November 17, 2018

সাদুল্যাপুরে ১৮ মাস ধরে ৩২ নকল নবিসের মানবেতর জীবন

2
তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ রিােপর্টার গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের কর্মরত ৩২ জন এক্সট্রারা মোহরার (নকল নবিস) দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে কোন পারিশ্রমিক/ভাতাদি না পাওয়া পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এছাড়া তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ না হওয়ায় চরম হতাশার গ্লানী নিয়ে দৈনদিন দলিলের কপির কাজ চালিয়ে আসছেন।
সাদুল্যাপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের কর্মরত নকল নবিস রমনী কান্ত ও আনজুয়ারা বেগম বলেন, আমরা দলিলের কপি করে যে পারিশ্রমিক পাই এই টাকা দিয়েই আমাদের পরিবার নির্ভশীল। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ মাস যাবৎ পারিশ্রমিক না পেয়ে অবশেষে দাদনের টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। এভাবে ঋণের ঘানি মাথায় নিয়ে নির্ঘুম রাত পোহাতে হচ্ছে।

4
সাদুল্যাপুর এক্সট্রারা মোহরার (নকলন নবিস) এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক অনন্ত কুমার জানান, সরকার দলিল গ্রহীতারা নকল প্রাপ্তীর জন্য ১৫৫ টাকা রাজাস্ব খাতে জমা দিয়ে থাকেন। এছাড়া এক্সট্রারা মহরার দিয়ে প্রতি পৃষ্ঠা নকল লেখার পেছনে সরকার পায় ১৬ টাকা। একজন নকল নবিসকে মাসে ৩শ পৃষ্ঠা লেখতে হয়। প্রতি পৃষ্ঠার জন্য সরকার দলিল মালিক থেকে ৪০ টাকা পায়। ওখান থেকে সরকার নকল নবিসদের পারিশ্রমিক হিসেবে ২৪ টাকা দেন। যার প্রতি পৃষ্ঠায় সরকারের আয় ১৬ টাকা। এতে করে নকল নবিসদের সম্পাদন করা দলিল থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজাস্ব আয় করে আসছেন। অথচ মাসের পর মাস, বছরের পর বছর নকল নবিসদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকছে।

1
অত্র এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসন্ন ঈদ-উল ফিতরে নকল নবিসরা বকেয়া পারিশ্রমিক/ভাতা না পেলে তাদের পরিবার-পরিজন ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট বকেয়া পরিশোধের দাবী জানান তিনি।
সংগঠনের সভাপতি রায়হানুল হক বলেন, ইতোপুর্বে নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ীকরণ ও বকেয়া পাওনার দাবীতে সাদুল্যাপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের নকল নবিসরা প্রায় এক মাস যাবৎ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সহ বিভিন্ন আন্দোলন করেছেন। ফলশ্রুতিতে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত কোন বাস্তবায়ন হয়নি। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি আবারও আনন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

3
সাদুল্যাপুর সাব-রেজিষ্ট্রার রুহুল কুদ্দুস জানান, নকল নবিসরা তাদের দাবী আদায়ের জন্য ইতোপূর্বে যেসব আন্দোলন করেছেন তা যুক্তিসঙ্গত। তাদের বকেয়া পারিশ্রমিকের অর্থ বরাদ্ধ বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের।

 

Related posts