November 19, 2018

‘সিদ্দিকুর রহমানের কাজই হচ্ছে আবিষ্কার-বহিষ্কার এবং তিরস্কার’

আব্দুল হাসিব মামুনঃ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি এখন সময়ের দাবি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের কাজই হচ্ছে আবিষ্কার- বহিষ্কার এবং তিরস্কার। তিনি সভাপতি হিসাবে থাকলে কখনো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ঐক্য ফিরে আসবে না। তার কাজই হচ্ছে দলে অনৈক্য এবং দ্বিধা দ্বন্দ সৃষ্টি করা। তাছাড়া তিনি বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড যথাযথ ভাবে তুলে ধরতে এবং জামাত- শিবিরের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিবারের মত এবারও তিনি তার দল ভারী করার জন্য কমিটিতে নতুন করে কফ্ট করার মূলা ঝুলিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি গার্ডেনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ সব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দূরদিনের কান্ডারী সংগ্রামী নেতা সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আব্দুল জলিল, জয়নাল আবেদীন, ওহিদুর রহমান মুক্তা, নিউইয়র্কে মহানগর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুননবী, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কামান্ডার নূরন্নবী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আনোয়ার হোসেন, নূরুল আফসার সেন্টু, শাসমুল আবেীন, রুহেল চৌধুরী, সমির উদ্দিন, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মহিউদ্দিন মাহি, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু, প্রচার সম্পাদক শাহীন দেলোয়ার, দপ্তর সম্পাদক সাইকুল ইসলাম, মহিলা নেত্রী সেফু রহমান, নীলু চৌধুরী, প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই আব্দুল হাসিব মামুন ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, তাঁর পরিবারবর্গ এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলা নিহত আইভি রহমানসহ অন্যান্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে অবগত হয়েছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের কিছু অসাংগঠনিক বক্তব্য, বিবৃতি, হুমকি- ধামকি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে। যেটা সংগঠনের ঐক্য, সংহতিকেই শুধু বিনষ্ট করছে না বরং সংগঠনের মধ্যে একটা বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। তার এই সকল অনাকাঙ্খিত কার্যক্রম যাতে জনমনে কোন ধরনের বিভ্রান্তি কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বিঘিত করতে না পারে তার জন্য আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।

তিনি আরো বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী সিদ্দিকুর রহমানের অসাংগঠনিক ও আগঠনতান্ত্রিক কার্যক্রমের সবিস্তারে ব্যাখ্যা করার কোন অবকাশ নেই, আপনারা সবই অবগত আছেন। তারপরও এর কয়েকটি এখানে উল্লেখ না করে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত কমিটিকে অবজ্ঞা করে নিজের আজ্ঞাবহ কিছু বির্তকিত ব্যক্তিকে সংগঠনের বিভিন্ন পদ-পদবীতে পদায়ন করার অপচেষ্টা, বিগত প্রায় চার বছর সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির কোন সভা না করা, সংগঠনের তফবিল ব্যবহারের অসচ্ছতা, সহযোগী সংগঠনগুলির মধ্যে নানা বিভক্তি এবং কোন্দল সৃষ্টি করা, কথায় কথায় হাই কমান্ডের দোহাই দিয়ে সাংগঠনিক রীতিনীতিকে অবজ্ঞা করে এখতিহার বহির্ভূতভাবে সংগঠনে আবিষ্কার, বহিস্কার এবং তিরস্কার করা। অথচ মজার বিষয় হলো হাইকমান্ড এই সকল বিষয়ে মোটেই অবগত নয়।

সরকার ও দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে চিহ্নিত রাজাকার এবং ১৫ আগষ্ট নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারী ব্যক্তিদের নিয়ে রাষ্ট্রপ্রতিকে সংবর্ধনা প্রধান করার অপচেষ্টা করা, সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকিকে দিয়ে সরকারের ভাবর্মূতি বিনষ্টকারী বক্তব্য প্রদানে সহায়তা করা। নিজে সংবাদ সম্মেলন করে দেশে সুসাশনের অভাব, দেশের আইন আদালত ও বিচারপ্রতি এবং মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে আপর্ত্তিকর মন্তব্য করা, বিএনপি জামাতের পৌষ্য সিজার-সাফাদি গং কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নির্লিপ্ততার পরিচয় দেওয়া। ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে অধিকাংশ সময় দেশে অবস্থান করা। সংগত কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারে তার ব্যাপারে এক ধরনের আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। যা কিনা প্রধানমন্ত্রীর সার্বজনীন সংবর্ধনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সর্বাত্মক সাফল্য মন্ডিত করার জন্য নিন্ম লিখিত বিষয়গুলি বাস্তবায়ন করা জরুরী বলে আমরা মনে করি।

ক. অনতিবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসমূহের নিকট গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সার্বজনিন সংবর্ধনা কমিটি গঠন করা হবে। খ. ড. সিদ্দিকুর রহমান কর্তৃক ক্ষতবিক্ষত বর্তমান কার্যকরি কমিটি মেয়াদ ইতিমধ্যে পাঁচ বছর হওয়ায় নতুন কার্যনির্বাহি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। গ. প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সাফল্য মন্ডীত করার জন্য বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি দূর করে তাদেরকে যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। ঘ. প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করার জন্য এখন থেকে সর্বাত্মক প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। ঙ. বিএনপি জামাতের যেকোন অপচেষ্টাকে শক্তহাতে প্রতিরোধ করার জন্য নিজেদের মধ্যে সকল দিদ্বা দ্বন্দ ভূলে ঐক্যবন্ধ হওয়া। পরিশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সাফল্যমন্ডীত করার লক্ষ্যে সাংবাদিক সমাজ এবং মুক্তিযোদ্ধের পক্ষের সকলের সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করেন।সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

Related posts