November 16, 2018

‘সমাধান ছাড়া ক্লাসে ফেরার উপায় নাই’

984

ঢাকাঃ  শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিতে ‘খারাপ’ লাগার কথা বললেও বেতন কাঠামোয় ‘অসঙ্গতি’ নিরসন না হলে ক্লাসে ফেরার উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক সমিতি নেতা অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বিষয়ে ‘আন্তরিক’ থাকায় শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গ্রেড অবনমন এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। তাদের এ কর্মসূচিতে সারা দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

দুপুরে কর্মবিরতি চলকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কর্মবিরতি চলছে, এই ব্যাপারটি নিয়ে আমরা বেশি চিন্তিত। ছেলে- মেয়েরা ক্লাসরুমের বাইরে থাকবে- এটা আমাদের চিন্তারও বাইরে।

“আমরা ক্লাসরুমে ফিরে গিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে চাই, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলে। এজন্য সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।”

তবে বেতন কাঠামো নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনের সমালোচনা করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সাত বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বেতন ১২৩ শতাংশ বাড়ানোর পরেও এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

বেতন ‘বেশি বাড়ানোয়’ এখন ‘মর্যাদা’ নিয়ে টানাটানি হচ্ছে বলেও মন্তব্য এসেছে সরকার প্রধানের কাছ থেকে।

এরপরেও সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থাশীল সরকার সমর্থক নীল দল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন।

“হয়তো কোনো কারণে তিনি মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন। তারপরও তিনি এই ব্যাপারে আন্তরিক। উনি ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক। ছেলে-মেয়েদেরে পড়াশুনা ব্যাহত হোক উনিও চান না, আমরাও চাই না। অতএব এর একটা সমাধান হতে হবে।”

বেতন কাঠামোয় শিক্ষকদের ‘বৈষম্যের’ শিকার হওয়ার জন্য আমলাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলা ফরিদ উদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চাইলে কি সব সম্ভব? সম্ভব হয় না, অনেক সময় হয়ে যায়। সরকারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের লোকজন থাকে। প্রধানমন্ত্রীতো একাই সরকার চালাছেন না, তাই এসব ক্ষেত্রে অনেক ভুল বোঝাবুঝি হয়।

“তারপরেও এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে এবং আমাদের পক্ষ থেকে কিন্তু সবাই আন্তরিক। সেজন্য আমরা অনেক বেশি আশাবাদী যে অল্প সময়ের মধ্যে সমাধানে পৌঁছাতে পারব।”

শিক্ষকদের জন্য ‘সম্মানজনক’ সুরাহা আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই ব্যাপারে আমাদের নানামুখী তৎপরতা চলছে। বলতে পারি যে, অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব। ছেলে-মেয়েরা যাতে পুড়াশুনা পুরোদমে শুরু করতে পারে, সেজন্য ক্লাসরুমে ফিরে যাব।

“অল্প সময়ের মধ্যে একটা সম্মানজনক সমাধান হয়ে যাবে। সম্মানজনক সমাধান ছাড়া ক্লাসে ফেরত যাওয়ার উপায় নেই।”

কর্মবিরতির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন বিভাগের চূড়ান্ত (সেমিস্টার-বর্ষ ফাইনাল) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা দুই-ই বন্ধ রেখেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

দুপুরে ক্যাম্পাসে এক অবস্থান কর্মসূচি শিগগিরই সমস্যার সমাধানের আশা প্রকাশ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কাজী সাইফুদ্দিন।

তিনি বলেন, “আজ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানোর কথা। আশা করছি, দ্রুতই আমরা একটি সম্মানজনক সমাধান পাব। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এর আগে ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ থাকবে।”

সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা কারও কথাতেই আস্থা রাখছি না। কারণ অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয়রা আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেননি।

“তাই আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত কোনো আশ্বাসেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।”

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts