September 24, 2018

সাদুল্যাপুরে খোলা মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন ॥ আশাতীত ফলনের সম্ভাবনা

zakir p
তোফায়েল হোসেন জাকির, নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শস্য শ্যামলা, সবুজ বাংলার কৃষি প্রধান দেশের গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার দিগন্ত জুড়ে খোলা মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। ধুধু চোখে নজর কাড়ছে ইরি ধানের ক্ষেত। কৃষকের কাঙ্খিত স্বপ্নের এ ক্ষেতে আশাতীত ফলন পেতে ইতোমধ্যে সার-কীটনাশক প্রয়োগসহ আগাছা পরিচর্যায় শেষ করেছেন।

বৈশাখের দক্ষিণা হাওয়ার শুরতেই ধানের গাছে গাছে এখন শিশির ভেজা বাতাসে সুবাস ছড়াচ্ছে চারিদিকে। মাঠের চারিদিকে সবুজের সমারোহ। গত বছরের চেয়ে এ বছর ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মাঠ জুড়ে।

ধাপেরহাট এলাকার ছত্রগাছা গ্রামের কৃষক আহাম্মদ আলী জানান, এবারে চারা রোপনের পরপরই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের শীষ ভাল হয়ে বেড় হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশানুরুপ ফলন ঘরে তোলা সম্ভব। এলাকায় দু সপ্তাহ পরেই ধান কাটা শুরু হবে বলে জানান তিনি।

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সাদুল্যাপুর উপ-সহাকরী কৃষি কর্মকর্তা প্রভাত চন্দ্র অধিকারী জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বোরো ফসলের সবুজ মাঠ এখন ক্রমেই সোনালী হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো স্থানে আগাম রোপিত বোরো ধান কাটাও শুরু হয়েছে। বোরো জমিতে এবার পোকার আক্রমণ তেমন ছিলোনা। সময়মতো সার, বীজ ও সেচকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন ফলেছে।

উপ-সহাকরী কৃষি কর্মকর্তা ত্বোহা খন্দকার জানান, কৃষকদের ক্ষেতে কঞ্চি পুতে দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে ওই সমস্ত কঞ্চিতে পাখি বসে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করতে পারে। সেই সাথে পরিচর্যা করে কম মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে অধিক ফলনের কলা-কৌশলও কৃষকদের শেখানো হয়েছে।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) জোবায়দুর রহমান জানান, চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের কাঙ্খিত ফসল অর্জনে প্রতিটি ব্লক পর্যায়ে গিয়ে ক্যাম্পেইনসহ নানা ধরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল অর্জন করতে পারে।

Related posts