November 16, 2018

‘সেলিম তুমি তো ওলি হয়ে গেছ, কোটি কোটি মানুষ দোয়া করছে’

সেলিম

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির এমপি একেএম সেলিম ওসমান জানান,”এরশাদ আমাকে বলেছেন, তোমার সাথে আল্লাহ আছেন, আমরা আছি। সেলিম তুমি তো ওলি হয়ে গেছ। তোমার জন্য কয়েক কোটি মানুষ মসজিদে মসজিদে দোয়া করছে।”

এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জে পিয়ার লতিফ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত, লজ্জিত।

এসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করার কথা জানান তিনি। প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়ে তা বাতিল করেন তিনি।

সেলিম ওসমান বলেন, এরশাদ আমাকে বলেছেন, তোমার সাথে আল্লাহ আছেন, আমরা আছি। সেলিম তুমি তো ওলি হয়ে গেছ। তোমার জন্য কয়েক কোটি মানুষ মসজিদে মসজিদে দোয়া করছে।

এসময় স্থাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও একজন সংসদ সদস্যেরও সমালোচনা করেন সেলিম ওসমান।

কান ধরে ওঠবসের ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে শামীম ওসমানের ভাই বলেন, তদন্ত করতে করতে স্কুলের শিশুদের মিথ্যাবাদী বানানো হচ্ছে।

স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তর বিরুদ্ধে তার কাছে কোটি টাকা দাবির অভিযোগ করেন সেলিম ওসমান।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে গত ১৩ মে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখে এলাকাবাসী। ওই সময় পরে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়।

উপস্থিত হয়ে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান শিক্ষক ইসলাম অবমাননার দোষ স্বীকার করলে জন রোষের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রকাশ্যে তাকে কান ধরে ওঠবস করার শাস্তি দেন সেলিম ওসমান। কান ধরে ওঠবসের পর সমবেত জনতার কাছে করজোড়ে মাফ চান শিক্ষক ভক্ত।

এরপর এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে প্রধান শিক্ষককে পুলিশের হেফাজতে স্কুল থেকে বের করে পুলিশ চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে শিক্ষককে চাকরি চ্যূত করা হয়।

এরপর শ্যামল কান্তি ভক্তকে চাকরিতে বহাল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে সেলিম ওসমান অভিযোগ করেন তারকাছে ইসলাম অবমাননার সব ধরনের তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।

এরপর শিক্ষকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তাকে দেখতে গেলে শিক্ষক ভক্ত তার পায়ে সেজদায় পড়ে যায়। ওই সময় নাসিম বলেছিলেন, লজ্জা থাকলে সেলিম ওসমান আর সংসদে বসবেন না।

Related posts