September 18, 2018

সুন্দরগঞ্জে রাত পোহালে ভোট, র‌্যাব-বিজিবি’র টহল অব্যহত

zakir pic
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১২ ইউনিয়নে রাত পোহালেই ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইউনিয়নের ১১৫ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলোকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেণ প্রশাসন। নির্বাচন পূর্ব প্রশাসনিক সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন পশাসন। প্রত্যেক কেন্দ্রে অফিসারসহ ৩ জন পুলিশ, ৪টি অস্ত্রসহ ১৭ জন পুরুষ ও মহিলা আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও র‌্যাব-বিজিবি’র টহল অব্যহত।

সন্দরগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন হচ্ছে- বামনডাঙ্গা ইউনিয়নঃ এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত শমেস উদ্দিন (নৌকা), বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মজনু মিয়া (অটোরিকশা) ও জাহেদুল ইসলাম জাবেদ (ঘোড়া)। এছাড়া বিএনপির নাজমু হুদা (ধানের শীষ) ও জাপার রেজাউল হক রেজা (লাঙ্গল)। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল গফুর মন্ডল (আনারস), মাহবুবার রহমান খান (মোটরসাইকেল) ও সমস উদ্দিন (চশমা)। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১০ জন।

সোনারায় ইউনিয়নঃ এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সৈয়দ বদিরুল আহসান (নৌকা), বিএনপির মতিয়ার পারভেজ (ধানের শীষ) জাপার আনছার আলী সরদার (লাঙ্গল), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উদয় নারায়ণ সরকার (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন (মোটরসাইকেল) ও নিশাম উদ্দিন (চশমা)। এখানে ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৩০ জন।

তারাপুর ইউনিয়নঃ এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সামাদ (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) ও একরামুল হক (আনারস)।

বেলকা ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ জন। আওয়ামী লীগের মজিবর রহমান (নৌকা), জাসদের আজিজুল ইসলাম (মশাল), বিএনপির আব্দুল জব্বার দুলাল (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হক সরদার (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান সরদার (চশমা) ও আশরাফুল আলম সরকার (আনারস), ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ (দুটিপাতা) ও শহিদুল ইসলাম নাদিম (ঘোড়া)। এখানে ১৭ হাজার ৫৩৮ জন ভোটার রয়েছে।

দহবন্দ ইউনিয়নঃ চেয়াম্যান প্রার্থী ৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের গোলাম কবির (নৌকা), বিএনপির খোরশেদ আলম (ধানের শীষ), জাপার আব্দুল রাজ্জাক প্রামাণিক (লাঙ্গল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান মন্ডল (আনারস), আমিনুল ইসলাম সাজু (মোটরসাইকেল) ও গোলাম মোস্তা প্রামাণিক (চশমা)। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৮৮ জন।

সর্বানন্দ ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান প্রার্থী ৯ জন। আওয়ামীলীগের এটিএম রফিকুল ইসলাম (নৌকা), বিএনপি’র একেএম নুরুন্নবী মিয়া (ধানের শীষ), জাপা’র মশিউর রহমান সরকার (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুর রহমান (চশমা), শফিউল হোসেন (দুটিপাতা), শহিদুর রহমান (মোটরসাইকেল), শাহজাহান মিয়া (ঘোড়া), শামুছুল আলম (আনারস) ও হাসানুল মান্নান (টেলিফোন)। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৪০৫ জন।

রামজীবন ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান প্রার্থী ১০ জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী সুনীল কুমার বর্মন (নৌকা), জাপা’র এটিএম এনামুল হক মন্টু (লাঙ্গল) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল হুদা সরকার (টেবিল ফ্যান), স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার এটিএম মাজেদুর রহমান (চাকা), ইদ্রিস আলী (অটোরিকশা), এটিএম সাখাওয়াত হোসেন (ঘোড়া), মিজানুর রহমান (চশমা), শাহ মো. মুন্নাফ সরকার (টেলিফোন), সাফায়েত আলী (মোটরসাইকেল) ও হাসান আলী (আনারস)। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭৮ জন।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত মোখলেছুর রহমান রাজু (নৌকা), বিএনপি’র এটিএম রাশেদুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), জাপা’র এটিএম মাহবুব আলম শাহিন (লাঙ্গল), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ (মোটরসাইকেল) ও সাবেক ছাত্র নেতা রওশন আলম আকন্দ (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম সাজু (চশমা), মোখলেছুর রহমান মন্ডল (ঘোড়া)। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৬৬ জন।

ছাপড়হাটী ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। এরা হলেন আওয়ামী লীগের কনক কুমার গোস্বামী (নৌকা), বিএনপির তারা মিয়া (ধানের শীষ), জাপার আশরাফুল আলম (লাঙ্গল), জাসদের মামুন উর রশিদ প্রামাণিক রুবেল (মশাল) ও স্বতন্ত্র আশাদুজ্জামান (রজনীগন্ধ্যা), ইয়াসিন আলী (চশমা), জোস্না বেগম জনতা (আনারস), তাজুল ইসলাম (মোটরসাইকেল), মোফাচ্ছেরুল ইসলাম (ঘোড়া)। ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৩৫ জন।

শান্তিরাম ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। এরা হলেন আওয়ামীলীগের মোস্তাফিজুর রহমান (নৌকা) বিএনপি’র ফারুক হোসেন (ধানের শীষ) জাপা’র শরিফুল ইসলাম শাহিন (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ছামিউল ইসলাম (মোটরসাইকেল), এটিএম মিজানুর রহমান (অটোরিকশা), মমিনুর রহমান (আনারস), আব্দুল মান্নান সরকার হান্নান (ঘোড়া), সাজেদুল ইসলাম (চশমা)। ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৮০ জন।

কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন।আওয়ামীলীগের প্রার্থী শফিউল ইসলাম (নৌকা), বিএনপি’র মনোয়ার আলম সরকার (ধানের শীষ) জাপা’র আশরাফুল আলম চাকলাদার লিটন (লাঙ্গল)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজার রহমান (ঘোড়া) ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল করিম সরকার (চশমা)। ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ১১৮ জন।

শ্রীপুর ইউনিয়নঃ চেয়ারম্যান পদে ৬জন প্রার্থী। এরা হলেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম (নৌকা), বিএনপি’র শাহাদত হোসেন (ধানের শীষ) স্বতন্ত্র আজাহারুল ইসলাম (আনারস), শ্রী জ্যোতিভূষণ বর্মন (মোটরসাইকেল), একেএম ফজলুল হক মন্ডল (ঘোড়া), ও আব্দুল হামিদ সরকার (চশমা)। ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৪৪ জন।

এসব ইউনিয়নের সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্ন ভোটগ্রহনের জন্য পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক তদারকীর দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। এছাড়া পুলিশের ৩টি স্টাইফিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।
এদিকে গত ১ সপ্তাহ ধরে শিব্রাম স্কুল এন্ড কলেজ, রামজীবন ইউনিয়ন পরিষদ, ধুবনী কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে ৪ প্লাটুন বিজিবি অবস্থান করে সার্বক্ষণিক তদারকি করে আসছে। এছাড়া র‌্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জউপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)- হাবিবুল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু ও মনোরম পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Related posts