September 23, 2018

সাদুল্যাপুরে প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলায় দিশেহারা একটি পরিবার

qy
তোফাযেল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা ॥ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের একাধিক মিথ্যা মামলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে একটি অতিদরিদ্র পরিবার। এমনকি প্রতিপক্ষের অব্যহত প্রাণনাশের হুমকিতে ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে রানু মিয়ার পরিবারের। সম্প্রতি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে রানু মিয়াগংরা।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সাদুল্যাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবদাস গ্রামের মৃত রমজান আলী মন্ডলের ছেলে রানু মন্ডলগংরা বৈষ্ণবদাস মৌজাস্থ ৬৯৯নং খতিয়ানের তিনটি দাগের ১.৫৩ এর মধ্যে ১৪ শতক জমি পৈত্রিক ও ৫ শতক ক্রয় সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দখল ভোগ করে আসছিলেন। এদিকে রানু মন্ডল গংদের সঙ্গে ইর্শ্বানিত হয়ে একই গ্রামের মৃত আজিজার মন্ডলের ছেলে ও ভূমিদস্যু জামাত আলীগং ও মৃত পিয়ার মামুদের ছেলে সেকেন্দার আলী বাদশাগংরা তফশীল বর্ণিত জমি জোর পূর্বক জবর-দখল করে ঘর-বাড়ি নির্মানসহ চাষাবাদ করে আসছে।

এদিকে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য গত ২২ নভেম্বরে সেকেন্দার আলী বাদশা বাদী হয়ে রানু ও আইয়ুব আলীগংদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ভিত্তিহীন মামলা ঠুকে দিয়ে হয়রানী করে আসছে রানু পরিবারদেরকে।

এর পর গত ২৪ নভেম্বর তফশিল বর্ণিত জমিতে বাদশা ও জামাত আলী এবং তার ভারাটিয়া বাহিনী নিয়ে ওই জমিতে ঘর তোলেন । এ সময় রানু মন্ডল গংরা বাধা দিতে গিলে তাদেরকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত যখম করে। এতে রানু মন্ডলসহ তার পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। অথচ ৪ ডিসেম্বর আবারও একটি উল্টো মামলা করেন বাদশা মিয়া।

এ বিষয়ে গত ৫ ডিসেম্বর রানু মন্ডল বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে সাদুল্যাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রেকর্ডভূক্ত হলেও অদ্যবধিও চার্জসিট দেয়নি থানা পুলিশ। পুলিশ চার্জসিট দিতে নানা টালবাহনা করায় স্থানীদের মধ্যে নানা প্রশ্নবিদ্ধ দেখা দিয়েছে।

এর পর বাদশা মিয়াকে অপহরণ করছে মর্মে মিথ্যা মামলা করা চেষ্টা চালায় তার জাহিদুল ইসলাম। থানায় মিথ্যা অপহরণ মামলা করতে ব্যর্থ হয় তারা।

ধারাবাহীকতায় গত ৪ মে বাদশা মিয়া ডায়রিয়া জনিত কারণে মারা গেলে আইয়ুব আলীগংদের ঘায়েল করতে ২২ মে বাদশার ছেলে জাহিদুল বাদি হয়ে মামলা গাইবান্ধা আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ফরিদ মিয়া জানান, বাদশা মিয়া ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তার স্বজনেরা আমাকে খবর দিলে চিকিৎসা সেবা দেই। এর পর কোনো উন্নতি না হওয়ায় বাদশা মিয়াকে রংপুর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ প্রদান করা হয়। হাসপাতাল নেয়ার প্রস্তুতিকালেই বাদশা মিয়া মারা যায়।

এভাবে জাহিদুল গংরা আইয়ুব আলী গংদের ফাঁসানোর জন্য নানা চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর ফলে প্রাণ রক্ষার্থে পরিবার নিয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে রাতের আধারে বিভিন্ন ঝোঁপ-জঙ্গলে পালিয়ে রাত্রী যাপন করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি জাহিদুল গংদের অব্যহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে রানু মিয়ার পরিবার। যে কোনো মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে মর্মে আসঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে রানু মিয়ার বিবাদীগংরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, মামলাটি তদন্তের পর রেকর্ডভূক্ত করা হয়েছে। যা চার্জসিট দাখিল প্রকৃক্রিয়া চলছে।

Related posts