September 26, 2018

সেকেন্ড হোমের তালিকায় ৩য় স্থানে বাংলাদেশঃ মাঠে নামছে সরকার

03 Apr, 2016, ঢাকাঃঃ মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের অধিকাংশই অবৈধ অর্থে করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের পাচার করা অর্থে এ সেকেন্ড হোম করা হয়েছে নিজ নামে, স্বজন ও বন্ধুদের নামে। এদের মধ্যে শতাধিক দুর্নীতিবাজ জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রার রয়েছেন। রয়েছেন অর্ধশত রাজনীতিক ও শতাধিক ব্যবসায়ী। শীর্ষ সন্ত্রাসীও আছে কয়েকজন। সেকেন্ড হোমের তালিকা নিয়ে সম্পদ ও অর্থের অনুসন্ধানে নেমেছে এনবিআর ও দুদকের টিম। এমনকি সেকেন্ড হোমের আবেদনকারীদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। এনবিআর ও দুদক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রথা প্রথম চালু হয় ২০০২ সালে।

প্রথমবার কোনো বাংলাদেশি আবেদন করেননি। তবে ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ৩২ জন আবেদন করেন। বিএনপি-জামায়াতের ৪ বছরে আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার ৪২৯টি। ওয়ান-ইলেভেনের দুই বছরে আবেদন করেন ২১৭ জন। আওয়ামী লীগের ৭ বছরে আবেদন পড়ে ১ হাজার ৩৭০টি।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগ ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাধারীদের তালিকা তৈরি করছে। নাম, ঠিকানা, চাকরি ও ব্যবসাসহ সার্বিক তথ্য সংযোজন সংবলিত পুরো তালিকা প্রস্তুত হলে এনবিআর ও দুদকের বাইরেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং মালয়েশিয়ান হাইকমিশন দিয়ে তদন্ত শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর একজন সদস্য জানান, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অসাধু ব্যবসায়ী ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে ও অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছেন। সরকার পরিবর্তনের অনেকে নিজেদের রক্ষায়, অনেকে বাবসায়িক কারণে আবার কেউ কেউ সন্তানদের ভবিষ্যত চিন্তা করেই সেকেন্ড হোম করছেন। কিন্তু আমরা খতিয়ে দেখছি বৈধভাবে সেকেন্ড হোম করেছেন কিনা?
তিনি আরও জানান, এনবিআরের চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের যুগ্ম পরিচালক সাব্বির আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের টিম মাঠে নেমেছে। এ টিমের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার, সেকেন্ড হোম নির্মাণকারীদের তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে এ টিম গঠন করা হয়।
কমিটির একজন সদস্য জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়াসহ ৩৩টি দেশের যৌথ কর পরিহার চুক্তি রয়েছে। এসব দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বা বাড়ি নির্মাণে যেকোনো একটি দেশে কর দিলেই হয়। এ সুযোগ নিয়ে অনেকেই কোথাও কর দেন না। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, যেকোনো দেশের নাগরিক মালয়েশিয়ার মাই সেকেন্ড হোম প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজেন্সি মারফত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি এ প্রোগ্রামের সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে। এজেন্টের মাধ্যমেও সেকেন্ড হোমের জন্য আবেদন করা যাবে।

ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালটেন্ট লিমিটেড নামে এক সাব-এজেন্টের ওয়েব সাইটে দেখা গেছে, বিশ্বের তৃতীয় সাশ্রয়ী অবসরকালীন অভিবাসন সুবিধা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম। ১০ বছরের নন-মালয়েশিয়ান ভিসার জন্য আবেদন করতে বাংলাদেশি ৫০ বছরের অনূর্ধ্বদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকতে হয় ৫ লাখ রিঙ্গিত বা ১ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং মালয়েশিয়ার ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করতে হয় ৬৫ লাখ টাকা। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সীদের জন্য অ্যাকাউন্টে থাকতে হবে সাড়ে ৩ লাখ রিঙ্গিত বা ৭৫ লাখ টাকা। মালয়েশিয়ায় ফিক্সড ডিপোজিট করতে হবে ৩২ লাখ টাকা। তবে উভয় ক্ষেত্রে মাসিক আয় হতে হবে কমপক্ষে ২ লাখ ১২ হাজার টাকা।

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন, দ্বিতীয় স্থানে জাপান ও তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ, চতুর্থ স্থানে কোরিয়া, পঞ্চম স্থানে যুক্তরাজ্য, ষষ্ঠ স্থানে আয়ারল্যান্ড ও সপ্তম স্থানে সিঙ্গাপুর।

Related posts