November 16, 2018

সাফ ফুটবল থেকে বিদায় বাংলাদেশের!

স্পোর্টস রিপোর্টার: এত দ্রুত সাফ মিশন শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তানের সঙ্গে ৪-০ গোলে লজ্জাজনক হার। শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কেরালার ত্রিবান্দ্রাম স্টেডিয়ামে মালদ্বীপের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। যে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। জিতলে সেমির স্বপ্ন টিকে থাকবে। হারলে প্রায় বাদ। শেষটাই হয়েছে। পারেনি বাংলাদেশ। মালদ্বীপের কাছে ৩-১ গোলে হেরে সাফ ফুটবল থেকে প্রায় বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ দল।

প্রায়, এ কারণেই বলা হচ্ছে, শনিবার বি গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে আফগানিস্তান ন্যুনতম ড্র করলেই বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হবে। যে আফগানিস্তান বাংলাদেশকে চার গোল দিতে পারে, তারা দুর্বল ভুটানের সঙ্গে ড্র বা হারবে, তা কল্পনাই করা যায় না। অন্যদিকে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ ফুটবলের প্রথম দল হিসাবে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপ।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা টিকে কিছুটা টিকে ভাগ্যের উপর। আর তা অনেকটাই আফগানিস্তানের হাতে। আফগানিস্তান যদি পরের দুটি ম্যাচেই হেরে যায় ভুটান ও মালদ্বীপের সঙ্গে, আর বাংলাদেশ যদি বড় ব্যবধানে শেষ ম্যাচে হারাতে পারে ভুটানকে, তবেই সেমির খেলা সম্ভাবনা থাকবে বাংলাদেশের। কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান পরের দুটি ম্যাচেই হারবে, তার গ্যারান্টি কই। এক হিসাবে তাই বাংলাদেশের বিদায় চূড়ান্তই।

শুরু থেকে বেশ ভালোই খেলছিল বাংলাদেশ। বল পজিশন ছিল চোখের পড়ার মতো। ১১ মিনিটেই প্রথম গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে জাহিদের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে জড়ায় জালে। ২৬ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ ছিল গোলের। এবার ওয়ালি ফয়সাল মালদ্বীপের রক্ষণকে পাশ কাটিয়ে বল দেন জাহিদকে। জাহিদ হেড নিয়েছিলেন, কিন্তু তা বারপোস্টে লেগে ফেরত আসে। দুর্ভাগ্য মামুুনুলদের।

এর মিনিট দুয়েক পর কাজের কাজটি করতে পারেননি হেমন্ত। জামাল ভূঁইয়ার ক্রস থেকে গোল মুখে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুবিধামতো শট নিতে পারেননি। শুরুর দিকে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করা বাংলাদেশ কিছুক্ষণ পরেই পেনাল্টির বাঁশিতে হতভম্ব। ৪১ মিনিটে মালদ্বীপের ইমাজ আহমেদের শট নিজেদের বক্সের মধ্যে হাত দিয়ে প্রতিহত করেন বাংলাদেশের ওয়ালি ফয়সাল। ফলে পেনাল্টি পায় মালদ্বীপ।

সেই সুযোগ নষ্ট করেননি মালদ্বীপের তুখোর স্ট্রাইকার আলী আশফাক। বা প্রান্ত দিয়ে তিনি পরাস্ত করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলকে। ১-০তে লিড নেয় মালদ্বীপ। শেষ পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছিল না। ৫৩ মিনিটি বাংলাদেশ অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের প্রচেষ্টা পূর্ণতা পায়নি। হেমন্তের ক্রসে তিনি মাথায় ছোয়ালেও বল খুঁজে পায়নি জাল। ৫৫ মিনিটে রাইট উইংয়ে আব্দুল্লাহকে পরাস্ত করে বল পাঠিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের বক্সে, কিন্তু সেই সুযোগ নিতে পারেনি বাংলাদেশের কেউ।

এর মিনিট তিনেক পর মাঝ মাঠ থেকে রায়হান বল দেন উইঙ্গার জাহিদকে। জাহিদ দারুণ ক্রস দিয়েছিলেন, কিন্তু তা ধরতে পারেনি হেমন্ত কিংবা শাখাওয়াত। আবারও হতাশা। এরই মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ তিনটি কর্ণার পায়, কিন্তু কাজে দেয়নি একটিতেও।

৬৫ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত এক গোল সেভ করেন গোলরক্ষক সোহেল। ফাসির আলীর বাঁকানো ফ্রি কিক ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। ফিরতি বলে শট নিয়েছিলেন মালদ্বীপের ইমাজ আহমেদ। তাও তালুবন্দী করেন সোহেল।

৭৩ মিনিটে বাংলাদেশ অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম দুই মালদ্বীপের ডিফেন্ডারের ভেতর দিয়েই পাস দিয়েছিলেন বক্সের ভেতর থাকা রনির উদ্দেশ্যে। পা ছোয়াতে পারলেই হতো। কিন্তু পারেননি শাখাওয়াত রনি। কর্ণারের বিনিময়ে বিপদ রক্ষা করে মালদ্বীপের রক্ষণভাগ।

৮৬ মিনিটে বাংলাদেশ শিবিরকে উল্লাসে মাতান হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। দূর থেকে তপুর রিবাউন্ড শটে মালদ্বীপে জাল কাপান হেমন্ত। ম্যাচে তখন পুরোদমে বাংলাদেশ। অন্তত ড্র হলেও সেমির স্বপ্ন বেচে থাকবে। কিন্তু না। ৯০ মিনিটে শেষ চমকটা দেখায় মালদ্বীপ। ডান প্রান্ত থেকে সতীর্থের ক্রসে হাসান নাইয়াজের ফ্লিক। ২-১ এ লিড নেয় মালদ্বীপ। শুধু তাই নয়, এরপর বাংলাদেশ আর ফিরতে পারেনি। উল্টো ৯৫ মিনিটে আরও একটি গোল হজম করে মামুনুল শিবির। মালদ্বীপের হয়ে তৃতীয় এই গোলটি করেন আহমেদ নাশিদ (৩-১)।

বাংলাদেশ সাফে এবার ‘বি’ গ্রুপে খেলছে। যেখানে তাদের সঙ্গী আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও ভুটান। আগামী ২৮ ডিসেম্বর শেষ ম্যাচে ভুটানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

Related posts