September 20, 2018

স্কুলছাত্রী মৃত্যুর রহস্য উদঘটনে বাধা দিচ্ছেন পরিবার

জুবায়ের হোসেন,নাটোর প্রতিনিধিঃ  নাটোরের নলডাঙ্গায় স্কুলছাত্রী হাওয়া খাতুনের (১৫) মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তবে পরিবারের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে পুলিশকে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে হাওয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে হাওয়ার বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তাদের নতুন বাড়ি করার কারণে কোনরকম টিন দিয়ে ঘেড়া বাড়িতে থাকতো তারা। বাড়িতে দুইটি ঘরের সামনের দিকে একেবারেই ফাঁকা ও পেছেনে বিল। যে কেউ এই বাড়িতে প্রবেশ করলে কারো দেখা সম্ভব নয়। মাত্র ৪ হাতের মত উচু চালের বাশের সাথে হাওয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, হাওয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর থেকে তার ব্যবহিত সেলফোনটি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের আত্মীদের একটি অংশ প্রকৃত ঘটনা উৎঘটনে বাধা প্রদান করছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হাওয়ার বাবা-মা সহ পরিবারের সকল সদস্যরা ঢাকায় সে একাই ছিলো বাড়িতে। কয়েক বাড়ি পরে দাদা-দাদির বাড়ি হলেও তারা সারা দিনে সেখানে আসেনি। সন্ধ্যায় দাদী এসে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

সাংবাদিকেরা মৃত হাওয়ার বাড়িতে গেলে তারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাইনি। উপরন্ত পুলিশ হাওয়ার লাশের ময়নাতদন্তের বিরোধীতা করেন তারা।

নলডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হাওয়ার মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষন করা হয়েছে। তবে ভয়ভীতি দেখিয়ে অথবা নিকটজন তাকে ধর্ষন করেছে। কারন হওয়া ধর্ষণের সময় বাধা  প্রদান করেনি।

এ ব্যাপারে নলডাঙ্গা থানার ওসি সুবির দত্ত জানান, হাওয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক আত্মহত্যা না। এটার পেছনে অনেক রহস্য রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তিনি রহস্যগুলো জানাতে চাননি। তবে ময়নাতদন্তের রির্পোটের অপেক্ষায় তিনি রয়েছে বলে জানান।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর হাসপাতালে হাওয়ার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক প্রশান্ত কুমারও মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঢাকা থেকে রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানানো হবে।

সোববার সন্ধ্যায় সোনাপাতিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে হাওয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে একই গ্রামের মান্নান দফাদারের মেয়ে এবং নলডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ এপ্রিল ২০১৬

Related posts