November 16, 2018

সাদুল্যাপুরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক দ্রব্য ॥ নিরব প্রশাসন

yyyy
তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ রিপোর্টার ॥ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা শহর সহ ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও পানীয়। উপজেলার কিছু সংখ্যক তরুণ-যুবক ও বৃদ্ধ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পুরুষরা ঝুঁকছেন এসব ট্যাবলেট ও পানীয় সেবনের দিকে। আর এসব দ্রব্য সেবনে কু-প্রভাবে এ উপজেলা যৌনাচার, ব্যভিচার, ধর্ষণ, দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিকালে দেশীয় ও পার্শবর্তী দেশগুলো থেকে আশা বিভিন্ন অসাধু কোম্পানীর সরবারহকৃত এসব যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও পানীয়তে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন বা ভ্রাম্যমান আদালতের পক্ষ থেকে কোন প্রকার নজরদারি করা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে যৌন উত্তেজক এসব ট্যাবলেট-পানীয় পানের ফলে যৌন অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সাদুল্যাপুর উপজেলার শহর সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে এসব যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট-পানীয় বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকীর কোন পদক্ষেপ প্রহণ করতে দেখা যায় না। হাট-বাজারে গড়ে উঠা ওষুধ ফার্মাসি, কনফেকশনারী, গলামালের দোকান ও পানের দোকানেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানীর প্রস্তুতকৃত এসব পানীয় ট্যাবলেট।

নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন কোম্পানীর প্রস্ততকৃত ড্রিংস এর মধ্য উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে ডাবল হর্স, হর্স পাওয়ার, ম্যান পাওয়ার, পাওয়ার ম্যান, তৃপ্তি পাওয়ার, মাসরুম, পাগলু, নাইট পাওয়ার, জিনসিং পানীয় উল্লেখযোগ্য। সেক্সুয়াল ট্যাবলেট গুলোর মধ্যে হচ্ছে- নিশাত, ভায়াগ্রা, এনাগ্রা, পাওয়ার, সিনেগ্রা, ভিগার, কামশক্তি, টার্গেট ইত্যাদি।

এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত ডা. হারুন-অর রশিদ জানায়, নিয়মিত যৌন উত্তেজক দ্রব্য সেবন করলে যৌন শক্তি একেবারে হারিয়ে যায়। এমন কি মানব শরিরের গুরুত্বপূর্ণ কিডনি ড্যামেজ, যৌনশক্তি স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেলাসহ নানারকম ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসন বা ভ্রাম্যমান আদালতের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অতিসত্ত্বর এ সকল যৌন উত্তেজক ও মানব দেহের ক্ষতিকারক দ্রব্য বাজারজাত ও বেচা-কেনার বিষয়ে নজরদারী একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে এসব দ্রব্যাদি সেবনে বড়ধরনের বিপর্যয় ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার বেশ কিছু সুধীমহল জানায়, খাবার হোটেলসহ অন্যান্য পণ্যেগুলোতে প্রায় সময়ই ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা-জেল দন্ড দেয়া হয়। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতিকর এসব সেক্সুয়াল দ্রব্যাদি অবাধে বিক্রির বিষয়ে সাদুল্যাপর উপজেলা প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই কেন? তারা আরো জানান, বিগত সময়ের কর্মরত ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ওসি এ বিষয়ে কিছুটা তৎপর থাকলেও বর্তমান কর্মরত প্রশাসনগণ একদম নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে।

Related posts