September 24, 2018

সোহেলের ৮ লাখ টাকা জরিমানা ৬ মাসের জেল

Sylhet-News-copyদ্যা গ্লোবালনিউজ২৪ :: সিলেট জেলার বিশ্বনাথে একটি অসাধু চক্র ট্রাবেলস ব্যবসার নামে চরম ফাদ পেতে চলছে আর তার শিকার হচ্ছেন সহজ সরল ও অসহায় লোকজন,অনেকে বিদেশ যাবার আশায় শেষ সম্ভল ঘরবাড়ী পর্যন্ত বিক্রয় করিয়া তাদের হাতে সব টাকা দিয়ে নি:স্ব ও অসহায় হয়ে গেছেন। খবর পাওয়া যায় যে–বিশ্বনাথ বাজারের বেলাল রাজা ট্রাভেলস এমিনি এক মরন  ফাদ। যাহার মালিক হলেন–বিশ্বনাথের উত্তর মিরের চর গ্রামের বেলাল রাজা ও তার ভাই সোহেল মিয়া ।

মফস্বল শহরে এ ট্রাভেলস শহর ও গ্রামে লোকদের বিদেশ যাবার প্রলোভন দেখিয়ে একে ভারে নি:স্ব ও অসহায় করে দিচ্ছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায় যে,সফর আলী সেবুল (৩৪),পিতা: হাজী মো: আব্দুল করিম,সাং ইলামের গাও এর বাসীন্দা। যিনি অনেক দিন যাবত ভিজিটে লন্ডনে ছিলেন জীবীকার নির্বাহের জন্য। পরে কোন এক কারণে আর যেথে পারেন নি লন্ডনে । পরে আবার ও লন্ডনে যাওয়ার চিন্তা করিলে বেলাল রাজা ট্র্যাভেলস এর স্বত্বাধীকারী বেলাল রাজা ও সোহেল রাজা সেই লন্ডন পাঠানোর আষ্বাস দিয়ে তাহার কাছ থেকে ছয়ত্রিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়।

টাকা গ্রহণ করার পর প্রতারক কথিত বেলাল রাজা ট্র্যাভেলস এর বেলাল রাজা ও সোহেল রাজা আর বিদেশ না পাঠিয়ে সেবুল কে নানা ভাবে প্রতারিত করতে মুরু করে। বিষয়টি বুজতে পেরে এলাকার বিভিন্ন লোক মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করিলে তখন তাহারা থাকে জাল ভিসা প্রদান করিয়া বলে যে, এটাই আপনার ভিসা। ভিসাটি চেক করে জাল হিসাবে প্রমান মিলে। আবারো লোক মাধ্যমে এর কারন জানতে বেলাল রাজা সহ তাদের কে বলা হয় কেন এমন করলেন। প্রতারক বেলাল রাজা গং কে পরে টাকার ফিরত প্রদানের জন্য চাপ দেন সফর আলী সেবুল। পরবর্তিতে তার টাকার চাপ পেয়ে টাকা প্রদানের নিমিত্তে সফর আলী সেবুল কে তিনটি চেক যাহার নং ৪০৮১৮৬৬,৫১৬১৮১০,৪০৮১৮৬৭ প্রদান করেন। উক্ত চেকের দুটি বেলাল রাজার নামীয় এবং একটি সোহেল রাজা নামীয়। পরে সফর আলী সেবুল টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গিয়ে উক্ত চেকে কোন টাকা পান নি। তাতে আর বেশি চিন্তিত হন সফর আলী সেবুল।  টাকা পাওয়ার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া গিয়ে মামলা দায়ের করেন যাহা দায়রা মোং নং ১৩১৬/১৭ইং এবং  দায়রা মোং নং ১৩১৪/১৭ইং দায়রা মোং নং ১৩১৩/১৭ইং। সোহেল মিয়া নামীয় চেক খানার মামলা মাননীয় যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে দায়রা মোং নং ১৩১৩/১৭ইং এর দির্ঘ্য শুনানীর পর আসামীর অনুপস্থিতিতে ০৯/০৮/২০১৮ইং তারিখে আদালত আসামী সোহেল মিয়া কে ৮ লাখ টাকা জরিমানা  এবং ৬ মাসের কারা দন্ড প্রদান করেন।

 

সফর আলী সেবুল এর নিযুক্তীয় আইনজীবী,বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন সিলেট জেলা শাখার সভাপতি, এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন –মামলাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩য় আদালতে দায়ের করার পর মামলাটি দায়রা মোং নং ১৩১৩/১৭ইং হিসাবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য বদলী হয়। পরবর্তিতে মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলা টি বিচারের জন্য  মাননীয় যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে বদলী করিলে মামলায় বাদীর জবান বন্দি ও বাদীপক্ষ যুক্তি তর্ক করার পর  চেক ও টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামী সোহেল মিয়া কে চেকের দুইগুন জরিমান (যাহা মোট ৪ লাখ এর ২ গুন = ৮ লাখ টাকা) এবং ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন,এবং আসামী সোহেল মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্বে গ্রেফতারী ফরোয়ানা ইস্যু করেন মাননীয় আদালত আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।

 

মামলার আম মোক্তার রাজনগর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান-সোহেল গং প্রতারক সে অনেক লোক কে ঠকিয়েছে। এরকম জাল ভিসা এবং পাসপোট বানানো তার কাজ। আমরা আদালতের রায়ে সন্তষ্ট।

মামলার বাদী সফর আলী সেবুল জানান –সোহেল গং এলাকার প্রতারক সে অনেক লোক কে ঠকিয়েছে,একাধিকভার ট্রেভেলসের নাম বদলাইয়া  অনেক লোক কে প্রতারিত করছে। বিদেশ নেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তার কাজ। এরকম জাল ভিসা এবং পাসপোট বানানো তার কাজ। আমরা আদালতের রায়ে সন্তষ্ট।

Related posts