November 14, 2018

সাগরে মাছের চেয়ে প্লাস্টিকই বেশি!

12
বিশ্ব প্লাস্টিকের বর্জ্যে ভরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে সাগরে মাছের চেয়ে প্লাস্টিক বেশি জমবে।

গতকাল মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেছে।

আজ বুধবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় এর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। এর উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় সরবরাহও বাড়ছে। গত ৫০ বছরে বিশ্বে এর ব্যবহার বেড়েছে ২০ গুণ। আর আগামী ২০ বছরে ব্যবহার দ্বিগুণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডব্লিউইএফ বলছে, বিশ্বের সবাই কোনো না কোনোভাবে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করছে। বিশেষ করে পণ্যের মোড়ক হিসেবে এর ব্যবহার বেড়েছে বেশি। কিন্তু মাত্র ১৪ শতাংশ প্লাস্টিক পণ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

প্লাস্টিকের তুলনায় অন্যান্য পদার্থের পণ্য বেশি করে পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। বিশ্বে শতকরা ৫৮ ভাগ কাগজ ও ৯০ ভাগ লোহা পুনর্ব্যবহারযোগ্য হয়।

পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। শতকরা এক ভাগের তিন ভাগ প্লাস্টিক যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো কিছু কিছু মাটির সঙ্গে মিশছে, আর বাকি অংশ স্তূপ হয়ে থাকছে।

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর একবার ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যাগ বা মোড়ক বর্জ্য হিসেবে জমা হচ্ছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় আট হাজার কোটি ডলার থেকে ১২ হাজার কোটি ডলার হারাচ্ছে।

বিশ্বের ১৮০ জন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার ও ২০০টি সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে ডব্লিউইএফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্লাস্টিকের উৎপাদন তিন গুণ বেড়ে বার্ষিক ১১২ কোটি ৪০ লাখ টন দাঁড়াবে। কিন্তু বিশ্বের কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য গঠিত তহবিলে সে তুলনায় সামান্য অর্থ জোগান আসবে প্লাস্টিকের অর্থনীতি থেকে। বর্তমানে কার্বন কমাতে এ খাত থেকে মাত্র ১ শতাংশ অর্থের জোগান মেলে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts