November 16, 2018

সাদুল্যাপুর-নলডাঙ্গা পাকা সড়কটি চলাচলে দুর্ভোগ জনসাধারনের নিত্য সঙ্গী

zakir p
তোফায়েল হোসেন জাকির গাইবান্ধা থেকেঃ দিন যায় মাস যায় বছর ঘুরে আসে। তবুও অবহেলিত বিশাল জনসাধারনের চলাচলের বেহাল দশায় পরিনত গাইবান্ধার সাদুল্যপুুর উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ নলডাঙ্গা- সাদুল্যপুুর পাকা সড়কটি দীর্ঘদিনেও মেরামত কিংবা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি বড় কর্তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির অভাবে সড়কটি এখন জনসাধারনের জন্য দূর্ঘটনার এক নিত্যদিনের সঙ্গী হলেও এ নিয়ে কারও কোন ভাবনা নেই। এমনকি এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন সময়ে দৈনিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় একাধিকবার খবর প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্টজনেরা এ ব্যাপারে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেননি বলে ভূক্তভোগিদের মধ্যে এমন অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে এ উপজেলার নলডাঙ্গা ও তার পাশর্^বতী অঞ্চলের মানুষজনের দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক পথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেক নজরের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কটির দীর্ঘদিন ধরে কোন রকম সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় নলডাঙ্গা হইতে কান্তনগর পর্যন্ত প্রায় ৫/৬ কিঃ মিঃ সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানা খন্দে ভরে গেছে। সড়কটি এখন বেহালদশা বিরাজ করায় সর্বসাধারনের চলাচলে অবর্ণণীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ॥
ভুক্তভোগিদের নিকট থেকে জানা গেছে এ উপজেলার নলডাঙ্গা সহ পাশর্^বর্তী অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্টি সড়ক পথে রাজধানী ঢাকা ,জেলা শহর গাইবান্ধা ও উপজেলা শহর সাদুল্যপুুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়া প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে হাজার হাজার পথচারী এবং কোমলমতি স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী চলাচল করে থাকে। বর্তমানে সড়কটির অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গতের্র সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এবারে আগাম বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় প্রায় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সৃষ্ট খাদে হাটু পানি জমে থাকে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত জলবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার পথচারী ও কোমলমতি স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী সহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল দুরূহ হয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সড়কটি দিয়ে এখন পাঁয়ে হেঁটে চলাচল করা অনেকটা দুস্কর হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কটির বেহাল দৃশ্য দেখলে মনে হবে এ যেন সড়ক নয় কোন একটি খাল। সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে হেঁটে চলাচল করতে গিয়ে অনেকে পথচারী ও শিক্ষার্থী খাদে পড়ে রক্তাত্ত জখম হয়েছেন। এ অবস্থায় সড়কটি এখন কারও জন্যই নিরাপদ নয় বলে স্থানীয়রা জানান। এর মধ্যেও জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে দিবারাত্রি বাস,কোচ, ট্রাক, মাইক্রেবাস,সিএনজি, অটোবাইক, ব্যাটারী চালিত ভ্যান,মোটর সাইকেল ও বাইসাইকেল সহ নানা ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করছে। কিন্ত ঝুঁকিপূর্ন জেনেও তবৃও মানুষজন প্রয়োজনের তাগিদে নিরূপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব যানবাহন যোগে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন। এসব যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে তীব্র ঝাঁকুনিতে নারী শিশু সহ অনেক যাত্রী সাধারন ছিটকে রাস্তার উপর পড়ে গিয়ে মারাতœক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এভাবে প্রতিনিয়তই সড়কটিতে ঘটছে ছোট খাট দূর্ঘটনা।

zakir pp
ভ্যান চালক মহির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ও আঃ রহমান জানান অনেক যাত্রী তার গন্তব্য স্থলে তাড়াতাড়ি পৌঁছতে আমাদেরকে দ্রুত গাড়ী চালাতে বলেন । এ অবস্থার মধ্যে জোরে ভ্যান চালালেই যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য জোরে শোরে গাড়ী চালানো সম্ভব হয় না। এ নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে তুমুল বাকবিতন্ডা হয় বলে তারা জানান। তারা আরও জানান সড়কটির এমন অবস্থাতে আমরা খুব ভয়ে ধীরে ধীরে সাবধানতার সাথে গাড়ী চালাই। নলডাঙ্গা থেকে ঢাকা গামী বাস কোচের চালক রওশন মিয়া, রফিক, জিন্নাহ ও আ: মান্নান বলেন কান্তনগর থেকে নলডাঙ্গা পৌঁছতে আগে ৮/১০ মিনিটের বেশী সময় লাগতো না। কিন্তু বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গাচূড়া হওয়ায় গাড়ী স্বাভাবিক গতিতে চালানো সম্ভব হয় না। ফলে ১০ মিনিটের রাস্তা এখন প্রায় আধা ঘন্টা সময় লাগছে বলে তারা জানান। সিএনজি চালক আ: সামাদ,শৈলান এবং অটোচালক নিয়াকত আলী ও মিজান জানান সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের কারণে অনেক কষ্ট করে গাড়ী চালাতে হচ্ছে। তারপরেও কোন সময় গাড়ী একটু গর্তে পড়লে ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা আমাদের উপর ভীষন ভাবে ক্ষেপে উঠেন। এছাড়া সড়কটির নাজুক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে মুমুর্ষ কোন রোগিকে এ্যাম্বুলেন্সে কিংবা অন্য কোন যানবাহন যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কোন হাসপাতালে নিতে গিয়ে অসহনীয় ঝাকুনিতে রোগির যেন আরও বারোটা বেজে যায় বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটির সৃষ্ট খাদে হাটু পানি জমে জলবদ্ধতায় সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও যেন দুরূহ হয়ে পড়ে।
এ নিয়ে পথচারীদের অভিযোগ সড়কটিতে সার্বক্ষনিক কাঁদাযুক্ত পানি জমে থাকে। কিন্ত এর মধ্যে দিয়ে বাস ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় গর্তে জমে থাকা কর্দামাক্ত পানি পথচারীদের গায়ে ছিটকে গিয়ে পড়ে। এ নিয়েও মাঝে মধ্যে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে পথচারীদের তুমুল বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা কখনও কখনও তা মারমুখী রূপ নেয়। এদিকে স্থানীয় একটি মহল আক্ষেপ করে বলেন, সড়কটির এমন দু:রবস্থার বিষয়টি এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জেনেও তারা অদ্যবধি এ ব্যাপারে কোন রকম কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়ায় আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। অনেকেই আবার এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন ।
এদিকে স্থানীয় একটি সুত্র জানায় সড়কটির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যাবতীয় কাজ দ্রুত শেষ হবে। আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই সড়কটির কাজ শুরু করা যাবে।

Related posts