September 23, 2018

সাদুল্যাপুরে বোরো ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগে দিশেহারা কৃষক

anwarul p
তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ রিপোর্টার : চলতি ইরি-বোরো মওসুমে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ে এবার বোরো ধান ক্ষেতে নেকব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকদের কাঙ্খিত ফলন অর্জনে না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে সংক্রমিত জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এক জায়গায় এ রোগ দেখা দিলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো জমিতে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এ উপজেলার দুই লাখেরও বেশি কৃষক।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে সাদুল্যাপুর উপজেলার বড় জামালপুর এলাকার বোরো চাষী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার ৫০ শতক জমিতে হঠাতই দেখি ধানের শিষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। পরে কৃষি বিভাগের লোক এসে ওষুধ লিখে দিলে সে মোতাবেক স্প্রে করি। কিন্তু পরের দিন এসে দেখি পুরো জমির ধানের শিষ সাদা হয়ে গেছে। একই কথা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রামের আরো বেশ কয়েকজন কৃষক। তাদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কোন পরামর্শেই কাজ হচ্ছে না। ক্ষেতের পর ক্ষেত সাদা হয়ে গেছে। এতে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক মহল।
কৃষক আজগর আলী বলেন, আমার কোন আবাদী জমি না থাকায় আমি ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছি। ৪০ মণ ধান ঘরে তোলার আশাবাদে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়ে ধান চাষাবাদ করি। এমতাবস্থায় ওই ক্ষেতে সাদা শিষ বের হয়েছে। বর্তমানে জমি থেকে ৫ মণ ধান অর্জন করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে বি-আর-২৮ জাতের ধানে এ রোগে আক্রান্ত বলে তিনি জানান।
সাদুল্যাপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের ও প্রভাত চন্দ্র জানান, আমরা কৃষকদের ট্রুপার, দিপা ও সালফাইটার দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আর যেসব জমি এখনো সংক্রামিত হয়নি, সেসব জমিতে প্রতিরোধক হিসেবে কাসোবিন, নাটিভো প্রভৃত স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করছি।
সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বোরো মওসুমে উপজেলায় ১১ ইউনিয়নে ১৪ হাজার, ৬শ ৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এবার ধানের ফলন ভালো হলেও হঠাৎ করেই নেকব্লাস্ট (ধানের গলা পচা রোগ) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ রোগ প্রতিরোধে কৃষকের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। আক্রান্ত জমিতে ট্রাইসাইক্লোজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক ও অনাক্রান্ত জমিতে প্রতিরোধক হিসেবে কারবেনডাজিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্প্রে করার পর এক-দুদিনের মধ্যেই রোগটি আশপাশের জমিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ক্ষেতের ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. ফজলু এলাহী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

Related posts