November 18, 2018

সেপ্টেম্বরের আগে চিকুনগুনিয়া কমার লক্ষণ নেই

Captureঢাকা::আগামী সেপ্টেম্বরের আগে কমছে না চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ। এ সময়ের মধ্যে ভোগান্তি এক রকম কপালের লিখন বলেই ধরে নিচ্ছেন নগরবাসী। কারণ বাংলাদেশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়ে থাকে। এমনকি কোনো কোনো সময় অক্টোবর মাসেও বৃষ্টি হয়ে থাকে। বিরতি দিয়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে সে পরিবেশটাই এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ সময়। ফলে আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া এমনকি ডেঙ্গু মশা থেকে মুক্তি মিলছে না বলেই মনে করছেন রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা।
রাজধানী ঢাকা মশার আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্র দীর্ঘ দিন ধরে। রাজধানীর এখানে-সেখানে রয়েছে খানাখন্দ। ঢাকায় নির্মাণকাজ চলে বছরের ১২ মাস এবং সর্বত্র। ফলে নতুন করে খানাখন্দ তৈরি হয়ে থাকে। আইইডিসিআরের একজন বিজ্ঞানী জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা বাড়ির পাশেই মশা প্রজননের প্রচুর সুযোগ তৈরি করে থাকি। বর্ষা মওসুমে এখানে নিজেদের বাড়ির পাশেই গর্ত তৈরি হয়ে থাকলেও নগরবাসীর অনেকে কখনোই গর্তগুলো বন্ধ করে দেন না এখানে মশা ডিম ছেড়ে বংশ বিস্তার করতে পারে জানা সত্ত্বেও। এ দিক থেকে বলতে গেলে বলা যায়, আমরা প্রচণ্ড রকমের আত্মকেন্দ্রিক। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনা করে চিন্তা অথবা কার্যক্রম আমরা নিতে পারি না। জাতি হিসেবে এটা খুবই লজ্জাজনক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইইডিসিআরের ওই বিজ্ঞানী জানান, সরকারি চাকরি করি বলে অনেক কথা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব হয় না। তিনি জানান, নগরবাসী নিজেদের বাড়ির ভেতরের মশা জন্মানোর পরিবেশ ধ্বংস করার পাশাপাশি নিজের বাড়ির আশপাশের মশার প্রজননের পরিবেশ নষ্ট করে দিলে চিকুনগুনিয়ার মতো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পারতাম।
এ দিকে মশা ধ্বংস করার দায়িত্ব ঢাকা সিটির দুই মেয়রের হলেও তারা কার্যত মশা মারতে ব্যর্থ। সংবাদ সম্মেলনে ‘বাসায় বাসায় মশারি টাঙিয়ে দিতে পারব না’ বলার অর্থ হলো- তারা মশা মারতে ব্যর্থ বলে মনে করেন রাজধানীর রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মো: মাহমুদুল হক। পেশায় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, মশা মারাও মেয়রের কাজের মধ্যে পড়ে। বাসার বাইরে মশা না থাকলে বাসায় মশা ঢুকবে না। আর বাসায় মশা না ঢুকলে মশারি টাঙানোর প্রশ্ন আসে না। মাহমুদুল হক জানান, মেয়রকে বাসায় গিয়ে মশারি টাঙিয়ে দিতে নগরবাসী বলে না, তারা এটা আশাও করে না। তিনি বলেন, আমার বাসার আশপাশে মশা মারতে কখন ফগিং করা হয়েছে তা আমি মনে করতে পারছি না।
ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বাসায় গিয়ে মশারি টাঙাতে পারবেন না জানিয়ে দিলেও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন জুন মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে তো আসেনি বরং এটা রাজধানীতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন রাজধানীর প্রায় প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টেই ঢুকে পড়েছে এবং মানুষকে আক্রান্ত করছে। আর এ সুযোগে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর মাধ্যমে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসা করে নিচ্ছে। বাস্তবতা হলো আইইডিসিআর ছাড়া অন্য কোথাও নির্দিষ্ট করে শনাক্ত করতে পারে না যে রোগীর মধ্যে চিকুনগুনিয়ার জীবাণু রয়েছে। তারা কেবল অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে ভাইরাসের উপস্থিতি প্রমাণ করতে পারে। সে ভাইরাসটি ঠিক চিকুনগুনিয়া কি না তা বলা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না উন্নত মানের মেশিন না থাকায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবুপিকটাস প্রজাতির মশা চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু বহন করে থাকে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা: মিরজাদী সেব্রিনা ফোরা জানান, এডিস মশা পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে জন্মায়। যাদের আশপাশে এ রকম মশার বংশ বৃদ্ধির জায়গা আছে তারা এ চিকুনগুনিয়া অথবা ডেঙ্গু জ্বরের ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। এরা ভোরবেলা ও সন্ধ্যার সময় বেশি কামড়াতে পছন্দ করে। চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা কামড়ালে জ্বরটি হয়ে থাকে। এভাবে রোগাক্রান্ত মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করলে এবং ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার সময় অসাবধানতাবশত এ রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Related posts