September 26, 2018

সিগারেট ছাড়তে চান কিন্তু পারছেন না?

photo

ধূমপান মৃত্যু ঘটায় বা ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর- এমন সতর্ক বার্তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু জেনেও না জানার ভান করি, বুঝেও বুঝি না। এমনকি সব জায়গাতেই এই সাইন বোর্ড চোখে পড়ে প্রতিনিয়ত। কিন্তু পরেকক্ষণেই আমরা অনবিজ্ঞের মতো একটা সিগারেট ধরাতে থাকি৷ আমি-আপনি বললেও এটা সত্যি, আর না বললেও ধ্রুব সত্যি। কারণ ধূমপানের কারণে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, হার্টের রোগের মতো ভয়ঙ্কর ব্যাধি হতে পারে।

এর চেয়ে উদ্বিগ্নের কারণ হলো বাংলাদেশের প্রাপ্ত বয়স্কের ৪৩ শতাংশ তামাক সেবন করে। এই বিপদের হাত থেকে আমরা নিজেদের আর বের করতে পারি না। হোক বা না হোক, নিদেনপক্ষে চেষ্টা শুরু তো করা যেতে পারে। আসুন জেনে নিই ধূমপানমুক্ত জীবন গড়তে কি ধরনের প্রচেষ্টা শুরু করতে হবে-

১) আপনি হয়তো একদিনে ১২-১৫টি সিগারেট খান। আর এতে করে আপনাকে একেবারে ছেড়ে দিতে বললে তা সম্ভব নয়। তাই চেষ্টা করুন আস্তে আস্তে সিগারেটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে। দিনে ১০টি খেলে কমিয়ে আনুন সাতটিতে। সংখ্যাটা যদি ১৫ হয় তবে আজ থেকেই ১১টি খাওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিন। প্রতিদিন এই সংখ্যা ধীরে ধীরে কমান। তাহলে দেখবেন একদিন সিগারেট ছাড়াই আপনার দিন কেটে গেছে।

২) পুরোপুরি যদি নিজেকে ধূমপান থেকে মুক্ত রাখতে চান, তাহলে নিকোটিনের স্বাদ আর গন্ধ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। আপনার ঘরে ফার্নিচারের নীচে বা চারপাশে অল্প বেকিং সোডা ছড়িয়ে রাখতে পারেন৷ আশেপাশে কেউ সিগারেট খেলেও নাকে আর নিকোটিনের গন্ধ আসবে না৷

৩) সিগারেট ছাড়ার আর একটা ভালো বিকল্প চুইংগাম। মুখে চুইংগাম, ললিপাপ বা লজেন্স রাখুন। এতে সবসময় চিবোনোর একটা অনুভূতি থাকবে। সিগারেটের দিকে মন ছুক ছুক করবে না৷

৪) যদি ধূমপান ছাড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকেন, তাহেল প্রথমেই সেইসব জায়গায় যাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিন, যেখানে আপনি একসময় আয়েশ করে সিগারেটের সুখটান দিতেন বা প্রথম যেখানে লুকিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সিগারেট খেতেন।

৫) সিগারেট না খেয়ে মনটা অশান্ত হয়ে উঠছে? পছন্দসই গান চালিয়ে মনটাকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করুন৷

৬) ঘরে রুম ফ্রেশনার বা অন্য সুগন্ধী রাখুন৷ আপনার সিগারেট ছাড়ার সহায়ক হবে৷

৭) সকালে নাস্তার পর, দুপুরে খাওয়ার পর সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আস্তে আস্তে ছাড়ুন৷ চাইলে ওই সময়ে নিজেকে অন্য কোনও কাজে ব্যস্ত রাখুন৷আর যদি সিগারেটের ধোঁওয়া ছাড়া আপনি কফির কাপের দিকে হাত না বাড়ান, তাহলে সিগারেটের সঙ্গে সঙ্গে কফিটাও বাদ দিয়ে দিন জীবন থেকে৷ চায়ের পেয়ালাতেই আপাতত আপনাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে৷

৮) অ্যাশ ট্রে, লাইটার, দেশলাই বাক্স, সিগারেটের প্যাকেট নিজের চৌহদ্দি থেকে আস্তে আস্তে সরিয়ে ফেলুন৷ এগুলো চোখের সামনে থাকলেই সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছেটাকে আপনি নিয়ন্ত্রণ না-ও করতে পারেন৷

৯) কাজের ফাঁকে ফাঁকে সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস থাকলে তা দ্রুত বদলে ফেলুন৷ না হলে যে একদিন মারণরোগের প্রকোপে আপনার জীবনটাই পালটে যাবে৷ কাজের ফাঁকে ফল বা কোনও স্ন্যাকস খেতে পারেন৷ খেতে ইচ্ছে না করলে খানিকক্ষণ কম্পিউটার গেম খেলুন আর তাতেও যদি বসের চোখরাঙানি থাকে, তাহলে অগত্যা ফোনেই না হয় কথা বলে সময় কাটান৷ মন থেকে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছেটা আস্তে আস্তে চলে যাবে।

Related posts