March 23, 2019

সিলেট-২ আসনে চলছে মনোনয়ন লড়াই – একে অন্যকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি

Sylhet-2মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ সিলেট থেকে :: আগামী ৩০ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সিলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২। এই আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী থাকলেও দলীয় একাধিক প্রার্থী থাকায় অনেকটাই বেকায়দায় আওয়ামীলীগ। জোট-মহাজোটে চলছে মনোনয়ন লড়াই। নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে এই আসনে বিজয়ী হন আওয়ামীলীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী। পরবর্তীতে দশম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি একে অন্যকে ছাড় দিতে নারাজ। অন্যদিকে বিএনপিতে ইলিয়াস পত্নী তাহসিনা রুশরীর লুনা একক প্রার্থী থাকলেও ২৩দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী।

১৯৯১ সালে এ আসনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা শাহ আজিজুর রহমান, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির এম ইলিয়াস আলী, এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন আওয়ামীলীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী। ৯ম ও ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামীলীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানের মধ্যে কোন্দল ছিলো তুঙ্গে। উভয়েই দলীয় মনোনয়ের জন্য ছিলেন মরিয়া। ৯ম সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও মহাজোটের মনোনয় পেয়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন শফিক চৌধুরী। তখন বঞ্চিত হন মুহিব। এরপর ১০ম সংসদ নির্বাচেন ফের শফিক চৌধুরী ও মহিবুর রহমান মনোনয়ন যুদ্ধে অবতির্ণ হলে বঞ্চিত হন দু’জনই। আসনটি চলে যায় জাতীয় পার্টির কব্জায়। মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এমপি হন ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মুহিবুর রহমান বিদ্রুহী প্রার্থী হলেও তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনে এহিয়া চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন শফিক চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। কিন্ত সময়ের ব্যবধানে পাল্টে যায় রাজনীতির চিত্র। এহিয়া চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্ধী মুহিবুর রহমানের সেই দূরত্ব এবার না থাকলেও দূরত্ব সৃষ্টি হয় শফিক চৌধুরীর। তাই এবারের নির্বাচনে এহিয়া চৌধুরীকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগের শফিক চৌধুরী। তিনি এবার নৌকার প্রার্থী হয়ে বিজয়ের মাধ্যমে আবারো শেখ হাসিনাকে এই আসনটি উপহার দিতে চান। অপরদিকে, বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নেতা ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী নির্বাচনের ব্যাপারে এবারও অনড়। জাতীয় পার্টির এই নেতা আসনটি কোন ভাবেই ছাড় দিতে নারাজ।

সূত্রে জানা যায়, সিলেট-৩ আসনের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এবারের নির্বাচনে তাদের আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে কেন্দ্রে দাবি জানিয়ে আসছেন। আবার সিলেট-২ আসনে এবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দিতে কেন্দ্রে জোর দাবি জানিয়েছে আসছেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী। তাই তিনি সিলেট-২ ও সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। তবে সিলেট-২ আসনে মহাজোট থেকে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন ? তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মহাজোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া পর্যন্ত।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও শেফিল্ড শাখার সভাপতি মোহিদ আলী মিঠু ও যুক্তরাজ্য কার্ডিফ আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান। মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর আওয়ামীলীগ। তাই এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তারা কেউ কাউকেই ছাড় দিতে নারাজ। তবে ৬ মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত শফিকুর রহমান চৌধুরী অথবা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীই পেতে পারেন দলীয় মনোনয়ন এমনটাই তৃণমূলের নেতৃকার্মীরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে আভ্যন্তরিন বিরোধ থাকায় কুনটাসা অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। বিভিন্ন মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা জর্জরিত হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনীতির মাঠে নেতাকর্মীদের সবর উপস্থিতি না থাকলেও ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে নিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রস্তুত রয়েছেন লুনাও। অপরদিকে, ২৩দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস এই আসনের তাদের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুসতারি আলীকে জোট থেকে মনোনয়ন প্রদানের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। জোট থেকে মনোনয়ন না পেলে দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নিবে খেলাফত মজলিস, এমনটাই সূত্রে জানা যায়। তবে এই আসনের ভোটাররা ইলিয়াস আলীর বেশ আবেগতাড়িত। তাই এই আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রার্থী হলে ভোট বিপ্লব ঘটবে বলে আশাবাদী বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও খেলাফত মজলিস ছাড়াও এই আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন- সতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার মাওলানা মুহাম্মদ আমির উদ্দিন ও ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা যুগ্ম সম্পাদক আ ক ম এনামুল হক। সব মিলিয়ে সিলেট-২ আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে।

Related posts