February 16, 2019

সহসাই খুলছে না ফেসবুক!

122সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহসাই খুলে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে ১৬ ডিসেম্বরের অগে খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকার আরও কিছুদিন সময় নিতে চাচ্ছে। এর মধ্যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসা বিভিন্ন দিকগুলো বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করবেন তারা।

তবে এ মাসের শেষ দিকে ফেসবুক খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। কারণ হিসেবে ওই সূত্র জানায়, এ সময়ের মধ্যে সরকার ফেসবুককে কেন্দ্র করে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও ধারণা পাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অবশ্য আজ ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। ফেসবুকের বিষয়ে সরকার দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

তবে কবে নাগাদ খুলতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেসবুক নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেসব সমস্যায় পড়েন তা বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। ফেসবুক প্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন। এর ফলে ফেসবুক নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের আপাতত কোনো সমাধান হচ্ছে না। আরো কিছুদিন গুরুত্বপূর্ণ এ যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরেই থাকতে হবে তাদের। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ফেসবুকের মাধ্যমে নারীর প্রতি হয়রানি, ধর্মীয় উসকানি, রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো বিষয়গুলো ঠেকাতে বিশদ আলোচনার অংশ হিসেবে ফেসবুকের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে আজ এ বৈঠক হয়।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে সরকারের পক্ষে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ফেইসবুকের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে ছিলেন কোম্পানির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ল’ এনফোর্সমেন্ট স্পেশালিস্ট বিক্রম লাংয়ে এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার দিপালী লিবারহান। বৈঠকে পুলিশ মহাপরিদর্শক শহিদুল হক, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারিসহ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিটিআরসি) কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।

নারীর প্রতি হয়রানি, ধর্মীয় উসকানি, রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো বিষয়গুলো ঠেকাতে ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তি করার লক্ষ্যে বিশদ আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে গত ৩০ নভেম্বর ফেসবুকের এশিয়া-প্যাসিফিক কার্যালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে চিঠি পাঠানো হয়। এতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকের নানা ধরনের অপব্যবহারসহ নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরদিনই সাড়া দেয় ফেসবুক।

গত ১৮ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে ফেইসবুকসহ কয়েকটি অ্যাপ বন্ধ রয়েছে, যদিও বিকল্প পথে অনেকেই এসব ব্যবহার করছেন। দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের আগের দিন থেকে জননিরাপত্তার কথা বলে ফেসবুক বন্ধ করে দেয় সরকার। এর পর বিভিন্ন যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফেসবুক খুলে দিতে সরকারের নিকট অনুরোধ জানান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু কবে নাগাদ খুলে দেওয়া হবে, তা আজ পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি সরকার। ফলে ফেসবুক খুলে দেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিতই রইলো।

Related posts