November 20, 2018

‘শাহ্ আলম নেই কিন্তু আয়ের পথ হয়েছে, কতটাই খুশি হতো’

pic 1

আবুল খায়ের,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সংসার চলছিল না বাবার রোজগারে। বিয়ের উপযুক্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে দুই বোন। এই চিন্তায় দুমড়ে মুছড়ে পড়ে শাহ্ আলম। অবশেষে ঠিক করে এলাকার গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওপারে(ভারত) যাওয়ার। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সে প্রতিবেশী দেশে যায় গরু আনতে । কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি (নিজ দেশে)। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বি,এস,এফ) গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোর বয়সী শাহ্ আলম। এই নির্মম ঘটনার শিকার হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শুটকা বস্তি গ্রামের হত দরিদ্র শের আলীর ছেলে।

pic 3
গত ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শাহ্ আলম নিহত হয়। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের সময় বিজিবির ঠাকুরগাঁও ৩০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.ক. তুষার বিন ইউনুস আবেগ প্রবল হয়ে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটিকে শান্তনা দিতে গিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন শাহ্ আলমের মত আর কেউ যেন এভাবে ঝড়ে না পড়েন। যেই ভাবনা সেই কাজ শুরু করেন তিনি। এ গ্রামকে ঘিরে বিজিবির তদারকিতে কর্মসৃজন একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। স্থাণীয় ভাবে সংগ্রহ দান-অনুদানের ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫শ ২২ টাকা মুলধন নিয়ে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল। এটিকে লোন দিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও। বিজিবির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার (রংপুর) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহফুজুর রহমান এই প্রকল্পের উদ্ধোধন করেন। এলাকার ২৩টি পরিবারের ৮০ জন সদস্য এই প্রকল্প থেকে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। কর্মসুচিতে গরুর খামার, হাঁস মুরগি কবুতর পালন, মাশরুম চাষ, মৌ পালন, বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট,জৈব সার তৈরি, বিভিন্ন প্রকার খাবার ফল,ঔষধি গাছ উৎপাদন ও সবজি চাষ,কুটির শিল্প সহ নানা প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের চিত্ত বিণোদনের জন্য পার্ক স্থাপন করা হয়েছে।
ছেলেটি নেই কিন্তু আয়ের পথ তৈরি করে গেছে শাহ্ আলম। আজ ছেলেটা বেঁচে থাকলে কতটাই খুশি হতো। এই বলে শের আলী বার বার মুর্চ্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় ঘঁড়ির কাটায় বেজে ওঠে বিকাল ৩টা। সে দিনটি ছিলো রোববার(২০মার্চ)। দৈব ক্রমে হাজির হন স্থাণীয় ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী। তিনি জানান বিজিবির উদ্যোগ এলাকায় সাড়া ফেলেছে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় অনেক চোরা কারবারি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে বলে জানান ঐ জনপ্রতিনিধি। শুটকা বস্তি গ্রামের পেয়ারা বেগম বলেন,তিনি সেখানে পাপোস তৈরির কাজ করে ছেলে মেয়ের লেখা পড়া শিখাচ্ছেন। একই সুরে বলেন সাবিনা বেগম তিনিও এ প্রকল্পের উপকার পাচ্ছেন।
বিজিবির ঠাকুরগাঁও -৩০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অধিনায়ক লে.কর্নেল তুষার বিন ইউনুস বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে জেলার সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রসাশস মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিজিবি কর্তৃক যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ ধরনের প্রোগ্রাম সমস্ত সীমান্ত এলাকায় যদি চালু করা যায় তাহলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ হবে বলে এই মন্তব্য করেন তিনি।

Related posts