November 15, 2018

‘সিঁড়ি আর হতে চাই না, আবারও ক্ষমতায় যেতে চাই’

ঢাকাঃ  জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, দেশ আজ কীভাবে চলছে সবাই জানে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। সন্ত্রাস, খুন, জঙ্গিবাদ ও চাঁদাবাজি বেড়েছে বেপরোয়াভাবে। এ অবস্থার পরিবর্তন হতেই হবে। আর পরিবর্তন আনতে পারে একমাত্র জাপা। এ জন্য একবারের জন্য হলেও আবার ক্ষমতায় যেতে চাই। অন্য কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি আর হতে চাই না। এককভাবে নির্বাচন করে জাপাকে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। আগামী নির্বাচনে জাপা তিনশ’ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর রমনার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রাঙ্গণসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশে অনুষ্ঠিত জাপার অষ্টম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, জাপা সৃষ্টি হয়েছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। ১৯৮২ সালে আমার ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। দেশের ক্রান্তিকালে সেনাপ্রধান হিসেবে আমার ওপর এই দায়িত্ব এসেছিল। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে আমি ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। এর জন্য ১৯৮৪ সালে নির্বাচন দিই। কিন্তু প্রধান দলগুলো সে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ব্যারাকে ফিরে যেতে পারিনি।

বিভিন্ন সময়ে জাপা ছেড়ে যাওয়া নেতাদের আবার দলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন ‘আপনারা ফিরে আসুন, এসে দলের নেতৃত্ব নিন।’ নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের একটি প্রস্তাব তুলে ধরে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে না। নির্বাচন কমিশন অকেজো হয়ে পড়েছে। নির্বাচন হতে পারে দলের ভিত্তিতে। অর্থাত্ ভোটাররা সরাসরি দলকে ভোট দেবে, কোনো প্রার্থীকে নয়। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা হবে না। বর্তমানে যেভাবে বাংলাদেশে সরকার গঠিত হয়, তাতে কোনো দলই ৫০ শতাংশের ওপরে ভোট পায় না। কিন্তু তারা সরকার গঠন করে।

কাউন্সিলে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, জাপার ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বড় নেতারা অনেক সুযোগ-সুবিধা পান। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা সবসময়ই বঞ্চিত। অতীতের ভুল থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। যখন আমাদের নেতা-কর্মীরা জেলে ছিলেন, তখনও আমরা ৩৫টি আসনে জিতেছিলাম। এখন কেন পারি না।

দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ধারার আমূল পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাপার পাশাপাশি জনগণও আজ জেগে উঠেছে। আমরা এই সম্মেলনকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার মসনদে গিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবো।

এর আগে সকাল ১০টায় এরশাদ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। মতপার্থক্য ভুলে কাউন্সিলে জাপার সকল মত-পথের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, কাজী ফিরোজ রশীদ, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মশিউর রহমান রাঙ্গা, মুজিবল হক চুন্নু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ফখরুল ইমাম, সাইদুর রহমান ট্যাপা, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, সোলায়মান আলম শেঠ, গোলাম হাবিব দুলাল, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, এসএম ফয়সল চিশতি, সুনীল শুভরায়, রিন্টু আনোয়ার, রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, সেলিম উদ্দিন এমপি, ইয়াহিয়া চৌধুরী এমপি, মুনীম চৌধুরী বাবু এমপি, সালাউদ্দিন মুক্তি এমপি, ইকবাল হোসেন রাজু, গোলাম মোহাম্মদ রাজু ও জহিরুল ইসলাম জহির প্রমুখ।

এরশাদ-হাওলাদার স্ব-পদে পুনঃনির্বাচিত

কাউন্সিলে জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে এইচএম এরশাদ পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। মহাসচিব পদে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার নির্বাচিত হন। পাশাপাশি দলের গঠনতন্ত্রের প্রস্তাবনায় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদের পাশাপাশি দল গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য তার স্ত্রী রওশন এরশাদকে প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এছাড়া এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করার বিষয়টিও অনুমোদন করিয়ে নেয়া হয়। দলের নির্বাচন কমিশনের সভাপতি শেখ সিরাজুল ইসলাম পদগুলোতে এই চারজনের নাম প্রস্তাব করলে কাউন্সিলররা তা সমর্থন করেন। কমিটির বাকি পদগুলো পূরণের ক্ষমতা চেয়ারম্যানকে দেয়া হয়েছে। কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রেও কিছু সংশোধনী আনা হয়। এসব সংশোধনী পাঠ করেন গঠনতন্ত্র উপ-কমিটির আহ্বায়ক সুনীল শুভ রায়। এর একটিতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে দলে নতুন পদ তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে চেয়ারম্যান হিসেবে দলে এরশাদের ক্ষমতা আরো বাড়লো।

শো-ডাউন করলেন যারা

কাউন্সিলে শো-ডাউনের দিক থেকে চোখে পড়ার মতো ছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর-কদমতলী থেকে শেখ মাসুক, সুজন দে, কাওসার আহমেদ ও ইব্রাহিম মোল্লার নেতৃত্বে বিশাল মিছিল সম্মেলনস্থলে আসে। মহাসচিব হাওলাদারের এলাকা বরিশাল, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খানের এলাকা চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নেতৃত্বে বিশাল মিছিল আসতে দেখা গেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর থেকেও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ১৭টি দেশের কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৫ মে ২০১৬

Related posts