December 11, 2018

চাষ করেছে লেবু, সফল হয়েছে আবু

  zakir pic
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা :
আদর্শ কৃষক ও বৃক্ষ প্রেমি আলহাজ্ব খয়রুল বাসার ওরফে আবু মিয়া। বয়স ৬৬ এর কাছাকাছি। তিনি ৩ ছেলে ১ মেয়েসহ ৪ সন্তানের জনক। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলাধীন ফরিদপুর ইউনিয়নের ইসবপুর (মিয়াপাড়া) গ্রামের মরহুম আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। আবু মিয়া ছাত্র জীবন পাড়ি দিয়ে কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত হন। যুবক বয়স থেকেই বিভিন্ন ফলদ, সবজি ও ফসল উৎপাদন করায় তার নেশা বা পেশা।

এরই ধারাবাহীকতায় বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের পাশা-পাশি গত ২০১০ ইং সালে বসতবাড়ি সংলগ্ন পতিত ১ বিঘা জমিতে বাতাবী লেবু চাষ করেন আবু মিয়া। আর ওই জমিতে ৭০টি লেবু চারা রোপনের ১ বছর পর থেকে লেবু আসতে শুরু করে। দেশীয় জাতের লেবু হওয়ায় প্রায় বার মাসেই গাছে লেবু থাকে। প্রতি বছরে শ্রমিক ও সার-কিটনাশক বাবদ তার ব্যয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর এসব লেবু স্থানীয় হাট-বাজারে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করে আয় করেন আবু মিয়া। ফলশ্রুতিতে তিনি লেবু চাষ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন। আবু মিয়ার লেবুর চাষাবাদকে অনুকরণ করে সম্প্রতি ওই গ্রামের মনি মিয়া, কানু মিয়া সহ আরও অনেকে লেবু চাষে ঝুকে পড়েছেন।

তবে চাষিদের অভিযোগ, লেবু চাষের জন্য সরকারি সহায়তা কিংবা কৃষি বিভাগের কোন পরামর্শ পান না। এখানে ফালগুন ও চৈত্র মাসে লেবুর ফুল আসতে শুরু করে। আর ফলন দেয় জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র মাসজুড়ে। লেবু চাষে লাভজনক হওয়াতে দিন দিন বাড়ছে ওই এলাকায় লেবু চাষির সংখ্যা। লেবু চাষিরা বলেন-এখানে সরকার তথা কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগতভাবে প্রশিক্ষণসহ লেবু চাষে নিয়মিত সহযোগিতা করলে এখান থেকে নিমিষেই আয় হতো লক্ষ লক্ষ টাকা।

গ্রীষ্মের গরমে, রমজান মাসে, বিভিন্ন বিবাহ ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে লেবুর কদর বেশি হওয়ায় এ লেবু প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সারা বছরই এর চাহিদা থাকায় বর্তমান বাজারে লেবুর দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। প্রতি হালি (৪টি) লেবুর দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এখানকার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে। তিনি বলেন, এ কাজে সরকারি কিংবা বে-সরকারি সহযোগিতা পেলে একদিকে যেমন বেড়ে যাবে শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থান অন্যদিকে ফিরে আসবে ঘরে ঘরে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের পাইকারি লেবু আড়ৎ ব্যবসায়ী ইয়াছিন আলী জানান, আমার মত উপজেলায় আরও ৫-৭টি আড়ৎ রয়েছে। ওই এলাকার লেবু চাষিরা আমাদের আড়দে লেবু বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এখানে যে পরিমাণ লেবু উৎপাদন হয় তবে হিমাগার না থাকায় অনেক সময় পচন ধরে লেবু নষ্ট হয়ে যায়। এখানকার চাষিরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা হিমাগারে উৎপাদিত লেবু সংরক্ষণ করতে পারলে তা বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। সরকারিভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নিলে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে এখানকার লেবু ও ফলজ চাষিরা এমন প্রত্যাশা করছে এলাকার সুশীল সমাজ।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. ফজলে এলাহী বলেন, ওই এলাকায় লেবু চাষের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খতিয়ে দেখে চাষীদের লেবু চাষে সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হবে।

 

Related posts