September 19, 2018

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ ও সংবাদ প্রচার করায় থানায় ডায়েরি

Azizমাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে ‘হোটেল থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে বেয়াই-বেয়াইন আটক’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিথ্যা সংবাদ প্রচার ও হুমকি দেয়ায় সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বুধবার রাতে সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার সঞ্জয় কর্মকার ওরফে অভিজিৎ মাদারীপুর সদর মডেল থানায় এই জিডি করেন। জিডিটি গুরুত্ব সহকারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিগগিরই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সাধারণ ডায়রির ও অভিযোগকারীর ভাষ্য মতে, গত ০৯-০৪-২০১৮ তারিখে মাদারীপুর শহরের একটি আবাসিক হোটেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করে। এ সংক্রান্ত প্রথমে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইনে এবং পরে রাত ৮টা ২৮ মিনিটে jagonews24.com এ সংবাদ প্রচার হয়। এরপর ওই নিউজটি দেখে সময় টিভি’র অনলাইন থেকে অভিজিতের কাছে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সময় টিভির অনলাইন থেকে প্রতিবেদনটি চাইলে প্রকৃত তথ্য-প্রমাণসহ নিউজটি পাঠানো হয়। এরপর রাত ৯টা ২০ মিনিটে সময় টিভির অনলাইন somoynews.tv তে প্রকাশ হয়।
অথচ, নিউজটি প্রকাশ হওয়ায় দুই দিন পরে ১১-০৪-২০১৮ তারিখ অভিজিতের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ওই হোটেল মালিক ও ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তার বক্তব্য দিয়ে অভিজিতের বিরুদ্ধে newsofbangladesh.net, tadantareportbd.com সহ কয়েকটি অনলাইনে মাদারীপুর প্রতিনিধি সাব্বির হোসাইন আজিজের করা একটি মিথ্যা ও মনগড়া প্রতিহিংসামূলক সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
ডায়েরিতে আরো উল্লেখ্য করা হয়, অভিজিতের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিষয়টি বিবৃতকর ও মানহানিমূলক। এছাড়া ওই হোটেল মালিক ও পুলিশ সদস্যের ঘনিষ্ট সাংবাদিকসহ প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তি প্রতিবেদন করার জন্য দেখে নেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি প্রদান করছে বলেও জিডিতে উল্লেখ্য করেন তিনি।
জানতে চাইলে সাংবাদিক সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ বলেন, আমাকে নিয়ে চাঁদার অভিযোগ এনে যে নিউজ করা হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। সংবাদের প্রচারের পরে এমন অভিযোগ আনা হাস্যকর। আমি চাঁদা চাইলে আমার বিরুদ্ধে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেননি কেন? নিউজ প্রচারের পরে এমন অভিযোগ সত্যিই ন্যাক্কারজনক। আমি সঠিক ঘটনা উল্লেখ্য করেই সাধারণ ডায়েরি করেছি। পুলিশ তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নিবো এটাই আমার প্রত্যাশা।
মাদারীপুর প্রেসক্লাবের আহবায়ক শাজাহান খান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। সবার জন্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে। তবে, এমন ঘটনা কাম্য নয়। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক অভিজিতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে যে নিউজ করা হয়েছে এরই প্রেক্ষিতেই থানায় জিডি করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর, হোটেল থেকে আসামাজিক কাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাই ওইদিন আটক দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া বিগত কয়েক বছরে সুমন হোটেল থেকে কতজনকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আটক করা হয়েছে, তা পুলিশের খাতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, যেহেতু সাংবাদিক অভিজিৎ আইনগত ব্যবস্থা চেয়েছেন, আমরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবো। আসামাজিক কাজে হোটেল মালিক কিংবা পুলিশের কোন কর্মকর্তা লিপ্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিবো।

Related posts