September 24, 2018

সেলিম ওসমান ও শ্যামল কান্তি ইস্যুঃ ডিসি’র প্রতিবেদন পেশ,এসপি ওসি’র ৪ আগস্ট

রফিকুল ইসলাম রফিক             
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সেলিম ওসমান ও শ্যামল কান্তি ইস্যুতে জেলা প্রশাসক তাঁর প্রতিবেদন দিয়েছেন। একই সাথে জেলা পুলিশের প্রতিবেদনের সময় বাড়ানোর আবেদনে, ৪ আগস্ট পুননির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। এদিকে শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসনের নতুন প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে নিয়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গতকাল বুধবার তাঁরা আরও দুই মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার ৪ আগস্ট পুননির্ধারণ করে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বে বৃহস্পতিবার (৮জুন) এ আদেশ দেন।

আদালতের জারি করা রুলের প্রেক্ষিতে গত ২৯ মে প্রশাসনের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে এটাকে দায়সারা বলেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৮ জুনের মধ্যে নতুন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসন থেকে বুধবার (৮ আগস্ট) তাদের নতুন প্রতিবেদন দাখিল করে।

অপরদিকে সময় আবেদনে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় নতুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব নয়।
প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের সময় আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সকালে হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত জেলা প্রশাসনের নতুন তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করে। একইসঙ্গে পুলিশকে নতুন প্রতিবেদন দাখিলে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এরপর ৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়।

গত ১৪ মে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হলে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে উঠবস করানো হয়।

এ ঘটনায় ১৮ মে নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই ঘটনায় কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের ৩ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়।
সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষকের কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

সেই রুলের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। প্রশাসনের দাখিল করা তিনটি প্রতিবেদনকে দায়সারা গোছের উল্লেখ করে ফের এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

সেলিম ওসমান ও শ্যামল কান্তির আরও কিছু খবর……।

আরো দুই মাস জমজম’র পানি পান করেই বাঁচতে হবে সেলিম ওসমানকে!

আরো দুই মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ ও বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানকে। সেই সাথে ঔষধের পরিবর্তে মক্কা শরীফের জমজম’র পানি পান করেই বাঁচতে হবে তাকে।

কেননা, বন্দরে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জেলা পুলিশ প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ হাইকোর্টে জমা দেয়ার আরো দুই মাস সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নিজের দেয়া কথা রাখতে গিয়ে এখন সেলিম ওসমানকে সকল প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে আরো দুই মাস বিরত থাকতে হচ্ছে। যদিও পুনরায় দায়িত্ব নিতে ইতিমধ্যেই সেলিম ওসমানকে অনুরোধ জানিয়েছিল বিকেএমইএ পরিচালনা কমিটি।

গত ১৩ মে বন্দর পিয়ার সাত্তার লতিফ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তির নামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে বলা হয় তিনি ইসলাম ধর্মের কটুক্তি করে কথা বলেছেন। এরপর এই শিক্ষককে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে গৃহবন্দী করে রাখে। পরবর্তীতে সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমান জনরোষের কবল থেকে বাঁচাতে ধর্ম অবমাননার অপরাধে ওই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করান। যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

যার ফলশ্রতিতে সাংসদের উপস্থিতিতে শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত ধর্ম অবমাননার অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি মাউশি।

এরপর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসিন রশিদ হাইকোর্টের নজরে নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

একইসঙ্গে এ ঘটনায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কি আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে ডিসি, এসপি এবং ওসিকে নির্দেশ দেন।

এর একদিন পর নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাংসদ সেলিম ওসমান উক্ত ঘটনার তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ, বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির চেয়ারে না বসার ঘোষণা দেন। সেই সাথে তিনি বলেছিলেন, তিনি ডাক্তার দেখানোর জন্য সিঙ্গাপুর যেতে না পারায় বর্তমানে ঔষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় তার পরিবর্তে মক্কা শরীফের জমজমের পানি করছেন। এবং যতদিন তদন্ত শেষ না হবে ততদিন ঔষুধের পরিবর্তে জমজমের পানিই পান করবেন।

তারপর, শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় গত ২৯ মে পুলিশ হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু সেটি ‘দায়সারা’ প্রতিবেদন উল্লেখ করে তা ফেরত দিয়ে পুনরায় তদন্ত শেষে ৮ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। শুনানীর দিন ছিল ৯ জুন।

যার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বন্দরে একটি অনুষ্ঠানে যেয়ে সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছিলেন, আমার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে তার জবাব ৯ জুন আদালতে পেয়ে যাবে।

কিন্তু বিধিবাম, বুধবার (৮ জুন) জেলা প্রশাসন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলেও এসপি ও ওসি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও দুই মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৯ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বে  আগামী ৪ আগষ্টের মধ্যে এসপি ও ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আগামী ৭ আগস্ট যেটির পরবর্তী শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

সেলিম ওসমান ও শ্যামল কান্তি ইস্যু যা আছে জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে

নারায়ণগঞ্জে স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় করা জিডির তদন্তে যে ফল পাওয়া গেছে, তা হলফনামা আকারে ৪ অগাস্ট আদালতে দাখিল করতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বে  বৃহস্পতিবার এ আদেশ দিয়ে জানিয়েছে, বিষয়টি  আগামী ৭ অগাস্ট আদেশের জন্য আবার তালিকায় আসবে।
ওই ঘটনার তদন্তে ‘অগ্রগতি আছে’ জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসি বুধবার হাই কোর্টে প্রতিবেদন দিতে ৬০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করে।

বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন আদালতের সামনে তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যে দুই আইনজীবী শিক্ষক লাঞ্ছনার বিষয়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনেছিলেন, তাদের মধ্যে মহসিন রশিদও আদালতে উপন্থিত ছিলেন। পরে আদালত জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে পুলিশকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ৪ অগাস্ট দিন ঠিক করে দেন।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে মারধর করে স্থানীয় একদল লোক। পরে তাকে কান ধরিয়ে উঠ-বস করান স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল পর্যদের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, প্রধান শিক্ষক তার পদে বহাল আছেন। নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্কুল কমিটিও বাতিল করে মন্ত্রণালয়।

ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রে আসা প্রতিবেদন ১৮ মে আদালতের নজরে আনেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসীন রশিদ। সেদিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয়।

সাংসদ সেলিম ওসমানসহ ওই ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছ- তা জানতে চায় আদালত।
আদেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশও দেয় আদালত। এর ধারাবাহিকতায় ২৯ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত সেদিন বলে, ‘দায়সারা নয়’, ৮ জুনের মধ্যে ‘সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ’ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রতিবেদনের ভাষ্য

জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের ভাষ্য, ১৩ মে ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ১৬ মে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়। সভার আলোচ্যসূচিতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার বিষয়টিও ছিল।

প্রতিবেদন অনুসারে, সভায় এ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়, যার প্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের প্রেক্ষিতে ওই কমিটির কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং বিষয়টি ফোনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। সভায় নতুন করে যাতে সহিংসতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যদের নির্দেশ এবং শিক্ষকের যথাযথ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখাতে বলা হয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার বলেন, জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বিশেষ সভা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সভায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার, র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক, কোস্ট গার্ড সদস্য, আনসার-বিডিবির জেলা কমান্ড্যান্ট, এনএসআই-এর উপ-পরিচালক, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নৌ-পুলিশের পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।

কোর কমিটির সিদ্ধান্ত ঊদ্ধৃত করে মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ওই সভায় প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের সম্মানহানির বিষয়ে করা জিডি ও নিম্ন আদালত তদন্তের যে অনুমতি দিয়েছে সে বিষয়ে আইনি কার্যক্রম যথাযথভাবে পালন করা, ওই শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করা, স্কুল পাশ্ববর্তী এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে এবং ওই এলাকার মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা প্রতিবেদন এসেছে বলে জানান তিনি।

ডেপুটি অ্যটর্নি জেনারেল মোতাহার বলেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন বলে সিদ্ধান্ত আসে। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা ও ওই প্রধান শিক্ষককে এ সিদ্ধান্ত ২ জুন অবহিত করা হয় বলে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে এসেছে।

পুলিশের আবেদনের বিষয়ে ডেপুটি অ্যটর্নি জেনারেল বলেন, ঘটনার দিন বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। এজন্য হাই কোর্টে প্রতিবেদন দাখিলে ৬০ দিন সময় চাওয়া হয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৯ মে ২০১৬

Related posts