November 14, 2018

সেই আবু আজ শতকোটি টাকার মালিক

512
ঢাকাঃ  জিরো থেকে কোটিপতি। তাও যেনতেন কোটিপতি নন, ১০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক! পড়ালেখা খুব বেশি জানতেন না। জমি বিক্রি করে গিয়েছিলেন দুবাইয়ে। সেখানে সখ্য তৈরি হয় আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে। তারপর দেশে এসে মাত্র ৫ বছরেই আঙুল ফুলে কলাগাছ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আবু আহমেদ। দুবাই থেকে চোরাই পথে সোনা বিক্রি করে জমিয়ে তুলেন আরেক অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও। শহরে ও এলাকায় অন্তত ৫০ কোটি টাকার দুটি বাড়ী, মার্কেটে দুটি বড় দোকান, কসমেটিকসের বড় ব্যবসা, না এখানেই শেষ নয় নামে-বেনামে আছে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। চট্টগ্রামের উপ-পুলিশ কমিশনার বাবুল আকতার গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, তার এসব অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে বিশেষ দল।

ব্যাংকে তার নামে কতগুলো অ্যাকাউন্ট আছে তা জানার চেষ্টা করছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সরজমিনে গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রামের ফটিছড়িতে গিয়ে সোনা চোরাচালানি আবু আহমেদ সম্পর্কে পাওয়া গেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিজ গ্রাম স্থানীয় জাহানপুরে তিনি দানবীর আবু নামে বেশ পরিচিত। এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষকে সদায় সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। প্রতি বছর মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে বাড়িতে আয়োজন করেন একাধিক গরু দিয়ে বিশাল মেজবান। এলাকার শত শত বেকার ছেলেকে আরব আমিরাতসহ দেশে বিভিন্ন জায়গায় চাকরির ব্যবস্থা করে নিজ গ্রামে বেশ জনপ্রিয় আবু আহম্মদ। গত সোমবার রাতে নগরীর রিয়াজ উদ্দিন বাজার বাহার মার্কেট থেকে উদ্ধার হওয়া লোহার সিন্দুক ভর্তি সাত কোটি টাকার স্বর্ণের বার ও নগদ ৬০ লাখ টাকার মূল হোতা আবু আহম্মদের নিজ গ্রাম ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগরের জাহানপুর গ্রামে এখন তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

গ্রামে তার বিশাল বিলাসবহুল বাড়ি যে কারো নজর কাটবে। দুই বছর পূর্বে প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে মা ‘জাহানারা ম্যানশন’ নামের এ অট্টালিকা নির্মাণ করলেও আবু এখানে আসেন মাঝে মাঝে। বাড়ির কেয়ার টেকার এমরান জানালেন, সর্বশেষ আবু আহম্মদ বাড়ি আসেন ২৫ দিন পূর্বে। সেবার তিনি এলাকায় আসেন মেজবান আয়োজন উপলক্ষে। এমরান বলেন, স্যার মাঝে মধ্যে এসে রাত কাটিয়ে আবার চলে যান।’ এলাকার লোকজন জানান, ৪০-এর কাছাকাছি বয়সী আবু আহম্মদ স্থানীয় আমজাদ আলী আব্দুল হাদি ইনস্টিটিউটে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।

বাবা ফয়েজ আহম্মদ পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদ তকিরহাট বাজারের একটি সামান্য মুদি দোকানদার ছিলেন। অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ফয়েজ আরব আমিরাতে পাড়ি দেন। পরে ছেলে আবু আহম্মদকেও নিয়ে যান আরব আমিরাতের দুবাইতে। আবু আহম্মদ সেখানে বোরকার দোকানে চাকরি করতেন। বিগত ৭-৮ বছর আগে থেকে এলাকাবাসী জানতে পারেন তিনি দুবাইয়ে বড় ব্যবসা করেন। আবু আহম্মদ এখন কোটিপতি। বিগত তিন বছর আগে থেকে তিনি গ্রাম ছেড়ে পরিবার নিয়ে শহরে বসবাস করছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts