September 19, 2018

সৃজনশীল পদ্ধতি আবারো প্রশ্নবিদ্ধ

Captureবিনোদন ডেস্ক ::

বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতি। সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমা ও জিপিএ৫ ধসের পেছনে অন্যান্য কারণের সাথে উঠে এসেছে সৃজনশীল পদ্ধতির কথা। শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকসহ অনেকেই লাখ লাখ শিক্ষার্থীর খারাপ ফলের পেছনে সৃজনশীল পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন। গত মে মাসে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায়ও খারাপ ফলের পেছনে সৃজনশীল পদ্ধতিকে দায়ী করা হয়েছে।
গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে হঠাৎ করে সৃজনশীল বিষয়ে নতুন ঘোষণা জারির পর সারা দেশের এসএসসি ও এইচএসসির শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। নতুন ঘোষণায় তখন বলা হয়, ছয়টির স্থলে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্ন লিখতে হবে শিক্ষার্থীদের। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা তখন জানিয়েছিল নির্ধারিত সময়ে তারা ছয়টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরই লিখে শেষ করতে পারে না। সেখানে নতুন আরেকটি প্রশ্ন বাড়িয়ে সময় বাড়ানো হয়েছে মাত্র ১০ মিনিট। মোট আড়াই ঘণ্টা সময়ে কিছুতেই সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা সম্ভব নয় বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। তা ছাড়া পরীক্ষার অল্প আগে এ ধরনের ঘোষণায় বিভ্রান্ত হয় শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে তারা সময়স্বল্পতার কারণে সৃজনশীল প্রশ্ন লিখে শেষ করতে পারেনি। সাতটি প্রশ্ন বলা হলেও আসলে প্রত্যেকটি প্রশ্নের অধীনে আবার ক, খ, গ, ঘসহ অনেক প্রশ্ন ও শাখা প্রশাখা রয়েছে। তাই ফল খারাপের জন্য অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি এবং সৃজনশীলের জন্য বরাদ্দকৃত অপর্যাপ্ত সময়কে দায়ী করেছেন এবার। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর নতুন ঘোষণার পর সৃজনশীল নিয়ে শিক্ষার্থীরা তখন যেসব উদ্বেগ আতঙ্কের কথা জানিয়েছিল তা একেবারেই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।
শুরু থেকেই সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে দিশেহারা শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং শিক্ষক। আর বারবার এর খেসারত দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এখন পর্যন্ত এ পদ্ধতি ভালো করে রপ্ত করতে পারেননি অনেক শিক্ষক। অনেক শিক্ষকই যেখানে বিষয়টি ভালো করে বোঝেন না সেখানে শিক্ষার্থী এবং অভিভকদের অবস্থা যে কী তা সহজেই অনুমান করা যায়। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে সৃজনশীল পদ্ধতি চলছে অনেকটাই গোঁজামিল দিয়ে। সৃজনশীলের নামে ইনিয়ে বিনিয়ে মনে যা আসে তাই লিখলেই খাতায় নম্বর দিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষক। তার ওপর ছিল হাত খুলে নম্বর দেয়ার নির্দেশনা। কোনো কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থীকে এ কথাও বলতে শোনা গেছে যে, সৃজনশীল মানে হলো প্রত্যেকের চিন্তাকেই মূল্যায়ন করতে হবে। সুতরাং যার যা মনে আসে তাই লিখবে এবং তাতেই নম্বর দিতে হবে। কিন্তু এবার খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি আরোপ করায় সৃজনশীলের নামে আবোল তাবোল লিখে পার পায়নি অনেক শিক্ষার্থী।
এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ২৬টি বিষয়ে ৫০টি পত্রের সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীা হয়। গত বছর ১৯টি বিষয়ের ৩৬টি পত্রের সৃজনশীল পরীা হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে বিষয় বেড়েছে ৭টি ও পত্র বেড়েছে ১৪টি। এ ছাড়া সর্বশেষ এসএসসি পর এবার এইচএসসিতে এমসিকিউ থেকে ১০ নম্বর কমানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সৃজনশীল প্রশ্ন। তাই এবার এইচএসসিতে পাসের হার কম এবং জিপিএ ৫-এ ধস নামার পেছনে সৃজনশীল পদ্ধতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অনেকে।
রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও মুগদা শাখার প্রধান দেওয়ান বাকিউল্লাহ বলেন, আমাদেরকেও অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে তারা সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখে শেষ করতে পারেনি সময়স্বল্পতার কারনে। পাসের হার কমা এবং জিপিএ ৫-এ ধস নামার জন্য সৃজনশীল পদ্ধতি দায়ী কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতি আগে যে একেবারে ছিল না তা নয়। আগেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনা খরচ করে অনেক প্রশ্নের উত্তর লিখত। কিন্তু বর্তমানে সৃজনশীল পদ্ধতি যেভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তা আসলে সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।
কুমিল্লা বোর্ডের বাংলার প্রধান পরীক কামাল উদ্দিন ফল ধসের কারণ হিসেবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এবার সব বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে। কিন্তু গ্রামের শিার্থীরা সৃজনশীল পদ্ধতি থেকে অনেক দূরে। সৃজনশীল পদ্ধতি ভালোভাবে বুঝতে না পারায় কুমিল্লা বোর্ডের ফল খারাপ হয়েছে।
এ ছাড়া অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অনেকে এখনো সৃজনশীল পদ্ধতি ভালো করে বুঝে উঠতে পারেনি।
বছরের পর বছর ধরে সৃজনশীল নিয়ে ভীষণরকমের ভীতি আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকেরা। কয়েক বছর ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে সৃষ্ট প্রতিটি নৈরাজ্য আর বিশৃঙ্খলার চরম মূল্য দিয়েছে সারা দেশের কোটি শিক্ষার্থী আর অভিভাবক। প্রচ হতাশা, ক্ষোভ বিরাজ করছে তাদের মাঝে। অনেকে ভেঙে পড়ছেন হতাশায়। বিরাজ করছে এক ধরনের অস্থিরতা। একেক সময় একেক নিয়ম চালু করার কারনে পড়াশোনার প্রতিই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন অনেক শিক্ষার্থী। একথা জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক। শিক্ষা নিয়ে বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতির কারণে হতাশ ুব্ধ অনেক শিক্ষার্থী।
এ বছরের এসএসসি পরীায় এমসিকিউ অংশে ১০ নম্বর কমানো হয়। এ ১০ নম্বর যুক্ত করা হয়েছে সৃজনশীল অংশে। ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর শিা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময়ে সারা দেশে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে।
এরপর গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর আন্তশিক্ষা বোর্ড কর্তৃক জারি করা নিয়মে বলা হয় ২০১৭ সাল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছয়টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয় শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সৃজনশীল নিয়ে আবারো রাস্তায় নামে সারা দেশের এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছয়টির স্থলে সাতটি সৃজনশীল তারা মানবে না। এটি পরিবর্তন করতে হবে। হঠাৎ করে চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তে তারা বিভ্রান্ত। এর প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে ‘মানি না মানবো না, সাতটি সৃজনশীল লিখবনা, আমরা মানুষ রোবট নই, ৭টি সৃজনশীল লিখব না, ৭টি সৃজনশীল বাতিল কর’ প্রভৃতি স্লোগান সংবলিত ব্যানার লিখে রাস্তায় অবস্থান করে। এসময় তাদের সাথে অনেক অভিভাবকও যোগ দেন।
এইচএসসির শিক্ষার্থীরা তখন জানান আগামী ২২ অক্টোবর (২০১৬) তাদের টেস্ট পরীক্ষা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ফাইনাল পরীক্ষা। এমন সময় হঠাৎ করে আমাদের ওপর নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেয়া হলো। আমাদের কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই। আমরা আগে সাতটি সৃজনশীল লিখিনি। তা ছাড়া সৃজনশীল লেখার জন্য খুবই কম সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। আগে ছয়টি প্রশ্নের জন্য সময় ছিল ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট। এখন একটি প্রশ্ন বাড়িয়ে সময় বাড়িয়েছে মাত্র ১০ মিনিট। এখন সাতটি সৃজনশীলের জন্য মোট সময় দেয়া হয়েছে আড়াই ঘণ্টা। যেখানে আগেই ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ছয়টি প্রশ্ন লিখে শেষ করা যেত না, এখন সেখানে একটি প্রশ্ন বাড়িয়ে মাত্র ১০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছে। এত কম সময়ে আমরা কিভাবে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখব। এটি কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা এটি বাতিল চাই। আমাদের ওপর এভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া অন্যায়।
শিক্ষার্থীদের এ আশঙ্কা এবং উদ্বেগ যে একেবারেই সঠিক ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ফলধসের মাধ্যমে।
একসময় সারা দেশের শিক্ষার্থীরা গণিতে সৃজনশীল চালুর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। ২০১০ সালে এসএসসিতে প্রথমবারের মতো দু’টি বিষয়ে সৃজনশীল পরীক্ষাব্যবস্থা চালু হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিষয় বাড়ানো হয়। এইচএসসিওতেও বর্তমানে প্রায় সব বিষয় সৃজনশীলের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তা ছাড়া প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকেরও প্রায় সব বিষয়ে পর্যায়ক্রমে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। একের পর এক বিভিন্ন বিষয় সৃজনশীলের আওতায় নিয়ে আসায় প্রায়ই প্রতিবাদে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। যদিও সৃজনশীল পদ্ধতি রপ্ত করার বিষয়ে সরকারি প্রতিবেদনই অত্যন্ত নাজুক চিত্র বেরিয়ে এসেছে বিভিন্ন সময়।
গ্রামপর্যায়ের বেশির ভাগ শিক্ষক এখনো সৃজনশীল পদ্ধতি ভালো করে রপ্ত করতে পারেননি। এখনো সৃজনশীল নিয়ে ভীতি কাজ করছে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এমনকি অনেক শিক্ষকও বিষয়টি ভালো করে বোঝেন না। ফলে আগে নোট গাইড কিনত ছাত্রছাত্রীরা আর সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পর এখন শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকেরাও কিনছেন নোট গাইড। নোট গাইডের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরশলীতা আগের তুলনায় বেড়েছে কয়েক গুণ। অথচ সৃজনশীল ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের নোট গাইড-নির্ভরতা কমবে এমনটাই আশা করা হয়েছিল। তবে নোট গাইড নিষিদ্ধ থাকলেও সহায়ক গ্রন্থের নামে চলছে জমজমাট এ ব্যবসা।
অপর দিকে সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পর অবারিত হয়েছে প্রাইভেট আর কোচিং ব্যবসা। শিক্ষার্থীদের নোট গাইড-নির্ভরতা যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে কোচিং প্রাইভেট এর প্রতি ঝোঁক এবং নির্ভরতা। সেই সাথে বেড়েছে মডেল টেস্ট-বাণিজ্য। এ ব্যবসায় এখন যুক্ত হয়েছে স্বয়ং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অতিরক্তি কাস আর মডেল টেস্টের নামে বিভিন্ন স্কুল কলেজশিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

কেন এমনটা হল? শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, শিক্ষক নিজেই যেখানে এ পদ্ধতি এখনো ভাল করে বুঝে উঠতে পারছেন না সেখানে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের কী করার আছে? শিক্ষার্থী ও অভিভাকেরা জানান, সৃজনশীল প্রশ্ন কেমন হতে পারে, উত্তর কোন ধরনের হবে এ বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকেরা কাসে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারছেন না। রাজধানীসহ দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বিষয়টি রপ্ত করতে পারলেও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা এখনো অত্যন্ত শোচনীয়। অনেক ক্ষেত্রেই চলছে জোড়াতালি দিয়ে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকেরা জানান, সৃজনশীল নিয়ে এখানো তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যখনই নতুন একটি বিষয় সৃজনশীলের আওতায় আনা হয় তখনই দুশ্চিন্তা শুরু হয়। সৃজনশীলের আওতা যতই বাড়ছে ততই বাড়ছে নোট গাইড এবং কোচিং নির্ভরতা।
ঢাকার বাইরের অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, তারা নিজেরা কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চালিয়ে নিলেও গ্রামের সাধারণ শিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত মা-বাবার এ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। ফলে গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখনো সৃজনশীল বিষয়ে ভীতিজনক অবস্থায় রয়েছে। এ নিয়ে চলছে এক তালগোলে অবস্থা। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কুরে কুরে খাচ্ছে অনেককে।
বাধ্য হয়ে প্রাইভেট কোচিং এবং নোট গাইডের নামে বাজারে আসা বিভিন্ন ধরনের সহায়কা পুস্তকের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানায়, আগে যেখানে একটি বিষয়ে একটি গাইড কিনলে হত এখন সেখানে এক বিষয়ে অনেক সহায়কা বই কিনতে হয় প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানান, যে যে বিষয়ে সৃজনশীল চালু হয়েছে সে সে বিষয়ে নোট গাইড কেনেনি এরকম শিক্ষার্থী সম্ভবত কেউ নেই।
২০১৩ সালে সরকার মাধ্যমিক স্তরের গণিত বিষয়টিকেও সৃজনশীল পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসে। এরপর দেখা গেল ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় প্রায় ৮০ ভাগ ছাত্রছাত্রী গণিতে ফেল করেছে। এ ফলাফলে দিশেহারা হয়ে পড়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক। পাবলিক পরীক্ষায়ও যাতে এ পরিণতি না হয় সে জন্য তারা নিজেরাই উদ্যোগী হন এবং পাগলের মতো ছুটতে থাকেন কোচিং প্রাইভেট নোট গাইডের পেছনে।
সন্তান শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বপ্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয় ১৯৯২ সালে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে। এখনো শিক্ষার মান ধসের অন্যতম সূচনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এ পদ্ধতিকে। এরপর জিপিএ ৫, সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিতর্কিত বিষয় হিসেবে অন্তুর্ভুক্ত হয় আজো যার খেসারত ুদিয়ে চলছে শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিক শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে যে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে তারও পেছনে রয়েছে সৃজনশীল ব্যবস্থা।

Related posts