষা নিন। লক্ষ্য করে দেখবেন, সেগুলো যত হিংস্র কিংবা জানোয়ার হোক একান্ত সাথীকে আঘাত করেনা। যে অপুরুষ স্ত্রী’কে প্রহার করে সে কাপুরুষের চেয়ে সেই জানোয়ার উত্তম যে তার সাথীর সাথে খুনসুঁটি করে।

বিবাহ করতে চাচ্ছেন? আগে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করুণ, স্ত্রী’কে আপনার মত মানুষ ভাবতে পারবেন কিনা । তার সাথে মানুষের মত আচরণ করতে পারবেন কিনা? বারবার চেষ্টা করুন পুরুষ হতে, কখনো কাপুরুষ কিংবা কুপুরুষ হবেন না । সারা পৃথীবির মানুষ আপনাকে তিরস্কারের ওপর রাখছে অথচ আপনি বাহাদুরী দেখাচ্ছেন স্ত্রী’কে প্রহার করে-এটা আপনার অসুস্থ মানসিকতার লক্ষণ । আপনি এ যুগের শ্রেষ্ঠ অপদার্থ। মনোবিদদের কাছে যান, কেননা আপনার মনোবৈকল্য থেকে উত্তরণের খুব ভালো চিকিৎসা বহু পূর্ব থেকেই তারা দিচ্ছে।

বিয়ে করেই আপনি স্বামী হলেন, তাই কে আছে আর, যার সাথে আপনার তুলনা চলে! অবশেষে আপনার একজন দাসী হলো। স্ত্রী সম্পর্কে আপনার ধারণা যদি আজও এমন আদিম মানুষের মত রয়ে যায় তবে নিজেকে বদলান, খুব দ্রুত বদলান । অন্য কারো প্রয়োজনে নয় বরং নিজের প্রয়োজনে বদলাতে হবে নিজেকেই। মানবিকতার যুগে আপনাকেও যে মানুষ হতে হবে। আজ আর স্ত্রী’রা দাসী নয় বরং তার পুরুষের উত্তম সঙ্গী-শ্রেষ্ঠ অর্ধাঙ্গী। একজন মানুষ হিসেবে যতটুকু অধিকার আপনি রাখেন তার চেয়ে কোন অংশে কম অধিকার তাদের থাকে না। যদি তারা মানুষের মত অধিকার না পায় তবে জেনে রাখুন, তাদের অধিকার অপদখলে রাখার জন্য মনুষ্যত্ত্বের কাছে আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে। তারপরেও যদি আপনি কাপুরুষের মত আচরণ করেন তবে সে ব্যর্থতা একান্তই আপনার।

টুকিটাকি বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করার মানসিকতা পরিহার করুণ এবং হওয়ার অবস্থা এড়িয়ে চলুন । সব মানুষ যে বুদ্ধিমান এবং সবকিছু বুঝবে সেটা আপনি ভাবছেন কেন? বারবার নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, দোষ কার? প্রতিবারই যদি উত্তর আসে, দোষ স্ত্রীর তবে তার সাথে কথা বলুন। একান্তে নমনীয়ভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুণ। তাকে মানুষ ভাবুন এবং বোঝাতে থাকুন । নিশ্চয়ই সে সর্বদা অবুঝ হবে না এবং আপনিও সফলতা পাবেন। আপনার ত্যাগে যদি কোন সম্পর্ক টিকে যায় এবং শান্তি বিরাজ করে তবে সে স্বার্থকতা ও শ্রেষ্ঠত্ব একান্তভাবেই আপনার। আপনার এ গুনের প্রশংসা কেউ করুক কিংবা না করুক-আপনি আপনার কাছে তৃপ্ত থাকবেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মধুরতায় ভরে উঠবে। এ মধুরতায় সৃষ্টিতে আপনার শ্রেষ্ঠত্বই সর্বাগ্রে থাকুক। মনে রাখবেন, আপনি শুধু পুরুষ নন, আপনি দায়িত্বশীলও।

রাজু আহমেদ। কলামিষ্ট।

Related posts