September 22, 2018

‘স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না মশিউরের’

ঢাকাঃ ‘মশিউরের ইচ্ছে ছিল স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে গিয়ে লেখাপড়া করার। কিন্তু তার পিতা বলেছিলেন, এজন্য তো অনেক টাকার দরকার। আমি তাহলে এখন থেকেই টাকা জমানো শুরু করে দেই। ছেলে বলেছিল তুমি জমিয়ে কিছু অর্থ দিও আর স্কলারশিপ পেলে সরকারও তো টাকা দেবে। এভাবেই বাবা-ছেলের কথোপকথনের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্ত করলেন মশিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান। যিনি রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকায় ছোট্ট একটা পানবিড়ির দোকান চালান। এই দোকানের সামান্য আয়ে চলে তার সংসার। কিন্তু মশিউরের স্কলারশিপ নিয়ে আর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না। তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মশিউর রহমান (২২)। মা-বাবা আদর করে ডাকতেন সিয়াম নামে। মশিউরের সঙ্গে মারা যান তার সহপাঠী সাঈদ লতিফ (২৩)।

মশিউরের বাবা বলেন, ছুটিতে বাড়ি এলেই মাঝেমধ্যে দোকানে বসতেন মশিউর। বুয়েটে পড়া ছেলে পানবিড়ির দোকানে বসুক এটা আমি কখনো চাইনি। ওই বলত, ৪/৫টি বছর কষ্ট করলে অনেক ভালো চাকরি পাব। তখন আর আমাদের কোনো কষ্ট থাকবে না।

তিনি বলেন, বিছনাকান্দিতে বেড়াতে গিয়ে ওর সঙ্গে আমার একবারই কথা হয়। তখন ওই বলেছিল মোবাইলে নেটওয়ার্ক পেতে অসুবিধা হচ্ছে। আর ফোন পেলাম না। ছেলে আমার একেবারেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গেল। বাড়ির সামনে বসে ছেলের সঙ্গে তার খণ্ড খণ্ড স্মৃতি এভাবেই অশ্রুসজল চোখে বর্ণনা করছিলেন। তার কথা শুনে উপস্থিত অনেকেই অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।

শেখপাড়া মহল্লায় মাহবুবুরের বাড়িতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়। সবাই অপেক্ষা করছেন মশিউরের লাশটি শেষ বারের মত দেখার। বাড়ির ভেতরে একটি ঘরে বিছানায় বসে অঝোরে কাঁদছেন মশিউরের মা রুমালি খাতুন। পাশে দাঁড়িয়ে আছে মশিউরের ছোট ভাই নিয়ামুর। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে সে।

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি ও রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পান মশিউর। এরপর ভর্তি হন বুয়েটে। কিন্তু মেধাবী এ শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করে দেশকে কিছু দেবার আগেই চলে গেলেন পরপারে।ইত্তেফাক

Related posts