September 20, 2018

সিরাজগঞ্জের ইউপি নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের কারাদণ্ড!

1জাকিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ: পঞ্চম ধাপে ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও কাজিপুরে ২১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শনিবার ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দুটি উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষ, পুলিশের গুলি ও লাঠির্চাজে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। আহতদের মধ্যে ২৩ জনকে হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে হামলা ও সংঘর্ষের কারণে এ কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে কাজিপুর উপজেলার আফানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল মারার দায়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ফরহাদ হোসেন মাস্টারকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বেলুকচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সাইফুল হাসান হাতে নাতে আটক করার পর তাকে এই দন্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া ২ মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে ওই কেন্দ্রে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ জন আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করায় কিছু সময় পর আবারো ভোট গ্রহন শুরু করা হয়। জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়ার একটি ভোট কেন্দ্রে ২ মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে সকাল ১১টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রে এজেন্টকে বেড় করে দেয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে কেন্দ্রের ৩টি ব্যালট বাক্স ভাংচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ৯ রাউন্ড গুলি বর্ষন ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রন আনে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। এ ছাড়া একই উপজেলার গালা ভোট কেন্দ্রে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্সসহ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং সরকারী দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও অপর দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ১১ রাউন্ড গুলি বর্ষন ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২১ জন। এদের মধ্যে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলের ছোট ভাই খাইরুল গুলিবিদ্ধ হন। এ কারণে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। শাহজাদপুর থানার ওসি রেজাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন । অন্যদিকে এ দুটি উপজেলার কেন্দ্রে সমূহে ভোট গণনা শুরু হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীদের ফলাফল জানা যায়নি। তবে সরকার দলিয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, কাজিপুর উপজেলার ১২টি ইউপির মধ্যে ১১ টি ইউপির ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ইউপিতে সরকার দলিয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। তারা হলেন, সোনামূখি ইউপির আ’লীগ নেতা শাহজাহান আলী, গান্ধাইল ইউপির আশরাফুল আলম, খাসরাজবাড়ী ইউপির গোলাম রাব্বানী, মুনসুর নগর ইউপির আব্দুর রাজ্জাক ও তেকানী ইউপির হারুনার রশিদ।

Related posts