November 21, 2018

সোনারগাঁয়ে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ; আহত অর্ধশতাধিক

সোনারগাঁয়ে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ অধিপত্য বিস্তার ও মেঘনা নদীর বালু মহাল নিয়ন্ত্রনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থলে কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছে। সংঘর্ষের সময় হারুন শেখের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। বুধবার বিকেলে সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুর ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ চরহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় উভয় পক্ষের মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সোনারগাঁওয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় বালু মহালের ইজারা পায় আওয়ামী লীগ সমর্থক ঈমান আলী ও হারুন শেখ গ্রুপ। উপজেলার সম্ভুপুরা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিরউদ্দিন মেম্বার মুন্সীগঞ্জ জেলায় বালু মহালের ইজারা পায়। বালু মহালের বালু উত্তোলন ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বুধবার সকালে নাছির উদ্দিন মেম্বার গ্রুপ ও স্থানীয় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে নদী ভাঙ্গনের ঠেকানোর অজুহাত তুলে হারুন গ্রুপের বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। এই নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাছির উদ্দিন মেম্বার গ্রুপ অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর চালায়।

এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। হামলায় হারুন গ্রপের ২০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ দুই গ্রুপকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে চলে আসলে বিকেলে হারুন গ্রুপের লোকজন অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষ নাছির উদ্দিন মেম্বার গ্রুপের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় প্রায় ৩০ জন। সংঘর্ষের সময় শর্টগানের গুলিতে উভয় পক্ষের আলম, নজরুল, জুম্মন, ফারুক, জয়নাল, মরজাল, রাকিব, জয়নাল, মেহেদী, রাজু, ইয়ামিন, জব্বর, হায়দার, সুজন দেলোয়ার, সাইফুল, মঞ্জুর হক, গাফ্ফার, আরিফ, আল-আমিন ও ইয়াসিনসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে।

আহতের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র,নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আলম, ফারুক, মেহেদী, ইয়ামিনসহ ৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় উভয় পক্ষের মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে নাছির উদ্দিন মেম্বার জানান, অবৈধভাবে গ্রাম ঘেষে বালু উত্তোলন করায় বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই কারণে চরহোগলা গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের ধাওয়া দিলে বালু সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায় ও বাড়িঘরে ভাংচুর করে।

হারুন শেখ জানান, আমরা বৈধভাবে চরকিশোরগঞ্জ বালু মহাল ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছি। নাসির মেম্বার বালু মহালের ইজারা না পেয়ে নাসির মেম্বারের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা করে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: মঞ্জুর কাদের জানান, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সকালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিকেলের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে জানা নেই।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts