December 11, 2018

সিলেট-২ আসনে শেষ-মেশ তিন চৌধুরী আলোচনায়

56677বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী কে হচ্ছেন এনিয়ে দুই উপজেলা জুড়ে চলছে সরব আলোচনা। মহাজোটের প্রার্থী কে হচ্ছে এখনই বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এরজন্য আরও দুই-তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তায় দলের কর্মী ও সমর্থকরা। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন বেশি পেতে তৎপর রয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে আরও চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহা সচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া আবারও মহাজোটের প্রার্থী হতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম নিজ নিজ দলের কাছে জমা দিয়েছেন। গত দুইদিন ধরে মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন চৌধুরীকে ঘিরেই চলছে আলোচনা। তাদের নিয়ে চলছে নানান-হিসাব-নিকাশ। শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন মহাজোটের প্রার্থী তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

বর্তমানে এলাকায় আলোচিতরা হলেন-বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহা সচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করছেন এবার এ আসনে নৌকা প্রতিক পাওয়া যাবে। আর জাতীয় পার্টি দাবি করছে এবারও লাঙ্গল প্রতিকে নির্বাচন হবে। এনিয়ে গত দুইদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড়ে উঠেছে। বর্তমানে তিন চৌধুরীই ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন নিজ নিজ অনুসারীর নেতারাও। আগামী ২৫ নভেম্বর আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে বলে জানাগেছে। তবে কে হাসবেন, কে কাদবেন, এরজন্য অপেক্ষা করতে আরও তিনদিন। তবে তিন চৌধুরীই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাব্যক্ত করেন।

জানাগেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের জন্য আওয়ামী লীগই বিপদ হয়ে দাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমান চৌধুরী কিংবা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা দুইজনই নৌকা প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দেশে এসে বিশাল শোডাউন করেছেন। শফিকুর রহমান চৌধুরী নির্বাচন তফসিল ঘোষনার আগে থেকে এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় অংশ নেন। এলাকায় তার উপস্থিত ছিল সরব। দুটি উপজেলায় শফিক চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা কালে তাদের অনুসারীরাও ঢাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এ কারনে অন্য যে কোন বারের চেয়ে এবার একাধিক সংখ্যক যোগ্য ও গ্রহনযোগ্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চুড়ান্ত পর্যায়ে নমিনেশন পেতে প্রার্থীদের প্রচুর ঘাম ঝরাতে হবে, তা বলার অবকাশ রাখেনা। আওয়ামী লীগের দুটি বলয়ের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মনোনয়ন পাবেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে আওয়ামী লীগ কাজ করবে বলে দলের একাধিক নেতা জানান।

আর তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের নমিনেশন পেতে প্রার্থীদের মধ্যে মাঠে ময়দানে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। শেষ মুহুর্তে দু-পক্ষের কোনো দুইজনের কাছে নমিনেশনের ইয়েস কার্ড শোভা পায় তা এখন কেবল দেখার বিষয়।

Related posts