September 21, 2018

সেলাই দিদিমনি বনাম আমরা

সাব্বির নুর, ঢাকা থেকেঃ গায়ক জেমসের একটা গান আছে “সেলাই দিদিমনি” শিরোনামে।সেই গানটা শোনার পর থেকে গার্মেন্টস এর মেয়ে কর্মীদের আমি সেলাই দিদিমনি বলে ডাকি।
আমরা বাংলাদেশীরা খুব গর্ব করে বলি গার্মেন্টস শিল্পে আমরা খুবই স্বয়ংসম্পূর্ণ।এবং রপ্তানি আয়ের ৭৭% বৈদেশিক মুদ্রা আমরা এই খাত আয় করি।কিন্তু এর পিছনে যাদের অবদান তাদের কথা অনেকটাই আমাদের অজানা, অথবা জানতেও চাই না।কিন্তু একবার ভেবে দেখুনতো তাদের অবদান যারা জ়ীবনের নিরাপত্তাটাও পায় না এই শিল্পে কাজ করতে এসে।

আসুন সেই সেলাই দিদিমনিদেরর গল্প শুনি।

নোংরা কোনো বস্তিতে ছোট্ট একটা ঘরে গাদাগাদি করে জীবন চলে এদের।সেই সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা ডিউটি।সেই জন্য আবার রাত পোহানোর আগে ঘুম থেকে ঊঠে সংসারের সমস্ত কাজ শেষ করে জ়ীবন যুদ্ধে যাওয়া।সেখানে তাদের জন্য নেই কোনো অতিরিক্ত সরকারী সুযোগ সুবিধা, কোনো বাস ভাড়া ডিসকাউন্ট ,বাসে পর্যাপ্ত সংরক্ষিত-মহিলা সিটের সুবিধা কিংবা চিকিৎসা সেবায় কিছুটা ছাড়, যেখানে তারা প্রতিনিয়ত দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে।

রাস্তায় বখাটে বা কর্মস্থলে পুরুষ সহকর্মী এমন কি উর্ধ্বস্থন মালিক কতৃক ইভ টিজিং কিংবা সেক্সুয়াল হেরেসমেন্টের শিকার হয়েও এরা পরিবারের একটু সচ্ছলতার আশায় এরা খেটে যায় দিনের পর দিন।জানি না এতে তাদের সংসারের চাকা কতোটুকুই বা ঘুরে।
অযত্নে ,অবহেলায় সন্তানটা হয়তো প্রতিনিয়ত নানা রোগ নিয়ে কোনোরকমে বেঁচে থাকে,কিন্তু এরা মানুষের মতো মানুষ হয়না।

অথচ তাদের মৃত্যু আজকাল হয় কর্মস্থলে আগুন লাগার কারণে অথবা ভবন ধ্বসে।

তারা কি এতটাই নগন্য যে তারা তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুটাও কামনা করতে পারে না?

একটু ভেবে দেখুন তো যারা আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাটাকে সচল রাখছে তারা তাদের নিজেদের ভাগ্যের চাকা কতটুকু ঘুরাতে পারছে ?

লেখকঃ

সাব্বির নুর, অনলাইন এক্টিভিস্ট ও শিক্ষক। 

Related posts