September 24, 2018

সরকার ফের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায় : ফারুক

tসরকার আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো সংসদ নির্বাচন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো একাদশ সংসদ নির্বাচন করতেই সরকার দলীয় আনুগতের সাবেক আমলা কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিয়েছে।

তিনি বলেন, বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনাররা শপথ নেবেন। কে এম নুরুল হুদা সাহেব একজন খাঁটি আওয়ামী লীগার, জনতার মঞ্চের খাঁটি লোক। তিনি বরিশাল ও ভোলার তখনকার নির্বাচন পরিচালনাকারীর অন্যতম সদস্য ছিলেন। কি কারণে তাকে সিইসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট। আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেক নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবার জন্যেই আপনাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দুই বছর বাকি আছে আপনাদের ভাষায়। এই দুই বছরই আপনাকে কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে, সরকার সে বিষয়ে ট্রেনিং দেয়া শুরু করবেন। সেই কারণেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি বেছে বেছে আওয়ামী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের উদ্যোগে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এই মানববন্ধন হয়।
সরকারের উদ্দেশ্যে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দেশনেত্রী গতবছর নভেম্বর মাসে দেশবাসীর কাছে জানিয়ে দিয়েছেন, একটি নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকার প্রয়োজন। সেই সহায়ক সরকার যদি সঠিকভাবে আপনি মেনে নেন তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি বিশ্বাস করবো, আপনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক, আপনি গণতন্ত্রের পক্ষের লোক।
আপনার সকল কার্যক্রম আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, তার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না, হবেও না। তাই যে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দেশনেত্রী করেছেন, সেই বিষয়ে আলোচনার দ্বার উন্মোচন করুন।
তিনি বলেন, অনুগ্রহ করে খালি মাঠে গোল দেয়া চেষ্টা করবেন না। গোল আপনার কোটে। আপনি কী প্রতিপক্ষ চান খেলতে? তাহলে অনুগ্রহ করে খেলার প্রতিপক্ষ চান, যদি খেলতে চান, যদি বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চান, তাহলে আমাদেরকে নির্বাচনে আসার সুযোগটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করে দেন।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিএনপি ২০১৪ সালের মতো এই প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারে না। একটি নির্বাচন গ্রহনযোগ্য করার জন্য, সকল দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিন। তাহলেই সকল দলের অংশগ্রহনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে।
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সরকারের এতো উন্নয়ন, তাদের এতো বড় বড় কথা, শিক্ষা মন্ত্রীর এতো বড় বড় কথা। আপনারা দেখেছেন, এসএসসি পরীক্ষার গণিত প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, শুধু গণিত পরীক্ষা বাতিল করে কী এর প্রতিকার পাওয়া যাবে?
তৃণমূল দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী সদস্য রফিক শিকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের লিটন মাহমুদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, কল্যাণ পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Related posts