November 17, 2018

সৌদি নাগরিকত্ব নিয়ে যে আলোচনা চলছে এখন

11 Apr, 2016 এপ্রিল মাসের শুরুতেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গে’র কাছে দীর্ঘ এর সাক্ষাৎকার দেন সৌদি আরবের বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। দীর্ঘ ৫ ঘন্টার আলোচনায় তিনি তেল নির্ভর অর্থনীতি থেকে সৌদি আরবের সরে আসার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে খুব ছোট্ট করে একবার বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা বিদেশীদের স্থায়ীভাবে সৌদি আরবে বসবাসের সুযোগ বা নাগরিকত্ব দেয়ার কথা উচ্চারণ করেন একবার। তারপর থেকে সাক্ষাৎকারের অন্যান্য অংশ নয়, এই নাগরিকত্ব বা গ্রীনকার্ড ইস্যুটিকে নিয়েই আলোচনা চলছে সৌদি আরবের গণমাধ্যমগুলোতে। ‘আরব নিউজ’ বা ‘সৌদি গেজেট’ নামের প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো্ও এই পরিকল্পনার ভালো-মন্দ দিক নিয়ে ঘন ঘন খবর প্রকাশ করছে।

সর্বশেষ একটি খবরে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে ‘সৌদি গেজেট’ বলছে সৌদি আরবে বিদেশীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রীনকার্ড দেয়া হলে দেশটি থেকে রেমিটেন্স হিসেবে বিদেশে যে অর্থ যায় তার প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাবে। অর্থাৎ এতে সৌদি অর্থনীতির যতখানি ইতিবাচক পরিবর্তন হবে ঠিক ততখানিই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে অন্য দেশগুলোর উপর যাদের কাছে সৌদি আরব একটি বড় শ্রম বাজার। সে হিসেবে ধরলে বাংলাদেশেও সৌদি থেকে আসা রেমিটেন্স এর পরিমাণ কমে যাবে।

সৌদি আরবের ফেডারেশন অফ লেবার কমিটির চেয়ারম্যান নিদাল রিদওয়ান এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে ‘সৌদি গেজেট’কে বলেছেন,
‘এই গ্রীনকার্ড সৌদি আরবকে অবৈধ ছদ্মবেশী ব্যবসার (তাসাত্তুর) নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচাবে। সাথে সাথে স্পন্সরশীপের (ইকামার ক্ষেত্রে) মতো ব্যাপারও বিলুপ্ত হবে।’

গ্রীনকার্ড বা নাগরিকত্ব দেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অন্য দেশের লোকও এসে সৌদি আরবের নাগরিকদের মতোই সুবিধা ভোগ করবে। যেমন, চিকিৎসা এবং ব্যাংকিং সেবা। নিদাল রিদ্ওয়ান বলছেন,
‘আপনি জানেন যে, আমেরিকায় গ্রীনকার্ডধারীরা কি কি সুবিধা পায়। আমি বিশ্বাস করি, ঠিক একই রকম ঘটনা সৌদি আরবেও ঘটবে যদি এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।’

নিদাল রিদওয়ানের কথায় সৌদি গ্রীনকার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। তিনি বলছেন,
‘যারা স্থায়ীভাবে সৌদি আরবে বসবাসের সুযোগ চান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সর্বনিম্ন একটা বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়া উচিত-যার মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদেী এবং দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের নিশ্চয়তা থাকবে।’
ধারণা করা হচ্ছে, গ্রানকার্ডের শর্তে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও যোগ হবে। এ প্রসঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবুল বশির বলেন,

‘এটি প্রবাসীদের জন্য সৌদি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে আমরা বাংলাদেশীরা সাধুবাদ জানাই। আমরা আশা করি এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশীদের মধ্যে যারা প্রবাসে নাগরিকত্ব পাবেন, তারা সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের জন্য অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টিসহ বাংলাদেশীদের জন্য একটি শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।’

অন্যদিকে রিয়াদে কর্মরত সৌদি আরবের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘খালিফা আল গোসাইবী হোল্ডিং’ এর এরিয়া ম্যানেজার বাংলাদেশী মাজহারুল ইসলাম শিমুল বলছেন,

‘এই প্রক্রিয়াটি আসলে এতটা সহজ নয়। সৌদি আরবের একটি পত্রিকার মাধ্যমে গত সপ্তাহে বিষয়টি নজরে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে গ্রীনকার্ডের বিষয়টি সৌদি সরকারের চিন্তা ভাবনায় আছে। আগামী ২০২০ সালে একটি পাইলট প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে মূলত গ্রীনকার্ডের কাজটি শুরু করবে সৌদি সরকার। তবে কোন প্রক্রিয়ায় গ্রীনকার্ড প্রদান করা হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোন কিছুই এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আর এতে বাংলাদেশী প্রবাসীরা কতটুকু উপকৃত হবেন তা এখনো অজানা। গ্রীনকার্ডের বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ করা হলে তবে এর সুফল কতটুকু বাংলাদেশীরা পাবে সেটি বোঝা যাবে।’

বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মতামত জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুরোপুরি না জেনে তাদের কেউই মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না। তবে ইস্যুটির দিকে তাদের নজর আছে বলে জানা গেছে।প্র ক

পূর্বের সংবাদঃ সুখবরঃ গ্রীনকার্ড দিবে সৌদি, অনুসরন করবে কি অন্য আরব  রাষ্ট্র? এই লিঙ্কে ক্লিক করুনঃঃ  http://bangla.theglobalnews24.com/?p=22153

Related posts