March 23, 2019

সিলেট-২ আসনে নমিনেশনকে কেন্দ্র করে জোট-মহাজোটের লড়াই

index-6বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি  :: সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট-মহাজোটের প্রার্থী কে হচ্ছেন এনিয়ে দুই উপজেলা জুড়ে চলছে সরব আলোচনা। জোট ও মহাজোটের প্রার্থী কে হচ্ছে এখনই বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এরজন্য আরও দুই-তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তায় দলের কর্মী ও সমর্থকরা। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন বেশি পেতে তৎপর রয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে আরও চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহা সচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া আবারও মহাজোটের প্রার্থী হতে জোর লবিং চালাচ্ছেন।

অপর দিকে, ২০ দলীয় জোট প্রার্থী নিখোঁজ সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা কিংবা তাঁর ছেলে আবরাব ইলিয়াস অর্ণব মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে ২০ দলের শরীক হিসেবে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মুনতাসির আলী এ আসনে জোটের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তৎপর রয়েছেন।
ফলে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জোট-মহাজোটের নমিনেশন পেতে প্রার্থীরা দেশ-বিদেশে জোর লবিং- চালিয়ে আসছেন। এ কারনে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জোট-মহাজোটের প্রার্থী কে হবে তা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানাগেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের জন্য আওয়ামী লীগই বিপদ হয়ে দাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমান চৌধুরী কিংবা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা দুইজনই নৌকা প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দেশে এসে বিশাল শোডাউন করেছেন। শফিকুর রহমান চৌধুরী নির্বাচন তফসিল ঘোষনার আগে থেকে এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় অংশ নেন। এলাকায় তার উপস্থিত ছিল সরব। দুটি উপজেলায় শফিক চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা কালে তাদের অনুসারীরাও ঢাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এ কারনে অন্য যে কোন বারের চেয়ে এবার একাধিক সংখ্যক যোগ্য ও গ্রহনযোগ্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চুড়ান্ত পর্যায়ে নমিনেশন পেতে প্রার্থীদের প্রচুর ঘাম ঝরাতে হবে, তা বলার অবকাশ রাখেনা। আওয়ামী লীগের দুটি বলয়ের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মনোনয়ন পাবেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে আওয়ামী লীগ কাজ করবে বলে দলের একাধিক নেতা জানান।

এদিকে, ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় এ আসনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে এম ইলিয়াস আলী সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী কাছে অল্প ভোটে হেরে যান। তিনি পরাজিত হওয়ার পরও নিজ নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে যাননি। দলকে পূর্ণগঠিত করতে ও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম গতি আনতে সক্ষম হন। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছর পূর্বে তিনি নিখোঁজ হওয়ায় এবং সুনির্দিষ্ট করে তার কোন সন্ধান কেউ বলতে না পারায় এই আসনের সরকার কিংবা বিরোধী দলের কর্মী সমর্থকদের কাছে ভাবনার বিষয় হচ্ছে আগামী নির্বাচনে এই আসনে কে পাচ্ছেন জোটের মনোনয়ন। জোটের মনোনয়ন পেতে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানাগেছে। তবে এ আসনে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদি লুনা কিংবা তার ছেলে আবরাব ইলিয়াস অর্ণব জোটের মনোনয়ন পাওয়ার শতভাগ আশাবাদি স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

আর তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জোট-মহাজোটের নমিনেশন পেতে প্রার্থীদের মধ্যে মাঠে ময়দানে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। শেষ মুহুর্তে দু-পক্ষের কোনো দুইজনের কাছে নমিনেশনের ইয়েস কার্ড শোভা পায় তা এখন কেবল দেখার বিষয়।

Related posts