September 22, 2018

সুন্দরের সুন্দরী ফেরিওয়ালা

tumblr_m7s3td90np1rb40weo1_500

তিনি কপালে ছোট্ট টিপের ঘরোয়া ‘পিকু’, তিনিই আবার অভিজাত ঘাঘরায় রহস্যময়ী ‘লীলা’৷ ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ হুইসল দিলে দক্ষিণী উচ্চারণে তিনি এই ‘মীনাম্মা’ তো, তিনিই আবার হাতে ধরা ধরোয়ালে বীরত্বের ঐশ্বর্যে আর প্রেমের গরিমায় দিওয়ানি ‘মস্তানি’৷ তিনি দীপিকা পাড়ুকোন৷ এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা এবং ভার্সেটাইল অভিনেত্রী৷

মডেলিংজীবন থেকে অভিনয় জীবনে পা রেখেছিলেন বলি-বাদশা শাহরুখ খানের হাত ধরেই৷ আগামী দশকে হিন্দি সিনেমা যে তাঁর অভিনয় ঐশ্বর্যে ভরে উঠবে, তার প্রতিশ্রুতি ছিল প্রথম ছবিতেই৷ কথা রেখেছেন দীপিকা পাড়ুকোন৷ নায়িকার প্রেটোটাইপ ভেঙে প্রায় প্রতি ছবিতে দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন৷ বদলাতে থাকা হিন্দি সিনেমার বাস্তবতায় তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন৷ হেমামালিনী-শ্রীদেবী-মাধুরীদের হাত ধরে নায়িকাদের যে রাস্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তীকালে যে পথে হেঁটে সাফল্য পেয়েছেন, ঐশ্বর্য-প্রিয়াঙ্কারা, সে বলিউডের হাওয়ায় রাখা সে পথের ঠিকানা তিনি পেয়ে গিয়েছিলেন কেরিয়ারের গোড়ার দিকেই৷ ঝলমলে নায়িকা হওয়ার বদলে অভিনেত্রীজীবনকে প্রাধান্য দেন বলেই তাঁর অভিনয়ে এ প্রজন্ম পেয়েছে সার্থক কিছু চরিত্রকে৷ টানা চোখের দৃষ্টিতে রুপোলি পর্দার প্রয়োজনীয় সম্মোহন ও বৈচিত্রের দাবী মেটাতে পারেন বলেই রোহিত সেট্টি থেকে সঞ্জয় লীলা বনশালীর প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠেন তিনিই৷

কেরিয়ারে যত বৈচিত্র খুঁজেছেন, ব্যক্তিগত জীবনও হয়ে উঠেছে তেমনই বৈচিত্রময়৷ একদা বিজয় মালিয়ার ছেলে সিদ্ধার্থ মালিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রেমের খবর ছিল বলিপাড়ার হট টপিক৷ অচিরেই তা পলটে যায়৷ তাঁর জীবনে জায়গা করে নেন কাপুর পরিবারের এ প্রজন্মের হার্টথ্রব রণবীর কাপুর৷ কিছুদিন যেতে না যেতে সে সম্পর্কেও ইতি পড়ে৷ এক রণবীরের সঙ্গে সম্পর্ক চুকলেও আর এক রণবীরের দিকে এগিয়ে যান তিনি৷ জীবনে আসেন রণবীর সিং৷ সম্পর্কের এই ভাঙাগড়া তেমন নতুন কিছু নয়৷ তবে দীপিকা পাড়ুকোন ব্যতিক্রম যেখানে, তা হল ভাঙা সম্পর্কের কাচে বন্ধুত্ব ও পেশাদারিত্বে দেখতে চাননি তিনি৷ আর তাই রণবীর কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙলেও অনস্ক্রিন জুটি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন৷ প্রেমের সম্পর্কের উপরেও বন্ধুত্বের অবস্থান-বলিউডি সিনেমা এতদিন এ কথা বলেছে, দীপিকা তা হতেকলমে করে দেখিয়েছেন৷ ছবি ব্লকবাস্টার হোক না হোক, সম্পর্কের ‘তামাশা’কে নস্যাৎ করে তিনিই এই জেনারেশনের সার্থক প্রতিনিধি হয়ে বলে উঠতে পেরেছেন, ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’৷

তিনি যে নিজেকে প্রজন্মের প্রোটেটাইপ হিসেবে গড়ে তুলছেন তার প্রমাণ দিয়েছেন একাধিকবার৷ চলতি ধারনায় নায়িকারা যখন শরীর প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় মত্ত, তথন দীপিকা ‘ক্লিভেজ’ সর্বস্ব ছবি ছাপার প্রতিবাদ করেছিলেন৷ একজন অভিনেত্রী তথা নারীকে শুধু ক্লিভেজের মাপকাঠিতে দেখার প্রচারলোভী মধ্যমেধার মুখে সপাটে থাপ্পড় কষিয়েছিলেন৷ আজ পূজা বেদীর মেয়ে আলিয়া যখন বলেন, ব্রেস্ট দিয়ে আমার বিচার কেন-আমরা দেখি, এ প্রতিবাদের পথ দীপিকারই হাতে গড়া৷

আগামীদিনে আরও নানা চরিত্র তিনি নিশ্চিতই আমাদের উপহার দেবেন৷ তার মধ্যে যে ছকভাঙা বৈচিত্র থাকবে, সে ইঙ্গিতও তিনি এখন থেকেই দিয়ে রাখছেন৷ আমরা শুধু আশা করব, জীবনেও তিনি এমনই প্রথাভাঙা পাগল হাওয়ার মতো হয়ে থাকবেন৷ ‘পিকু’র ঘরোয়া জীবনের চৌকাঠকে মস্তানির তলোয়ারের ঐশ্বর্যে সকলে মিলিয়ে দিতে পারেন না৷ দীপিকা পাড়ুকোন শুধু একজন নায়িকা বা অভিনেত্রী তো নন, এই প্রজন্মে, ঠিক এই আসামান্যা নারীরই সার্থক ধারণা৷ রুপোলি পরদা মিথ্যায় সুন্দর, কিন্তু কে না জানে, আমাদের চাওয়ার রঙেই সে মিথ্যা এমন সুন্দর হয়ে ওঠে৷ দীপিকা পাড়ুকোন এই সময়ে সেই সুন্দরের সুন্দরী ফেরিওয়ালা৷ তাঁকে জন্মদিনে অভিনন্দন৷

Related posts