November 20, 2018

সৌদি বাদশার সঙ্গে ওবামার বৈঠক

ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বুধবার সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার তার উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) এক সম্মেলনে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সৌদি আরবে সম্ভবত ওবামার এটি শেষ সফর।

বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া একটার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করে ওবামাকে বহনকারী এয়ার ফোর্সের বিমানটি। বিমান থেকে নেমে আসেন ধূসর রংয়ের কোর্ট পরিহিত হাস্যোজ্জ্বল ওবামা। পরে তিনি সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। রিয়াদের এরজা প্রাসাদে দুই নেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই ঘণ্টার ওই আলোচনায় সিরিয়া ও ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নাক গলানোর বিষয়গুলো ওঠে আসে বলে স্থানীয় সৌদি গেজেট ও আল আরাবিয়া পত্রিকাগুলো জানিয়েছে। এসময় সৌদি জনতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ওবামা বলেন,‘আমি আপনাদের জন্য আমেরিকার জনগণের শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছি। আপনাদের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ।’

রিয়াদে ২৪ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করছেন ওবামা। এখান থেকে তিনি বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য ও জার্মান সফরে রওয়ানা হয়ে যাবেন।

এর আগে তিনি বৃহস্পতিবার জিসিসি সম্মেলনে অংশ নেবেন। এই সম্মেলনে সৌদি আরব ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে সিরিয়া ও ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধভাবে লড়াই এবং এ অঞ্চলে ইরানের আগ্রাসী তৎপরতার ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টোন কার্টার ইতিমধ্যে রিয়াদে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ ও মার্কিন অস্ত্রের বড় ক্রেতা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না ওয়াশিংটনের। গতবছর ইরানের সঙ্গে ৬ জাতির পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরে। ফলে ৭০ বছরের পুরনো বন্ধুটিকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না রিয়াদ সরকার। ইয়ামেন লড়াইকে কেন্দ্র করে ওই সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে। দেশটিতে ইরানের মদদপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামিলা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি জোট। সৌদি আরব তাদের অনুগত ইয়ামেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আদায়েরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশটির বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে গুচ্ছবোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। এ নিয়ে তারা সৌদি বাদশাহর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ওবামা প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রই ওই বোমা বিক্রি করে থাকে।

Related posts