November 17, 2018

সিলেটে ড.মোমেনকে নিয়েই যত সব জল্পনা!

ড. আবদুল মোমেন

সিলেট থেকে নাইমুর রহমানঃ    সিলেটে এখন শুধু ড. আবদুল মোমেনকে নিয়ে নানা গুঞ্জন আর গুঞ্জন। রাজনীতিতে নামছেন কিনা- এ ব্যাপারে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন কিনা- সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়নি। এরপরও তাকে নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। আওয়ামী ঘরানায় তাকে নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। অনেকেই বলছেন, ড. আবদুল মোমেনই হচ্ছেন সিলেট আওয়ামী লীগের পরবর্তী কাণ্ডারী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তিনি। এর কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ড. আবদুল মোমেনকে দেশে নিয়ে এসেছেন। তিনি দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেতে যাচ্ছেন। ড. আবদুল মোমেন। দীর্ঘদিন ছিলেন জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি সিলেটের মানুষের কাছেও একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।

সিলেটের সজ্জন ব্যক্তি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোটভাই হওয়ায় সিলেট আওয়ামী লীগের কাছেও একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। পাশাপাশি সিলেটের মানুষও তাকে এক নামেই  চেনেন। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হলেও সিলেটের মানুষের সুখ-দুঃখে তিনি ছিলেন কাছাকাছি। এমনকি ঈদ-পার্বণে দেশে এসেও মানুষের কাছাকাছি ছুটে গেছেন। বয়স হয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। সে কথা তিনি ইতিপূর্বে সিলেটের মানুষের কাছে বলেছেন। বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে নিতে পারেন অবসর। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হয়তো আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন না তিনি। ফলে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ড. আবদুল মোমেন। এ কারণেই তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকা থেকে নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময়ই শেষ হাসিনা ‘প্রয়োজন’ আছে বলে দেশে নিয়ে আসেন। এর ফলে ড. আবদুল মোমেনকে নিয়ে সিলেটে গুঞ্জনের অন্ত নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা কেউ মুখ ফুটে কিছু বলতে চাচ্ছেন না।

তবে তারা জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট আওয়ামী লীগই নয়, সব মানুষের মুরব্বী। সিলেট-১ আসনের এমপি হওয়ার কারণে তার সঙ্গে কারও কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। আর সিলেট আওয়ামী লীগেরও তিনি এখন একক কাণ্ডারী। সুতরাং তার সিদ্বান্তই চূড়ান্ত। তিনি যে মতামত দিবেন সেটিই তারা মেনে নেবেন। সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রথম দিকে সব বলয়ের নেতারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেননি। কিছু কিছু নেতা তাদের অনুসারী নিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি স্বজ্জন চরিত্রের কারণেই সবাইকে আপন করে নেন। এখন তার গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী। আওয়ামী ঘরানার সবাই অর্থমন্ত্রীকে ‘আপনজন’ হিসেবেই মানেন। এ কারণে তার প্রতি ভালোবাসারও অন্ত নেই। এখনও আওয়ামী লীগের অনেকেই চাচ্ছেন- যতদিন পারেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ‘অভিভাবক’ হয়ে থাকলেই সন্তুষ্ট থাকবেন নেতারা।

এদিকে, জাতিসংঘ থেকে দেশে আসা ড. আবদুল মোমেন ইতিমধ্যে সিলেটের রাজনীতিতে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মিশন থেকে দেশে ফেরার পর আজ তিনি আসছেন সিলেটে। গতকাল সন্ধায় বাসসের সিলেট অফিসের পক্ষ থেকে ড. আবদুল মোমেন সিলেটে আসার কর্মসূচি জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সদ্য বিদায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেন আজ শনিবার নিজ জন্মস্থান সিলেটে আসছেন। দুপুর ১টায় ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টারযোগে তিনি সিলেট নগরীর মেন্দিবাগস্থ আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে অবতরণ করবেন। ৬ বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৯ নভেম্বর নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডন হয়ে তিনি দেশে ফিরেন।’ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সিলেটে পৌঁছে তিনি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহঃ) ও হযরত শাহ্‌পরান (রহঃ) মাজার জিয়ারত করবেন। পরে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাবেন এবং সেখানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন। সন্ধ্যার পর এই কূটনীতিক নগরীর হাফিজ কমপ্লেক্সে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন।

পরের দিন রোববার সকাল দশটায় সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবে। দুপুরে ড. আবদুল মোমেন ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।’ সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা গতকাল জানিয়েছেন, ড. আবদুল মোমেন এর আগে সিলেটে এলেও এভাবে বড় পরিসরে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে বসেননি। অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। যুবলীগের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে, এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। আর এই বৈঠককে ঘিরেও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে। সিলেট আওয়ামী লীগের সিনিয়র এক নেতা জানান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করবেন না বলে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন।

ফলে তার স্থলাভিষিক্তই হচ্ছেন ড. আবদুল মোমেন। তিনি সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। আর এ বিষয়টি গেল এক বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে সিলেট আওয়ামী লীগের পরিবারে। যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের স্থলাভিষিক্ত ড. আবদুল মোমেন হলে আপত্তি থাকবে না কারও। এ বিষয়টি ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। তবে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিংবা ড. আবদুল মোমেনের পক্ষ থেকে এখনও এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts