September 21, 2018

‘সিদ্দিকুরের এক চোখের দৃষ্টি ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ’

Captureঢাকা::

বাংলাদেশের ঢাকায় পুলিশের ছোঁড়া টিয়ারশেলের আঘাতে আহত ছাত্র মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান আদৌ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কিনা, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি চিকিৎসকেরা।

আজ সিদ্দিকুরের চোখের অবস্থা পর্যালোচনা করতে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, বাম চোখটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সিদ্দিকুর রহমান ঢাকা তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

সম্প্রতি তিতুমীর কলেজসহ সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু এই কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েন চরম সেশন জটে।

কলেজের শিক্ষার্থীরা রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন।

এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। টিয়ারশেলের দুই চোখে মারাত্মক আহত হন সিদ্দিকুর রহমান। শনিবার তার দুই চোখের অস্ত্রোপচার করা হয়।

আজ চোখের ব্যান্ডেজ খোলার পর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ইফতেখার মনির বিবিসি বাংলাকে বলেন সিদ্দিকুরের একটি চোখের দৃষ্টি ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, সিদ্দিকুরের ডান চোখের ভেতরের অংশ বের হয়ে আসছিল; তা যথাস্থানে বসানো হয়েছে। বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; রক্ত ছিল, তা পরিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের টিয়ার শেলে একজন ছাত্রের চোখের দৃষ্টি হারাতে বসেছে এমন খবর উত্তাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

শাহভাগে ঠিক সেই মুহুর্তে ধারণ করা অসংখ্য ভিডিওচিত্র ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে।

আজ সিদ্দিকুরের চোখের উন্নত চিকিৎসার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে তিতুমীর কলেজের ছাত্ররা। তবে সেখানে তাদের বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহের তারাকান্দার ঢাকেরকান্দা গ্রামে সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ি। তার বড় ভাই নায়েব আলী যিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী, তিনি বলছিলেন সিদ্দিকুরের উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তার পরিবারের নেই।

এদিকে যে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের আঘাতে সিদ্দিকুরের চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন সেই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ , সিদ্দিকুরের উন্নত চিকিৎসার ব্যয় যাতে সরকার বহন করে সেই দাবিতে আগামী দুইদিন তার প্রতিবাদ বিক্ষোভ করবে।

এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে চাননি।

Related posts