September 25, 2018

সীমানা বৈষম্য পৌরসভা নির্বাচনেও কোথাও লাখ কোথাও হাজার!

পৌরসভা নির্বাচনের এলাকাভেদে ভোটার সংখ্যায় রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। কোনো পৌরসভায় মাত্র ৬ হাজার, আবার কোনোটিতে ৪ লাখের ওপরে ভোটার রয়েছেন। এর ফলে বড় পৌরসভার প্রার্থীদের ভোটে জয়ী হতে দ্বিগুণ বেগ পেতে হবে। নির্বাচনী ব্যয়ও বেড়ে যাবে অনেক। অন্যদিকে ছোট পৌরসভায় প্রার্থীদের কষ্ট ও ব্যয় অনেকটা কমে গেছে। সীমানা নির্ধারণের সময় এরকম ভোটার বৈষম্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

ভোটার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার বগুড়া পৌরসভায় ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৮ ভোটার। ঠিক উল্টো চিত্র শরীয়তপুর-ভেদরগঞ্জ পৌরসভায়।

এখানে সর্বসাকুল্যে ভোটার রয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ১৫৯। এ বিষয়ে ইসি সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ভোটার সংখ্যায় বৈষম্য তারাও অনুধাবন করেছেন। তবে এক্ষেত্রে তাদের করণীয় কিছু নেই। কারণ হিসেবে সচিব বলেন, পৌরসভা গঠন সরকারের নির্দেশে। স্থানীয় সরকার সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে প্রশাসনের মাধ্যমে সীমানা বিন্যাস করে। তাই আয়তন ও বিস্তৃতি অনুযায়ী ভোটার সংখ্যায় তারতম্য থাকলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাইরে তাদের কিছু করার নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কোথাও ৪ লাখ, কোথাও মাত্র ৬ হাজার- এটা শুধু বৈষম্য নয়, চরম বৈষম্য বলা যায়। এর ফলে কেউ লাখ টাকা খরচ করে মেয়র হবেন, কারও ক্ষেত্রে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এসব বিষয়ে কমিশনের করার কিছু না থাকলেও তারা সরকারকে অনুরোধ জানাতে পারেন, এলাকাভেদে ভোটারের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে। কিন্তু এর কোনো উদ্যোগ নিতে তাদের পক্ষ থেকে দেখি না, যা দুঃখজনক। ১৩ ডিসেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি) উইং থেকে পাঠানো তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১ লাখ থেকে ৪ লাখের ওপরে ভোটার অধ্যুষিত পৌরসভার সংখ্যা ১১টি। আর ১ লাখের নিচে ৬০ হাজারের ওপরে ৩৪টি, ৬০ হাজার থেকে ৪০ হাজারের ওপরে ২২, ৪০ হাজার থেকে ২০ হাজারের ওপরে ৬৭, ২০ হাজার থেকে ১০ হাজারের ওপরে ৯১ এবং শূন্য থেকে ১০ হাজারের মধ্যে ১১টিসহ ২৩৪ পৌরসভায় মোট ভোটার ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৬০৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭ এবং মহিলা ভোটার ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৬।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পৌর এলাকাভেদে ভোটারে বৈষম্য থাকার কারণে বেশি ভোটার অধ্যুষিত এলাকায় বেশি ব্যয় হবে এবং কম ব্যয় হবে যেখানে কম ভোটার রয়েছে।

কমিশন ভোটার অনুপাতে ব্যয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে যেসব পৌরতে ভোটার বেশি সেখানে কমিশনের বেঁধে দেয়া ব্যয়সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি। কারণ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে ভাসমান ভোটার প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে, যা নির্দলীয় ভোট হওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ কম ছিল। এখন ভোট কেনাবেচা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বেশি ভোটার এলাকা : বগুড়া পৌরসভায় ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৮ জন, সাভার পৌরসভায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৯, কুষ্টিয়া পৌরসভায় ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৬৮, যশোর পৌরসভায় ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৯৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৩২২, দিনাজপুর পৌরসভায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৩, টাঙ্গাইল পৌরসভায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯৩, নওগাঁ পৌরসভায় ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৪, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় ১ লাখ ৯৮২, পাবনা পৌরসভায় ১ লাখ ১৯৭ এবং ডামুড্যা পৌরসভায় ১ লাখ ৬০ জন।

সবচেয়ে কম ভোটার এলাকা : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় মাত্র ৬ হাজার ১৫৯ জন, কুয়াকাটা পৌরসভায় ৬ হাজার ৮৪১, বানারীপাড়া পৌরসভায় ৭ হাজার ৩১৫, নগরকান্দা পৌরসভায় ৭ হাজার ৫৩৬, বারইয়ারহাট পৌরসভায় ৭ হাজার ৫৭২, টুঙ্গীপাড়া পৌরসভায় ৭ হাজার ৫৮৩, বেতাগীতে ৭ হাজার ৭১১, কাহালুতে ৯ হাজার ৯২৮ ও বোরহান উদ্দীনে ৮ হাজার ৩৯৪ জন। উল্লেখ্য, ২৪ নভেম্বরের তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ১২ হাজার ৪৫ প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে ৯২৩, কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৫৮৯ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৫৩৩ প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে ৬, কাউন্সিলর পদে ৯৪ ও নারী কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts