November 17, 2018

সমালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী ‘মুসলিমবিদ্বেষী’ট্রাম্প ।

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ও মসজিদ বন্ধের দাবি জানিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন রাষ্ট্র তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
সাউথ ক্যারোলিনায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মুসলিমদের মনোভাব সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের (মুসলিম) জন্য সীমান্ত বন্ধ রাখা উচিত।’

একই র‌্যালিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সব মসজিদ বন্ধ রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
তার এ বক্তব্যের পর পরই মার্কিন মুসলিম, রাজনীতিকসহ সবাই এর সমালোচনা করেন। সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।
ট্রাম্পের এ ‘মুসলিমবিদ্বেষী’ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এশিয়ান মুসলিমরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে আসন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থন না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। একই আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত মুসলিমরা।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইটারে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন ট্রাম্প। তাকে নিয়ে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন মার্কিনীরা।
এতকিছুর পরও অবশ্য নিজ অবস্থান থেকে পিছু হটেননি ট্রাম্প। উল্টো নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের উদাহরণ টেনে এনেছেন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হার্বারের সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায় জাপানী বাহিনী। এ ঘটনায় ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশী জাপানীকে বন্দী করে রেখেছিল রুজভেল্ট সরকার।
ট্রাম্পের দাবি, তার প্রস্তাব রুজভেল্টের ওই কর্মকাণ্ডেরই অনুরূপ।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিম দম্পতির গুলিতে ১৪ মার্কিনী নিহত হওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প মুসলিমদের প্রবেশ নিষেদ্ধের এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ‘কখনই কোনো মুসলিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ও ইসলামী মূল্যবোধ পরস্পর সাংঘর্ষিক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

Related posts