November 18, 2018

সশস্ত্র বাহিনী প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে চান এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কে সরকার উৎখাতে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর সশস্ত্র বাহিনী এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পুরো কর্তৃত্ব চাইছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন করে প্রস্তাবিত সংবিধানে দেশটিতে শক্তিশালী নির্বাহী প্রেসিডেন্সি প্রবর্তনের যে কথা এতোদিন এরদোয়ান বলে আসছিলেন এ বক্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় এ দুই প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সভাপতিত্বে সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের বৈঠকের কিছুক্ষণ পর এ মন্তব্য করেন এরদোয়ান। ওই বৈঠকে সশ্রস্ত্র বাহিনীর পদস্থ কর্মর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১৭’শ সেনা সদস্যকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে সুপ্রিম কাউন্সিল। বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হুলুশি আকরকে রেখে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনের প্রধানদেরও নিজ নিজ পদে বহাল রাখার যে প্রস্তাব করা হয় তা অনুমোদন করেন প্রেসিডেন্ট এরেদোয়ান। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সশস্ত্র বাহিনীর কিছু পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অভ্যুত্থানে ওই রাতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ন্যাটো সামরিক জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সেনাবাহিনিতে নতুন রক্ত সঞ্চালন দরকার। অভ্যুথ্বানে জড়ত থাকার অভিযোগে সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত সদস্যদের প্রায় ৪০ শতাংশ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেও জানান এরদোয়ান।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেচ্ছানির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনকে অভিযুক্ত করে আসছে তুরস্ক সরকার। এরদোয়ানের একসময়ের ঘনিষ্ট রাজনৈতিক এ সহকর্মীর অসংখ্য সমর্থকদেরও সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এসব সমর্থকদের অনেকে বিচারক, শিক্ষক ও সেনা কর্মকর্তা, যাদের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে সংবাদ মাধ্যম ও শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিতে সংবিধান সংশোধন লাগবে, যে জন্য সংসদে বিরোধী দলের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

Related posts