March 19, 2019

সিলেট-২ আসনে আবরার ইলিয়াসে উজ্জীবিত বিএনপি

FB_IMG_1542798039743বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্নব দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং জমাদান করায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে তাদের মধ্যে। বিশেষ করে সংগঠনটির তরুণ ও যুব নেতৃত্বের মধ্যে বিরাজ করছে চাঙ্গাভাব। আবরারের মধ্যে তাদের প্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীকে খুঁজতে শুরু করেছেন তারা। তার সাহস, বিচক্ষণতা ও সারগর্ভ বক্তৃতা এবং নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করার কৌশল আকৃষ্ট করেছে দলীয় ঘরানার সকলকেই। অভিজ্ঞ রাজনৈতিকমহল মনে করছেন, এই কয়দিনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তায় মা তাহসিনা রুশদীর লুনাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন আবরার। আর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মা লুনার কোনো ব্যত্যয়ের কারণে পিতার হারানো আসন সিলেট-২ এ ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্নব ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রার্থী হলে রীতিমত ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তিনি।

জানা গেছে, সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম. ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার রাজপথ থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর থেকে এই আসনে বিএনপির হাল ধরেন তার সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনা। দীর্ঘদিন থেকে মাঠে রয়েছেন তিনি। বিগত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করে চমক সৃষ্টি করেন লুনা। তাই, সিলেট-২ আসনে তিনিই হয়ে উঠেন বিএনপির কান্ডারী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন তিনি। একই সময়ে ইলিয়াস-লুনা দম্পতির জ্যেষ্ঠ পুত্র, সদ্য যুক্তরাজ্যে বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জনকারী ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্নবও দলীয় মনোয়নপত্র জমা দেন। মুহুর্তেই আলোচনায় চলে আসেন তিনি। সৃষ্টি হয় নানা প্রশ্নের। পুত্রের মনোনয়ন জমাদানের বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মুখ খোলেন লুনা। জানান, কৌশল হিসেবেই তার জ্যেষ্ঠ ছেলে আবরার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। তবে, এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি যা জানান, তাতে আবরারের দলীয় প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিকে আরও জোরালো করে। তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে আমি (লুনা) নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, তবে আবরারই সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে। লুনার এমন অনিশ্চয়তামূলক বক্তব্যে দু’টানায় পড়লেও আবরার প্রশ্নে নড়েচড়ে ওঠে এ আসনের নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীরা বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সুযোগ্য উত্তরসুরী আবরার ইলিয়াস অর্নব সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে আসলে বিরোধীদের অনেক প্রশ্নের লেটা চুকে যাবে। ধানের শীষ প্রতিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে পিতার হারানো আসন উদ্ধার করবেন তিনি।

দুই উপজেলার তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী জানান, ম্যাডামের (লুনা) নেতৃত্বে সিলেট-২ আসন পুনরুদ্ধারে আমরা অনেক বেশী ঐক্যবদ্ধ। তবে, যদি কোনো কারণে ম্যাডাম সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী না হয়ে প্রিয়নেতার প্রিয় পুত্র আবরার ইলিয়াস অর্নব প্রার্থী হয়ে আসেন, তাহলেও এ আসনে ধানের শীষে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে ইলিয়াস গুমের উপযুক্ত জবাব দেব আমরা।
এ ব্যাপারে কথা হলে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোতাহির আলী বলেন, আশা করছি শেষ পর্যন্ত এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনা-ই ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে এ আসনে নির্বাচন করবেন এবং তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। তবে, কোনো কারণে তার পরিবর্তে ইলিয়াসপুত্র আবরার প্রার্থী হলেও এই আসনে বিএনপির বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, ইলিয়াস পরিবারের সকলেই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে তাদের যেই আসবেন, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।

Related posts